Sheetala Sasthi 2026: শীতলষষ্ঠী পালন তো করছেন, এই নিয়মগুলো জানেন তো?

Sheetala Sasthi 2026: সন্তানের মঙ্গল, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ উন্নতির জন্য শীতলষষ্ঠী পালনের নিয়ম কী? জানুন মাঘ মাসের এই বিশেষ ষষ্ঠীব্রতের উপকারিতা ও ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে।

Sheetala Sasthi 2026: সন্তানের মঙ্গল, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ উন্নতির জন্য শীতলষষ্ঠী পালনের নিয়ম কী? জানুন মাঘ মাসের এই বিশেষ ষষ্ঠীব্রতের উপকারিতা ও ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Sheetala Sasthi 2026: শীতলষষ্ঠী পালনের নিয়মগুলো জেনে নিন।

Sheetala Sasthi 2026: শীতলষষ্ঠী পালনের নিয়মগুলো জেনে নিন।

Sheetala Sasthi 2026: হিন্দু শাস্ত্র ও লোকাচারে সন্তানের মঙ্গলকামনায় ষষ্ঠীদেবীর পুজোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিমাসেই ষষ্ঠীব্রত পালনের রীতি থাকলেও মাঘ মাসের ষষ্ঠী আলাদা ভাবে পরিচিত শীতলষষ্ঠী নামে। এই ষষ্ঠী সরস্বতী পুজোর পরের দিন পালন করা হয় এবং বাংলার বহু জায়গায় একে শীলষষ্ঠী বা গোটাষষ্ঠী নামেও ডাকা হয়। শীতলষষ্ঠী পালনের মূল উদ্দেশ্য হল সন্তানের শরীর-স্বাস্থ্য রক্ষা, দীর্ঘায়ু কামনা এবং ভবিষ্যতে তার উন্নতির পথ সুগম করা।

Advertisment

শীতলষষ্ঠী নামের মধ্যেই রয়েছে এর আচারগত তাৎপর্য। এই দিনে আগুনে রান্না করা গরম খাবার গ্রহণ করা হয় না। আগের দিন রান্না করে রাখা ঠান্ডা বা শীতল খাবার খাওয়ার রীতি রয়েছে বলেই এই ষষ্ঠীর নাম শীতলষষ্ঠী। অনেক জায়গায় গোটা ডাল ও গোটা সবজি সেদ্ধ করে খাওয়া হয় বলে একে গোটাষষ্ঠীও বলা হয়। আবার কোথাও কোথাও শীল বা পাথরের প্রতীকী পুজো হয়, সেই কারণে শীলষষ্ঠী নামটিও প্রচলিত।

ধর্মীয় বিশ্বাস

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শীতলষষ্ঠী পালনে সন্তানের শরীরে রোগ-ব্যাধি দূরে থাকে এবং মানসিক স্থিতি বজায় থাকে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এই ব্রতকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। লোকবিশ্বাসে বলা হয়, এই দিনে ষষ্ঠীদেবী সন্তানের ওপর নিজের আশীর্বাদ বর্ষণ করেন এবং মা-বাবার প্রার্থনা গ্রহণ করেন। শুধু সন্তানের উন্নতিই নয়, শীতলষষ্ঠী পালনের ফলে পরিবারে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকে বলেও অনেকে বিশ্বাস করেন।

আরও পড়ুন- সরস্বতী পুজোর পরদিন কেন খাওয়া হয় গোটা সিদ্ধ? জানুন বিস্তারিত

মাঘ মাসের শীতলষষ্ঠী পালন করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে যাঁরা এই ব্রত পালন করতে চান, তাঁদের সরস্বতী পুজোর পরের দিন নিয়ম মেনে এটি পালন করা উচিত। চলতি বছরে শীতলষষ্ঠী পড়েছে ২৪ জানুয়ারি, শনিবার। এই দিনে ভোরে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাক পরিধান করে ষষ্ঠীদেবীর পুজো করার রীতি রয়েছে।

আরও পড়ুন- সরস্বতী পুজোয় বান্ধবীকে নিয়ে কোথায় ঘুরতে যাবেন? একদিনেই সারুন রোম্যান্স আর আনন্দের প্ল্যান!

শীতলষষ্ঠীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হল এই দিনে গরম খাবার না খাওয়া। আগের দিন অর্থাৎ সরস্বতী পুজোর দিন গোটা কলাই ডাল, গোটা সবজি বা ছোট টুকরো করে কাটা সবজি সেদ্ধ করে রাখতে হয়। ভাত খেতে চাইলে সেটিও আগের দিন রান্না করে ঠান্ডা জলে ভিজিয়ে রাখা হয়। ষষ্ঠীর দিন এই খাবার প্রথমে ষষ্ঠীদেবীকে নিবেদন করা হয়, তার পর পরিবারের সদস্যরা তা গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন- কবে, কখন কীভাবে জন্ম হল জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর? বসন্ত পঞ্চমীতে জানুন বিস্তারিত

এই ব্রতে আমিষ খাবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মাছ, মাংস, ডিমের পাশাপাশি পেঁয়াজ ও রসুনও খাওয়া যায় না। যেহেতু ষষ্ঠীদেবীর উদ্দেশ্যে ভোগ নিবেদন করা হয়, তাই আগের দিনের রান্না অবশ্যই নিরামিষ হতে হবে এবং সেই বাসনে কখনও আমিষ রান্না করা হয়েছে এমন হলে তা ব্যবহার করা উচিত নয়। শীতলষষ্ঠীর দিন বাড়িতে উনুন বা ওভেন জ্বালানো থেকেও বিরত থাকার রীতি রয়েছে।

আরও পড়ুন- কানে 'শিস' বা বাঁশির শব্দ শুনলে সাবধান, দায়ী হতে পারে এই ৩টি কারণ

পুজো শেষ হওয়ার পরে সন্তানের মঙ্গলকামনায় একটি বিশেষ আচার পালন করা হয়। সাধারণ মোটা সুতো, দই এবং হলুদে চুবিয়ে নিয়ে সন্তানের হাতে বা কবজিতে বেঁধে দেওয়া হয়। বিশ্বাস করা হয়, এতে সন্তানের অশুভ দৃষ্টি কাটে এবং তার জীবনে শুভ শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুন- বাঙালি নারীশিক্ষায় বিপ্লবের সাক্ষী আজকের নিবেদিতা মিউজিয়াম

শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুসারে, শীতলষষ্ঠী পালনের সুফল শুধু সন্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এই ব্রত পালনের ফলে পরিবারের সকল সদস্যের শরীর-স্বাস্থ্য ভালো থাকে, মন শান্ত থাকে এবং জীবনে সমৃদ্ধি আসে। বিশেষ করে মাঘ মাসে এই ব্রত পালন করলে মানসিক দৃঢ়তা ও পারিবারিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।

2026 Sheetala Sasthi