/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/10/sneezing-superstition-2026-01-10-18-29-38.jpg)
Sneezing Superstition: বেরোনোর সময় হাঁচি নিয়ে নানা কুসংস্কার আছে।
Sneezing Superstition: বেরোনোর সময় হাঁচি হলে বিপদ আসবে—এই ধারণা আমাদের সমাজে এতটাই গভীরে গেঁথে আছে যে আজও বহু মানুষ তা অজান্তেই মেনে চলেন। বিশেষ করে কোনও শুভ কাজে বেরোনোর আগে, নতুন কাজ শুরু করার মুহূর্তে বা দূরযাত্রার ঠিক আগের মুহূর্তে হাঁচি এলে বাড়ির বড়রা তৎক্ষণাৎ তা থামিয়ে দেন। কেউ বলেন একটু বসে যেতে, কেউ আবার জল খেতে দেন, কেউ মন্ত্র পড়ে ফেলেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই বিশ্বাসের পিছনে আদৌ কোনও বাস্তব বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে কি, না কি সবটাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা কুসংস্কার?
হাঁচি মূলত একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া। ধুলো, ধোঁয়া, ঠান্ডা হাওয়া, অ্যালার্জি কিংবা নাকের ভেতরের স্নায়ু উত্তেজিত হলেই হাঁচি আসে। এটি শরীরের একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নাকের ভিতরে থাকা ক্ষতিকর কণাকে বাইরে বের করে দেওয়া হয়। হাঁচি কখন আসবে, তা সময়, স্থান বা কাজের ওপর নির্ভর করে না। তবুও কেন আমাদের মনে হয় যে বেরোনোর সময় হাঁচি এলেই অমঙ্গল?
আরও পড়ুন- নতুন বছরে বাড়ির কোন দিকের দেওয়ালে ক্যালেন্ডার টাঙানো শুভ, কীসে বাড়বে অশুভ প্রভাব?
ভারতীয় সমাজে কুসংস্কারের ইতিহাস বহু পুরোনো। বিড়ালের রাস্তা কাটা, চোখ কাঁপা, কাকের ডাক—এগুলোর মতোই হাঁচিকেও বহুদিন ধরে শুভ-অশুভের সঙ্গে জুড়ে দেখা হয়েছে। শাস্ত্রের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ঠিক বেরোনোর মুহূর্তে যদি কেউ হাঁচি দেন, তা হলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করাই শ্রেয়। বিশ্বাস করা হয়, ওই মুহূর্তে যাত্রা স্থগিত রাখলে অশুভ প্রভাব কেটে যায়। আবার বলা হয়, যদি প্রথম হাঁচির পর তৎক্ষণাৎ আরেকটি হাঁচি আসে, তা হলে যাত্রা করা যেতে পারে। এমনও বিশ্বাস আছে যে, ওই সময়ে যদি অন্য কেউ হাঁচি দেয়, তা হলেও অশুভ প্রভাব নষ্ট হয়।
আরও পড়ুন- কেউ অজান্তে ছুরি মারেন তো কেউ রং বদলাতে ওস্তাদ! এই ৬ রাশিকে বিশ্বাস করলে ঠকতে হবে!
তবে শাস্ত্রে হাঁচিকে সব সময় অশুভ হিসেবেই দেখা হয়নি। কিছু প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী, রাতে খাবার খাওয়ার পর হাঁচি এলে সেটি নাকি শুভ লক্ষণ। বলা হয়, এর অর্থ হল পরের দিন কোনও ভালো খবর পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ হাঁচির ব্যাখ্যা সময় ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বদলে যায়, যা থেকেই বোঝা যায় এই বিশ্বাসগুলির কোনও স্থায়ী যুক্তি নেই।
আরও পড়ুন- নতুন বছরে কারা হবেন টাকার রাজা? ভাগ্য, সম্পদ, আর্থিক স্থিতিতে কোন রাশি থাকবে শীর্ষে?
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখলে হাঁচির সঙ্গে ভাগ্য, শুভ বা অশুভের কোনও সম্পর্ক নেই। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, হাঁচি আসা সম্পূর্ণ শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। কোনও কাজে বেরোনোর আগে হাঁচি এলে দুর্ঘটনা ঘটবে বা কাজ ব্যর্থ হবে—এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং অনেক সময় মানুষ আগে থেকেই কোনও কাজে নার্ভাস বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকেন। সেই মানসিক চাপের সঙ্গে কুসংস্কার যুক্ত হয়ে গেলে সামান্য হাঁচিকেও বড় অশুভ ইঙ্গিত বলে মনে হয়।
মনোবিজ্ঞানীরা যা বলেন
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, এই ধরনের বিশ্বাস মানুষের কুসংস্কারের ‘confirmation bias’-এর ফল। অর্থাৎ, যদি হাঁচির পর সত্যিই কোনও ছোটখাটো সমস্যা ঘটে, মানুষ সেটাকেই বেশি মনে রাখে। কিন্তু অসংখ্য বার হাঁচি দিয়েও নির্বিঘ্নে কাজ সেরে ফেলার ঘটনা আমাদের চোখে পড়ে না। ক্রমশ আমাদের মস্তিষ্কে একটি ধারণা তৈরি হয় যে হাঁচি মানেই অশুভ।
আরও পড়ুন- কথার ভাঁজে মানুষকে বোকা বানান, শব্দের জালে ফাঁসান এই ৬ রাশি!
তবে বাস্তব দিক থেকে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। যদি কেউ ঘনঘন হাঁচিতে ভোগেন, নাক দিয়ে জল পড়ে, চোখ চুলকায় বা শ্বাসকষ্ট হয়, তাহলে সেটি অ্যালার্জি বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কুসংস্কারের পথে না হেঁটে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। হাঁচিকে অশুভ ভেবে উপেক্ষা করা অনেক সময় স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে।
আজকের আধুনিক জীবনে, যেখানে বিজ্ঞান এবং যুক্তিবাদ আমাদের পথ দেখায়, সেখানে এই ধরনের কুসংস্কার ধীরে ধীরে প্রশ্নের মুখে পড়ছে। তবুও সামাজিক এবং পারিবারিক পরিসরে এই বিশ্বাসগুলি এখনও শক্তভাবে টিকে আছে। অনেকেই মানসিক শান্তির জন্য এই নিয়মগুলি মেনে চলেন। এতে যদি কারও ক্ষতি না হয়, তা হলে কিছুক্ষণ বসে নেওয়া বা জল খাওয়ায় সমস্যা নেই। কিন্তু হাঁচির জন্য ভয় পেয়ে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলা বা কাজ থামিয়ে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়।
সবশেষে বলা যায়, বেরোনোর সময় হাঁচি আসা মানেই বিপদ আসবে—এই ধারণার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এটি মূলত লোকবিশ্বাস এবং কুসংস্কারের ফল। সচেতনতা, যুক্তিবোধ এবং স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখলে, এই ধরনের ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us