/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/31/saturday-shani-remedies-2026-01-31-20-52-54.jpg)
Saturday Shani Remedies: শনিবার শনির প্রতিকারগুলো জানুন।
Saturday Shani Remedies: জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ন্যায়ের প্রতীক গ্রহ হিসেবে ধরা হয়। তিনি মানুষের কর্ম অনুযায়ী ফল প্রদান করেন, তাই তাঁকে কর্মফলের দেবতাও বলা হয়। কুণ্ডলীতে শনির অবস্থান দুর্বল হলে বা সাড়ে সাতি ও ধাইয়ার প্রভাব শুরু হলে জীবনে নানা রকম সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কাজ আটকে যাওয়া, আর্থিক টানাপোড়েন, মানসিক চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন—সবকিছু একসঙ্গে এসে জীবনকে ক্লান্ত করে তোলে। এই সময় শনিবার বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চললে শনির অশুভ প্রভাব অনেকটাই কমে বলে বিশ্বাস করা হয়।
অত্যন্ত ফলদায়ক
শনিবার শনিদেবের পুজো অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। এই দিনে ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে পরিষ্কার কালো বা নীল রঙের পোশাক পরা শুভ। শনি মন্দিরে গিয়ে সর্ষের তেল দিয়ে প্রদীপ জ্বালালে শনিদেব প্রসন্ন হন বলে বিশ্বাস রয়েছে। 'ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ' মন্ত্র জপ করলে মন শান্ত হয় এবং মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত এই পুজো করলে ধীরে ধীরে জীবনের বাধা কাটতে শুরু করে।
শনিবার দানের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। শনি দেবতা দরিদ্র, শ্রমজীবী ও অবহেলিত মানুষকে দান করলে খুশি হন বলেই বিশ্বাস। তাই এই দিনে কালো তিল, কালো ছোলা, লোহা, কম্বল, জুতো বা সর্ষের তেল দান করলে শনির কৃপা লাভ হয়। দান করার সময় মনে অহংকার না রেখে আন্তরিকতা রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই অভ্যাস কর্মক্ষেত্রের সমস্যা কমাতে এবং আর্থিক স্থিতি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক বলে বিশ্বাস করা হয়।
আরও পড়ুন- ফেব্রুয়ারি ১, রবিবার মাঘী পূর্ণিমা, কোন কাজ করলে কাটে বিয়ে এবং চাকরির বাধা?
শনিবার উপোস বা সংযম পালন করাও শনির প্রতিকার হিসেবে প্রচলিত। অনেকেই এই দিনে একবেলা আহার করেন অথবা সম্পূর্ণ নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ করেন। উপোস মানে শুধু না খাওয়া নয়, নিজের আচরণেও সংযম রাখা। মিথ্যা বলা, অন্যায় করা, কাউকে কষ্ট দেওয়া—এই সব কিছু থেকে দূরে থাকলে শনির অশুভ প্রভাব কমে। কারণ শনি দেবতা শৃঙ্খলা, ন্যায় ও ধৈর্যের প্রতীক।
আরও পড়ুন- মাঘী পূর্ণিমায় গঙ্গাস্নানে পুণ্য অর্জন নিশ্চিত, কবে পড়ছে এই বিশেষ তিথি, স্নানের শুভ সময়?
অশ্বত্থ বা বট গাছের সঙ্গে শনির গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। শনিবার সন্ধ্যায় অশ্বত্থ গাছের নীচে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালানো একটি পরিচিত প্রতিকার। এতে শনিদেবের পাশাপাশি বজরংবলীর আশীর্বাদও পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস। নিয়মিত এই প্রতিকার করলে ভয়, বাধা ও ঋণসংক্রান্ত সমস্যা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়।
আরও পড়ুন- স্নানের জলে এই জিনিসগুলো ১ চিমটি মেশান, দূর হবে গ্রহের কুপ্রভাব, সৌভাগ্য মুঠোবন্দি
বজরংবলীর আরাধনাও শনির দৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি শক্তিশালী উপায়। হনুমানজিকে শনিদেব সম্মান করেন বলেই শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। শনিবার হনুমান চালিসা পাঠ করলে সাহস বৃদ্ধি পায় এবং নেগেটিভ শক্তির প্রভাব কমে। অনেকেই এই দিনে লাল ফুল ও সিঁদুর দিয়ে হনুমানজির পুজো করেন, যা মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে সহায়ক।
আরও পড়ুন- নতুন বছরে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কবে, প্রথম গ্রহণ কখন, ভারত থেকে দেখা যাবে কি?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই সমস্ত প্রতিকার করার পাশাপাশি নিজের কর্ম ও আচরণ শুদ্ধ রাখা। শনি দেবতা কেবল আচার নয়, কর্মকেও বিচার করেন। সততা, পরিশ্রম ও ধৈর্য বজায় রাখলে শনির কৃপা সহজেই পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস। শনিবারের এই ছোট নিয়মগুলো মেনে চললে জীবনে ধীরে স্থিতি ও শান্তি ফিরে আসতে পারে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us