/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/13/saraswati-puja-2025-2026-01-13-18-07-53.jpg)
Saraswati Puja 2025: সরস্বতী পুজো ২০২৫।
Saraswati Puja 2025: সরস্বতী পুজো মানেই বাঙালির জীবনে আবেগ, বিশ্বাস আর সংস্কৃতির এক অনন্য মিলন। মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমীতে বাগদেবী সরস্বতীর আরাধনায় মেতে ওঠে স্কুল, কলেজ, পাড়া ও ঘরবাড়ি। এই বছর সরস্বতী পূজা ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে। এই পুজোকে ঘিরে যেমন রয়েছে হলুদ শাড়ি, খাতা-কলম, তেমনই রয়েছে বহু লোকাচার এবং বিশ্বাস। তারই মধ্যে অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন হল— সরস্বতী পুজোর আগে কুল খাওয়া কি সত্যিই নিষিদ্ধ, নাকি এটি শুধুই লোকবিশ্বাস?
বাগদেবীর পুজোয় কুলকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৈবেদ্য হিসেবে ধরা হয়। বহু পরিবারে বিশ্বাস করা হয়, সরস্বতী পুজোর আগে কুল খেলে দেবী রুষ্ট হন। তাই ছোটবেলা থেকে অনেকেই পুজোর আগে পর্যন্ত কুল মুখে তোলেন না। কিন্তু এই বিশ্বাসের উৎস কোথায়? এর পিছনে কি শুধুই ধর্মীয় ব্যাখ্যা রয়েছে, নাকি যুক্ত রয়েছে স্বাস্থ্যগত কারণও?
আরও পড়ুন- মকর সংক্রান্তিতে এই ৩ দেবতাকে খিচুড়ি নিবেদন করলে উজ্জ্বল হতে পারে আপনার ভাগ্য!
পুরাণ মতে, এই বিশ্বাসের শিকড় গাঁথা রয়েছে মহামুনি ব্যাসদেবের কাহিনিতে। কথিত আছে, ব্রহ্মসূত্র রচনার আগে ব্যাসদেব মা সরস্বতীর কৃপা লাভের জন্য কঠোর তপস্যায় বসেছিলেন। তপস্যা শুরুর আগেই দেবী সরস্বতী তাঁকে দর্শন দেন এবং হাতে তুলে দেন একটি কুলের বীজ। দেবী শর্ত দেন, এই বীজ রোপণ করে যতদিন না তা গাছে পরিণত হয়ে ফল ধরে এবং সেই পাকা কুল ব্যাসদেবের মাথায় পতিত হয়, ততদিন তাঁকে তপস্যা চালিয়ে যেতে হবে।
আরও পড়ুন- মকর সংক্রান্তিতে এই হৃদয়ছোঁয়া বার্তা দিন, মন জয় করুন ঘনিষ্ঠদের
দীর্ঘ সময় অধ্যাবসায়, ধৈর্য ও শ্রমের পর অবশেষে সেই কুল ঝরে পড়ে ব্যাসদেবের মাথায়। সেই দিনটি ছিল মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী। দেবী তুষ্ট হন এবং ব্যাসদেব ব্রহ্মসূত্র রচনা শুরু করেন। সেই থেকেই বসন্ত পঞ্চমী বা সরস্বতী পুজোর সূচনা বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন- কাজের চাপে মেজাজ গরম? মা-স্ত্রীর বকবকে অশান্ত সংসার! এই টিপসে ছন্নছাড়া জীবন ফেরান ছন্দে!
এই কাহিনির মধ্য দিয়ে মা সরস্বতী আসলে ধৈর্য, সাধনা ও অধ্যবসায়ের শিক্ষা দিয়েছিলেন। কুল এখানে শুধুমাত্র একটি ফল নয়, বরং প্রতীক্ষা ও পরিশ্রমের প্রতীক। সেই কারণেই বহু মানুষ আজও বিশ্বাস করেন, পুজোর আগে কুল না খাওয়াই শ্রেয়, কারণ তা দেবীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত।
আরও পড়ুন- গল্প করবে, বিশেষ সময় কাটাবে, কিন্তু প্রেমের তকমা দেবে না এই ৫ রাশি
তবে শুধু ধর্মীয় ব্যাখ্যাই নয়, এই রীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি বাস্তব এবং স্বাস্থ্যগত কারণও। মাঘ মাসের শুরুতে বাজারে যে কুল পাওয়া যায়, তার অধিকাংশই কাঁচা বা কশযুক্ত থাকে। এই ধরনের কুল খেলে হজমের সমস্যা, গলা খুসখুস বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে। আয়ুর্বেদ মতে, শীতের শেষে কাঁচা কুল শরীরের জন্য উপযোগী নয়। শাস্ত্রেও বলা হয়েছে— 'বার্তাকু কার্তিকে বর্জ্যং মূলং বা বদরং মাঘে', অর্থাৎ মাঘ মাসে মূলা ও বদরি ফল বা কুল পরিহার করাই উত্তম।
তবে শাস্ত্রীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলা প্রয়োজন। কোথাও স্পষ্টভাবে লেখা নেই যে সরস্বতী পুজোর আগে কুল খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশেষ করে দ্বিজাতি বা দ্বিজ ব্যতীত অন্যদের জন্য এমন বাধ্যবাধকতার উল্লেখও নেই। অনেক ক্ষেত্রেই এটি লোকাচার হিসেবে সমাজে প্রচলিত হয়েছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তা অনুসৃত হয়ে আসছে।
শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা
আসলে সরস্বতী পুজো শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা, সংযম ও শুদ্ধতার প্রতীক। পুজোর আগে কুল না খাওয়ার রীতি সেই সংযমেরই একটি প্রকাশ। পুজোর দিন দেবীকে কুল নিবেদন করার পর তা প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে সেই নিয়মেরই পূর্ণতা প্রাপ্তি হয়। সরস্বতী পূজা (Saraswati Puja 2025) উপলক্ষে তাই বলা যায়, কুল খাওয়া নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটি দেবীর রাগের বিষয় নয়, বরং একটি প্রতীকী ও স্বাস্থ্যসম্মত লোকাচার। কেউ বিশ্বাস থেকে মেনে চললে তা সম্মানযোগ্য, আবার কেউ না মানলেও তা পাপ নয়। মূল কথা হল পুজোর অন্তর্নিহিত ভাবনা হল— জ্ঞান, ধৈর্য এবং শুদ্ধতার সাধনা।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us