/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/17/shanidev-2026-01-17-12-32-21.jpg)
Shani Dev Remedies: শনিদেবকে সন্তুষ্ট করতে পালন করুন এই পদ্ধতি।
Shani Dev Remedies: অনেকের মনেই একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে শনিদেব মানেই দুঃখ, কষ্ট আর বাধা। বাস্তবে কিন্তু বিষয়টি একেবারেই আলাদা। শনিদেব হলেন কর্মফলদাতা। তিনি কাউকে অকারণে শাস্তি দেন না, আবার অকারণে পুরস্কৃতও করেন না। মানুষ যেমন কাজ করে, তেমনই ফল ফিরে আসে তাঁর আশীর্বাদ বা পরীক্ষার মাধ্যমে। তাই জীবনে যদি বারবার আর্থিক সংকট, ঋণ, চাকরিতে বাধা কিংবা ব্যবসায় লোকসানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে শুধুমাত্র ভাগ্যকে দোষ না দিয়ে নিজের কর্ম ও জীবনযাত্রার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
জ্যোতিষ মতে
জ্যোতিষ মতে শনিদেব এমন এক গ্রহ, যিনি ধৈর্য, শৃঙ্খলা, সততা এবং পরিশ্রমকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। যাঁরা সহজ পথে অর্থ উপার্জন করতে চান, অন্যায় করেন কিংবা পরিশ্রম এড়িয়ে চলেন, তাঁদের জীবনে শনিদেব বাধা তৈরি করেন। আবার যাঁরা নীরবে পরিশ্রম করেন, নিয়ম মেনে চলেন, মা-বাবা আর বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করেন, তাঁদের জীবনে ধীরে হলেও স্থায়ী আর্থিক উন্নতি এনে দেন শনিদেব।
আরও পড়ুন- রাস্তায় পড়ে থাকা টাকা তোলা কি অশুভ, ভাগ্য বদলের ইঙ্গিত, নাকি অকল্যাণ?
শাস্ত্রে বলা আছে, শনিদেব খুব সহজেই সন্তুষ্ট হন, কিন্তু তাঁর উপায় অবশ্যই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হয়। বিশেষ করে শনিবারের দিন সূর্যাস্তের পর করা কিছু নিয়ম একটানা সাত সপ্তাহ মানলে শনিদেবের কৃপা পাওয়া সম্ভব বলেই বিশ্বাস করা হয়। এই সময়টি শনিগ্রহের শক্তি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে, তাই এই সময় এই পদ্ধতিগুলো পালন করলে ফলও তুলনামূলক দ্রুত পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন- খাবারের টেবিল অগোছালো রাখলেই বিপদ! এই ৬ জিনিস রাখলে ডেকে আনছেন অমঙ্গল
প্রথম উপায়ে বলা হয়, সাতটি কালো তিল হাতে নিয়ে মন স্থির করে শনিদেবের কাছে প্রার্থনা করতে হয়। এই প্রার্থনায় নিজের আর্থিক জীবনের সমস্ত বাধা, দেনা-পাওনা, অস্থিরতা দূর করার কথা মনে বলতে হয়। এরপর সেই সাতটি তিল শনিদেবের চরণে অর্পণ করা হয়। এখানে সংখ্যার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাত সংখ্যা শনিগ্রহের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত।
দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর অশ্বত্থ গাছের নীচে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালানো হয়। এই প্রদীপে কালো তিল দিলে তা শনিদেবের শক্তিকে আরও বেশি আকর্ষণ করে বলে বিশ্বাস। অশ্বত্থ গাছকে শাস্ত্রে দেববৃক্ষ বলা হয়েছে এবং শনিদেবের সঙ্গে এর গভীর যোগ রয়েছে। এই নিয়ম মানলে জীবনের অদৃশ্য বাধা ও নেতিবাচক শক্তি ধীরে দূর হতে শুরু করে।
আরও পড়ুন- ‘লক্ষ্মী’র সঙ্গে সদ্ভাব নেই! চেষ্টা করেও অর্থ সঞ্চয়ে ব্যর্থ হন যে ৪ রাশি, হাতে টাকা থাকেই না
তৃতীয় উপায়টি অত্যন্ত সহজ কিন্তু কার্যকর। অনেকেই জানেন না যে গুড় শনিদেবের প্রিয় বস্তু। পরপর সাতটি শনিবার শনিদেবকে গুড় নিবেদন করলে আর্থিক সংকট কমতে শুরু করে বলে বিশ্বাস। গুড় দানের অর্থ হল জীবনের তিক্ততা ও অভাবকে মিষ্টতায় রূপান্তর করা। সম্ভব হলে শনিমন্দিরে গুড় দান করা ভালো, না পারলে ঘরেই নিবেদন করলেও ফল পাওয়া যায়।
চতুর্থ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়মটি হল মানসিক শুদ্ধতা। শনিবার রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে মাত্র কয়েক মিনিট ধ্যান করে শনিদেবের নাম স্মরণ করতে হয়। এই সময় কোনও ক্ষতিকর কামনা, হিংসা বা লোভ মনে রাখা উচিত নয়। শুধুমাত্র নিজের পরিশ্রমের ফল যেন সঠিকভাবে পাওয়া যায়, সেই প্রার্থনাই করতে হয়। শাস্ত্র মতে, শনিদেব কখনও অন্যের ক্ষতি করে পাওয়া সাফল্যকে সমর্থন করেন না।
এই চারটি উপায় পালন করার পাশাপাশি একটি বিষয় সবসময় মনে রাখা জরুরি। শনিদেব কখনও অলস মানুষকে পুরস্কৃত করেন না। তাই উপায় করার সঙ্গে সঙ্গে নিজের কাজ, দায়িত্ব ও পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে। শুধুমাত্র টোটকার ওপর ভরসা করে বসে থাকলে ফল মিলবে না। কিন্তু যদি সততা, পরিশ্রম ও ধৈর্যের সঙ্গে এই নিয়মগুলি পালন করা যায়, তবে ধীরে ধীরে আর্থিক জীবনে স্থায়িত্ব ও সমৃদ্ধি আসতে শুরু করে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us