/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/06/somnath-temple-history-2026-01-06-18-48-47.jpg)
Temple History: জাগ্রত মন্দিরের ইতিহাস।
Somnath Temple History: এই মন্দির কেবল একটি উপাসনালয় নয়, এটি ভারতের ধর্ম, সংস্কৃতি ও অটুট বিশ্বাসের জীবন্ত প্রতীক। গুজরাটের আরব সাগরের তীরে অবস্থিত এই মন্দির ভগবান শিবের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে প্রথম হিসেবে পূজিত। যার ইতিহাস (Somnath Temple History) প্রমাণ করে, সময়, আক্রমণ কিংবা ধ্বংস কোনও কিছুই বিশ্বাসকে মুছে ফেলতে পারে না।
আজ থেকে ঠিক এক হাজার বছর আগে, ১০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি আফগান শাসক মাহমুদ গজনবি সোমনাথ মন্দিরে আক্রমণ চালান। প্রভাস পাটনে পৌঁছে তাঁর সেনাবাহিনী এবং রাজপুত যোদ্ধাদের মধ্যে টানা আট দিন ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। লোককথা অনুসারে, প্রায় ৫০ হাজার হিন্দু যোদ্ধা মন্দির রক্ষায় প্রাণ উৎসর্গ করেন। পরাজয়ের পর মাহমুদ গজনবি মন্দির লুণ্ঠন করেন এবং শিবলিঙ্গ ভেঙে ফেলেন। বলা হয়, তিনি সোমনাথ মন্দির লুঠ (Somnath Temple loot) করে প্রায় ২০ মিলিয়ন দিনার নিয়ে যান।
আরও পড়ুন- বছরের প্রথম মঙ্গলবার, ঘরের এই কোণে ১টি জিনিস রাখলেই দূর হবে রাহু-শনির অশুভ প্রভাব
এই ধ্বংসই শেষ ছিল না। ইতিহাস বলছে, সোমনাথ মন্দির (Somnath Mandir) মোট ১৭ বার আক্রমণের শিকার হয়েছে। প্রতিবারই কোনও না কোনও হিন্দু শাসক বা ভক্ত সমাজ আবার মন্দির পুনর্গঠন করেছে। ১১৬৯ সালের শিলালিপি অনুযায়ী, গুজরাটের রাজা কুমারপাল মূল্যবান পাথর এবং রত্নখচিত এক বিশাল মন্দির নির্মাণ করেন।
আরও পড়ুন- মঙ্গল থেকে শনি, সব গ্রহকে নিয়ন্ত্রণে রাখে নারকেল! মেনে চললে খুলবে ভাগ্যের দরজা
১৩ শতকে আলাউদ্দিন খিলজির সেনাপতি উলুঘ খান গুজরাট আক্রমণের সময় আবার সোমনাথ ধ্বংস করেন। ১৩৯৫ সালে গুজরাটের সুলতান জাফর খান এবং ১৪১৪ সালে আহমেদ শাহ মন্দিরে লুটপাট চালান। ১৫ শতকে মাহমুদ বেগদা সোমনাথ মন্দিরকে মসজিদে রূপান্তরের চেষ্টা করেন। সর্বশেষ বড় ধ্বংস আসে ১৭০৬ সালে, যখন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব মন্দির সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার আদেশ দেন।
আরও পড়ুন- অর্থকষ্টে জীবন ছারখার? ঋণের বোঝা কমাতে মানুন ৪ সহজ নিয়ম!
তবুও সোমনাথ মন্দির (Somnath Temple resilience) ইতিহাসে অতুলনীয়। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, সত্যযুগে চন্দ্রদেব সোনা দিয়ে এই মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। ত্রেতাযুগে রাবণ রূপা দিয়ে, দ্বাপরযুগে ভগবান কৃষ্ণ চন্দন কাঠ দিয়ে পুনর্নির্মাণ করেন। যুগে যুগে ধ্বংস হলেও এই মন্দিরের ওপর বিশ্বাস কখনও ভাঙেনি।
আরও পড়ুন- মেয়েদের ঠোঁটের কোণে তিল শুধু রূপ নয়, লুকোনো ভাগ্য এবং এসব গুণেরও ইঙ্গিত দেয়, জানেন এগুলো?
ভারত স্বাধীন হওয়ার আগে ১৭৮৭ সালে মহারাণী অহল্যাবাঈ হোলকর শেষবার এই মন্দির সংস্কার করেছিলেন। স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল সোমনাথ পুনর্নির্মাণের দৃঢ় সংকল্প নেন। তাঁর উদ্যোগেই ১৯৫১ সালে রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ বর্তমান সোমনাথ মন্দিরের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
আজও বিস্ময় জাগায়
মন্দির প্রাঙ্গণে অবস্থিত তীরস্তম্ভ আজও বিস্ময় জাগায়। স্তম্ভে খোদাই করা আছে যে এই বিন্দু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত কোনও স্থলভাগ নেই। এটি প্রমাণ করে প্রাচীন ভারতীয়দের জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ভৌগোলিক জ্ঞানের গভীরতা বিরাট। আজকের সোমনাথ মন্দির (Somnath Temple) শুধু ধর্মীয় তীর্থস্থান নয়, এটি হিন্দু বিশ্বাস (Hindu faith), ভারতীয় সংস্কৃতি (Indian culture) এবং আধ্যাত্মিক শক্তি (spiritual strength)-এর এক অনন্য নিদর্শন। হাজার বছরের আক্রমণ, লুণ্ঠন এবং ধ্বংসের পরেও সোমনাথ মন্দির দাঁড়িয়ে আছে—অটুট, গর্বিত এবং চিরন্তন চেহারায়।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us