/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/22/saraswati-puja-tradition-2026-01-22-17-33-53.jpg)
Saraswati Puja Tradition: কেন খাগের কলম সরস্বতী পুজোয় কাজে লাগে?
Saraswati Puja Tradition: বসন্ত পঞ্চমী এলেই বাঙালি জীবনে বিদ্যার উৎসবের আবহ তৈরি হয়। হলুদ রঙে সেজে ওঠে প্রকৃতি, ঘরে ঘরে হয় দেবী সরস্বতীর আরাধনা। বই, খাতা, বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে পুজোর আসনে যে জিনিসটি বিশেষভাবে নজরে পড়ে, তা হল খাগের কলম। আধুনিক কলম, পেনসিল থাকা সত্ত্বেও আজও বহু বাড়িতে সরস্বতী পুজোয় খাগের কলম ব্যবহার করা হয়। এই প্রথার পেছনে রয়েছে গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং প্রতীকী অর্থ।
প্রাচীন ভারতে লেখালেখির জন্য কাগজ ও আধুনিক কলমের প্রচলন ছিল না। তখন তালপাতা, ভোজপাতা কিংবা তাম্রফলকে লেখা হত। লেখার জন্য ব্যবহৃত হত খাগ বা বাঁশজাত উদ্ভিদ থেকে তৈরি বিশেষ কলম। এই খাগের কলম ছিল তৎকালীন শিক্ষার প্রধান মাধ্যম। ফলে খাগের কলম বিদ্যা ও জ্ঞানের প্রতীক হয়ে ওঠে। দেবী সরস্বতী যেহেতু জ্ঞান, বিদ্যা ও বাকশক্তির অধিষ্ঠাত্রী দেবী, তাই তাঁর পুজোয় এই প্রাচীন শিক্ষার প্রতীককে স্থান দেওয়া হয়।
শুদ্ধতা ও সরলতার প্রতীক
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, খাগের কলম শুদ্ধতা ও সরলতার প্রতীক। এটি প্রকৃতি থেকে পাওয়া একেবারে প্রাকৃতিক উপাদান, যার সঙ্গে কোনও কৃত্রিমতা জড়িত নেই। সরস্বতী পুজোয় শুদ্ধ ও সাত্ত্বিক উপাচারের ওপর জোর দেওয়া হয়। সেই কারণেই খাগের কলমকে দেবীর পুজোয় উপযুক্ত মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই কলম দেবীর কৃপায় জ্ঞানার্জনের পথকে আরও পবিত্র করে তোলে।
আরও পড়ুন- বসন্ত পঞ্চমীতে বাড়ির উত্তর দিকে এই ৪টি জিনিস রাখুন, মিলবে কুবেরের কৃপা
বাংলা সংস্কৃতিতে খাগের কলমের সঙ্গে হাতেখড়ি অনুষ্ঠানেরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। শিশু যখন প্রথম লেখাপড়ার জগতে পা রাখে, তখন খাগের কলম দিয়েই তাকে প্রথম অক্ষর লেখা শেখানো হয়। এর মাধ্যমে শিশুর জীবনে বিদ্যার শুভ সূচনা ঘটে বলে মনে করা হয়। সরস্বতী পুজোয় খাগের কলম রাখা মানে সেই বিদ্যার সূচনালগ্নকে স্মরণ করা এবং দেবীর কাছে জ্ঞান লাভের প্রার্থনা জানানো।
আরও পড়ুন- বসন্ত পঞ্চমীতে এই সহজ প্রতিকার করলে বুদ্ধি হবে তীক্ষ্ণ, কাটবে পড়াশোনার বাধা
আরও একটি বিশ্বাস হল, খাগের কলম অহংকারহীন জ্ঞানের প্রতীক। আধুনিক কলম বা দামী লেখার সামগ্রী অনেক সময় বাহ্যিক চাকচিক্যের প্রতিফলন হলেও খাগের কলম অত্যন্ত সাধারণ। এটি মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত জ্ঞান বিনয়ী ও সরল। দেবী সরস্বতীও শ্বেতবস্ত্র পরিহিতা, শান্ত ও নিরাভরণ রূপে পূজিতা। খাগের কলম সেই নিরাভরণ জ্ঞানের ধারাকেই প্রতীকীভাবে তুলে ধরে।
আরও পড়ুন- বসন্ত পঞ্চমীতে শক্তিশালী গজকেশরী রাজযোগ, এই ৩ রাশির ওপর থাকবে মা সরস্বতীর বিশেষ আশীর্বাদ
অনেক ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়, দেবী সরস্বতীর আশীর্বাদে কলম যেন জীবনের সঠিক পথে পরিচালিত হয়। কলম কেবল লেখার উপকরণ নয়, এটি মানুষের চিন্তা, বুদ্ধি ও সৃষ্টিশীলতার বাহক। খাগের কলম ব্যবহার করে দেবীর কাছে প্রার্থনা করা হয়, যাতে লেখনী বিশুদ্ধ হয়, চিন্তা স্বচ্ছ হয় এবং বিদ্যার পথে কোনও বাধা না আসে।
আরও পড়ুন- আজ কোন রাশির ভাগ্যে বিদেশযাত্রা, কার জীবনে আসছে অর্থসৌভাগ্য? দেখুন আজকের রাশিফল
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থা বদলেছে, বদলেছে লেখার উপকরণও। তবুও সরস্বতী পুজোয় খাগের কলমের ব্যবহার আজও টিকে আছে ঐতিহ্যের কারণে। এটি আমাদের অতীতের সঙ্গে বর্তমানের সেতুবন্ধন তৈরি করে। নতুন প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেয়, আধুনিকতার মাঝেও শিকড়কে ভুলে গেলে চলবে না।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সরস্বতী পুজোয় খাগের কলম ব্যবহার শুধুই একটি রীতি নয়, এটি জ্ঞান, শুদ্ধতা, বিনয় ও ঐতিহ্যের প্রতীক। বিদ্যার দেবীর সামনে এই কলম নিবেদন করে ভক্তরা কামনা করেন—তাঁদের লেখনী হোক সত্যনিষ্ঠ, মন হোক প্রজ্ঞায় পূর্ণ এবং জীবন হোক আলোকিত জ্ঞানের পথে পরিচালিত।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us