/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/13/saraswati-puja-2026-2026-01-13-18-55-56.jpg)
Saraswati Puja 2026: সরস্বতী পুজোর নির্ঘণ্ট জেনে নিন।
Saraswati Puja 2026: সরস্বতী পুজো ২০২৬, প্রতিটি বাঙালির ঘরে এক বিশেষ তাৎপর্য নিয়ে আসে। লক্ষ্মী পুজোর মতোই এই পুজো প্রায় প্রতিটি বাঙালি হিন্দু পরিবারে পালিত হয়। দেবী সরস্বতী বিদ্যা, বুদ্ধি, সংগীত ও শিল্পকলার অধিষ্ঠাত্রী দেবী বলে বিশ্বাস করা হয়। সেই কারণে শিক্ষার্থীদের কাছে সরস্বতী পুজো (Saraswati Puja 2026) শুধুই একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য আশীর্বাদ প্রার্থনার দিন। সকাল থেকে উপোস রেখে অঞ্জলি দেওয়া, খাতা-কলম পুজো করা এবং দেবীর কাছে জ্ঞান লাভের প্রার্থনা করাই এই দিনের মূল রীতি।
পঞ্জিকা অনুযায়ী
পঞ্জিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালে সরস্বতী পুজো পড়েছে ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে দিনটি ৯ মাঘ। বেণীমাধব শীলের গার্হস্থ্য পঞ্জিকা ও দৃকসিদ্ধান্ত পঞ্জিকা—দুই মতেই উদয়া তিথি অনুসারে ২৩ জানুয়ারিতেই বসন্ত পঞ্চমী পালনের নির্দেশ রয়েছে। পঞ্চমী তিথি শুরু হচ্ছে ২২ জানুয়ারি রাত ১টা ৩৯ মিনিটে এবং শেষ হচ্ছে ২৩ জানুয়ারি রাত ১২টা ২৯ মিনিটে। ফলে দিনের প্রথম ভাগেই সরস্বতী পুজো ও অঞ্জলি দেওয়াই সবচেয়ে শুভ বলে ধরা হচ্ছে।
আরও পড়ুন- সরস্বতী পুজোর আগে কুল খেলে কি রেগে যান বাগদেবী? জানুন বিশ্বাস, পুরাণ ও স্বাস্থ্যগত আসল সত্য
শ্রী পঞ্চমীর সকালে সাধারণত সরস্বতী পুজো সম্পন্ন হয়। বিশ্বাস করা হয়, সূর্যোদয়ের পর থেকে দুপুরের আগের সময়টি সরস্বতী পুজোর অঞ্জলির সময় (Saraswati Puja anjali time) হিসেবে সবচেয়ে ফলদায়ক। এই সময় দেবী সরস্বতীর কাছে বিদ্যা ও বুদ্ধির প্রার্থনা করলে শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। স্কুল, কলেজ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকালবেলাতেই পুজো এবং অঞ্জলি দেওয়ার রীতি বহুদিনের।
আরও পড়ুন- মকর সংক্রান্তিতে এই ৩ দেবতাকে খিচুড়ি নিবেদন করলে উজ্জ্বল হতে পারে আপনার ভাগ্য!
বসন্ত পঞ্চমীর সঙ্গে সরস্বতী পুজোর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এই দিন থেকেই ঋতুরাজ বসন্তের আগমন ঘটে বলে মনে করা হয়। প্রকৃতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়, গাছপালায় নতুন পাতা আসে এবং চারপাশে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সেই কারণেই দেবীর পুজোয় হলুদ রঙের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হলুদ শাড়ি, বাসন্তী ফুল, গাঁদা ও পলাশ ফুল দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হয়, যা বসন্তের আগমনের প্রতীক।
আরও পড়ুন- মকর সংক্রান্তিতে এই হৃদয়ছোঁয়া বার্তা দিন, মন জয় করুন ঘনিষ্ঠদের
এই দিনে দেবী সরস্বতীর পাশাপাশি গণেশ, লক্ষ্মী, নবগ্রহ, বই, খাতা, কলম এবং বাদ্যযন্ত্র পুজো করারও রীতি রয়েছে। অনেক পরিবারে সরস্বতী পুজো (Saraswati Puja 2026)-এর দিন শিশুদের হাতেখড়ি দেওয়া হয়। দেবীর সামনে বসিয়ে প্রথমবার অক্ষর লেখা শেখানো হয়, যা শিশুর শিক্ষাজীবনের শুভ সূচনা হিসেবে ধরা হয়।
আরও পড়ুন- কাজের চাপে মেজাজ গরম? মা-স্ত্রীর বকবকে অশান্ত সংসার! এই টিপসে ছন্নছাড়া জীবন ফেরান ছন্দে!
লোকাচার অনুযায়ী সরস্বতী পুজোর আগে কুল খাওয়া নিষিদ্ধ বলে অনেকেই বিশ্বাস করেন। পুজোর দিন দেবীকে কুল নিবেদন করার পরেই কুল খাওয়ার রীতি প্রচলিত। এর পেছনে ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত যুক্তিও রয়েছে। মাঘ মাসের শুরুতে কুল অনেক সময় কাঁচা বা কশযুক্ত থাকে, যা খেলে ঠান্ডা লাগা বা শারীরিক সমস্যা হতে পারে বলে মনে করা হয়।
২০২৬ সালের সরস্বতী পুজো আরও একটি কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনেই পড়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন। ফলে রাজ্যজুড়ে এই দিনে বিশেষ অনুষ্ঠান ও শ্রদ্ধার্ঘ্যের আয়োজন থাকবে, যা উৎসবের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেবে। সব মিলিয়ে এবারের সরস্বতী পুজো বাঙালির কাছে শুধুই একটি পুজো নয়, এটি শিক্ষা, সংস্কৃতি আর আবেগের এক অনন্য মিলন। সঠিক তিথিতে, শুভ সময়ে অঞ্জলি দিয়ে দেবীর আশীর্বাদ গ্রহণ করাই এখন পড়ুয়াদের অন্যতম লক্ষ্য।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us