Ekadashi: হিন্দু ধর্মের ক্যালেন্ডারে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, ৩০ না ৩১ ডিসেম্বর, কবে পৌষ পুত্রদা একাদশী?

Pausha Putrada Ekadashi 2025: পৌষ পুত্রদা একাদশী ২০২৫ কবে পড়েছে? ৩০ না ৩১ ডিসেম্বর, কবে উপবাস করবেন? পারণের সঠিক সময় ও এই একাদশীর ধর্মীয় গুরুত্ব জানুন বিস্তারিত।

Pausha Putrada Ekadashi 2025: পৌষ পুত্রদা একাদশী ২০২৫ কবে পড়েছে? ৩০ না ৩১ ডিসেম্বর, কবে উপবাস করবেন? পারণের সঠিক সময় ও এই একাদশীর ধর্মীয় গুরুত্ব জানুন বিস্তারিত।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Pausha Putrada Ekadashi 2025: পৌষ পুত্রদা একাদশী।

Pausha Putrada Ekadashi 2025: পৌষ পুত্রদা একাদশী।

Pausha Putrada Ekadashi 2025: হিন্দু ধর্মে একাদশী তিথির বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। প্রতিমাসে শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষে একটি করে একাদশী পড়ে এবং প্রতিটি একাদশীর নিজস্ব ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব রয়েছে। পৌষ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীকে বলা হয় পৌষ পুত্রদা একাদশী। শাস্ত্র অনুসারে, এই একাদশী পালন করলে সন্তানের সুখ, সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু লাভ হয়। বিশেষ করে যেসব দম্পতির সন্তান নেই বা সন্তানের জন্য নানা দুশ্চিন্তা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই ব্রত অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে মনে করা হয়।

Advertisment

২০২৫ সালে পৌষ পুত্রদা একাদশীর তারিখ নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এর কারণ হল, একাদশী তিথি দু'দিন পড়েছে। দৃক পঞ্চাঙ্গ অনুসারে, পৌষ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথি শুরু হচ্ছে ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে এবং এই তিথি শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর ভোর ৫টায়। এই অবস্থায় শাস্ত্র অনুযায়ী উভয় দিনেই একাদশী তিথির প্রভাব থাকছে।

আরও পড়ুন- বার্ষিক প্রতিকার, কোন রাশির কী সমাধান জানিয়েছে লাল কিতাব?

ঐতিহ্যগত নিয়ম অনুসারে, গৃহস্থ পরিবার সাধারণত যেদিন সূর্যোদয়ের পর একাদশী তিথি থাকে, সেদিন উপবাস পালন করেন। সেই অনুযায়ী গৃহস্থদের জন্য পৌষ পুত্রদা একাদশীর উপবাস ৩০ ডিসেম্বর পালন করা শ্রেয় বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের নিয়ম কিছুটা আলাদা। তাঁরা একাদশী তিথির পূর্ণতা বিচার করে পরদিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর পৌষ পুত্রদা একাদশীর উপবাস পালন করবেন।

আরও পড়ুন- বৃদ্ধি পাবে কর্মক্ষমতা, কমবে অস্থিরতা! ২০২৬ হবে স্বপ্নের মতো সুন্দর, পালন করুন এই সহজ ৬ টোটকা!

যাঁরা ৩০ ডিসেম্বর উপবাস করবেন, তাঁদের জন্য পারণের সময় নির্ধারিত হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর দুপুর ১টা ২৬ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত। আবার যাঁরা ৩১ ডিসেম্বর একাদশীর উপবাস পালন করবেন, তাঁরা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি সকাল ৭টা ১৪ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ১৮ মিনিটের মধ্যে পারণ করতে পারবেন। একাদশী ব্রতে পারণের সময় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ ভুল সময়ে পারণ করলে ব্রতের পূর্ণ ফল লাভ হয় না বলেই শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।

আরও পড়ুন- শীতকালে সুজি বা বেসন ছাড়াই তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর খেজুরের হালুয়া

পৌষ পুত্রদা একাদশীর গুরুত্ব সম্পর্কে শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে এই একাদশীর মাহাত্ম্য স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বর্ণনা করেছেন। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে ভক্তিভরে উপবাস ও বিষ্ণুপূজা করলে সমস্ত পাপ নাশ হয় এবং জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। বিশেষ করে সন্তানের কল্যাণ কামনায় এই একাদশীর গুরুত্ব অপরিসীম। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই ব্রত পালনের ফলে নিঃসন্তান দম্পতির জীবনে সন্তান লাভের সৌভাগ্য আসে।

আরও পড়ুন- রাসায়নিকযুক্ত পেঁপে কীভাবে চিনবেন? এই ৩ সহজ উপায় জানলে ঠকবেন না

পৌষ পুত্রদা একাদশীর দিনে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করা অত্যন্ত শুভ। সকালে স্নান করে পরিষ্কার মনে বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ করলে বিশেষ ফল পাওয়া যায় বলে ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে। যেহেতু এই একাদশী নতুন বছরের ঠিক আগে বা নতুন বছরের শুরুতে পড়ছে, তাই এই দিনে করা পূজা ও দান আগামী বছরের জন্য শুভ শক্তি সঞ্চার করে।

এই দিনে দানেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হলুদ রঙের বস্তু যেমন ছোলার ডাল, হলুদ, কলা বা হলুদ কাপড় দান করলে বৃহস্পতির কৃপা লাভ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। সন্ধ্যাবেলায় তুলসী গাছের সামনে ঘি দিয়ে প্রদীপ জ্বালালে সংসারে শান্তি ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।

আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ভক্তির প্রতীক

পৌষ পুত্রদা একাদশী শুধুমাত্র একটি উপবাসের দিন নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ভক্তির প্রতীক। নিয়ম মেনে এই ব্রত পালন করলে মানসিক শান্তি লাভ হয় এবং জীবনের নানা বাধা দূর হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। তাই ৩০ বা ৩১ ডিসেম্বর, যে দিনই আপনি এই একাদশী পালন করুন না কেন, ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করাই এর মূল তাৎপর্য।

2025 Pausha Putrada Ekadashi