/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/06/tuesday-remedy-2026-2026-01-06-14-06-07.jpg)
Tuesday Remedy 2026: দূর করুন রাহু, শনির অশুভ প্রভাব।
Tuesday Remedy 2026: হিন্দু ধর্মে সপ্তাহের প্রতিটি দিনেরই নিজস্ব তাৎপর্য রয়েছে। কোনও দিন শিবের, কোনও দিন লক্ষ্মীর, আবার কোনও দিন গ্রহদেবতার উদ্দেশ্যে দিনটি নিবেদিত। মঙ্গলবার বিশেষভাবে হনুমানজির দিন হিসেবে পরিচিত। সংকটমোচন হনুমান এমন এক দেবতা, যিনি ভক্তের সমস্ত বাধা, ভয় ও অশুভ শক্তিকে দূর করতে সক্ষম বলে বিশ্বাস করা হয়। এই কারণেই মঙ্গলবার দিনটি জ্যোতিষ ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালের শুরুতে যে মঙ্গলবারটি এসেছে, সেটিকে অনেক জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। বছরের শুরুতে এই মঙ্গলবার পড়ায় একে নতুন সূচনার প্রতীক হিসেবেও ধরা হয়। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রাহুর মহাদশা, শনির সাড়ে সাতি, আর্থিক সংকট বা কর্মক্ষেত্রে বাধার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য এই মঙ্গলবার একটি বিশেষ সুযোগ নিয়ে এসেছে বলে বিশ্বাস।
আরও পড়ুন- মঙ্গল থেকে শনি, সব গ্রহকে নিয়ন্ত্রণে রাখে নারকেল! মেনে চললে খুলবে ভাগ্যের দরজা
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার হনুমান চালিশা পাঠ করলে মনোবল বৃদ্ধি পায় এবং ভয় ও নেতিবাচক চিন্তা দূর হয়। অনেকেই এই দিনে বিশেষ মন্ত্র জপ করেন এবং দরিদ্রদের দান করেন। শাস্ত্র মতে, দান করলে শুধু পুণ্যই অর্জিত হয় না, বরং আটকে থাকা কাজেও গতি আসে এবং সংসারে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাড়ে।
আরও পড়ুন- অর্থকষ্টে জীবন ছারখার? ঋণের বোঝা কমাতে মানুন ৪ সহজ নিয়ম!
এবার আসা যাক সেই বিশেষ গোপন প্রতিকারের কথায়, যা খুব সহজ অথচ বিশ্বাস অনুযায়ী অত্যন্ত কার্যকর। মঙ্গলবার সূর্যাস্তের পর, অর্থাৎ সন্ধ্যার সময়, নিজের ঘরের উত্তর-পূর্ব কোণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে একটি মাটির প্রদীপ রাখতে হয়। সেই প্রদীপে কর্পূর এবং দুটি লবঙ্গ রেখে তা জ্বালাতে হয়। এই কাজটি খুব নিঃশব্দে ও মনোযোগ সহকারে করা উচিত। বিশ্বাস করা হয়, এই প্রদীপের আলো ঘরে জমে থাকা নেতিবাচক শক্তিকে ধীরে দূর করে এবং ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বৃদ্ধি করে।
আরও পড়ুন- মেয়েদের ঠোঁটের কোণে তিল শুধু রূপ নয়, লুকোনো ভাগ্য এবং এসব গুণেরও ইঙ্গিত দেয়, জানেন এগুলো?
জ্যোতিষ মতে, রাহু এবং শনি উভয়ই ছায়া গ্রহ এবং এদের প্রভাব সরাসরি মানুষের মানসিক অবস্থার ওপর পড়ে। ঘরে অশান্তি, অকারণ ভয়, অর্থকষ্ট বা দাম্পত্য সমস্যা অনেক সময় এই গ্রহদোষের ফল বলে মনে করা হয়। মঙ্গলবার এই প্রতিকার করলে রাহু-কেতু এবং শনির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ধীরে কমতে শুরু করে এবং জীবনে স্থিরতা আসে বলে বিশ্বাস।
আরও পড়ুন- কঠিন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখা যাঁদের শিল্প, বাস্তবের 'শান্তির দূত' এই ৫ রাশি
হনুমানজিকে খুশি করার আরও একটি জনপ্রিয় উপায় হল, পিপল পাতার প্রতিকার। মঙ্গলবার ১১টি পিপল পাতা নিয়ে চন্দন কাঠ দিয়ে তাতে 'শ্রী রাম' লিখে হনুমানজির চরণে অর্পণ করলে পুরোনো ঋণ এবং আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বলে মনে করা হয়। এই প্রতিকারটি মূলত বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল, তবে বহু মানুষ এর ইতিবাচক ফল পেয়েছেন বলে দাবি করেন।
মঙ্গলবার যা করবেন
এছাড়া মঙ্গলবার হনুমানজিকে জুঁই তেলে সিঁদুর মিশিয়ে ছোলা অর্পণ করার রীতিও প্রচলিত। শাস্ত্র মতে, এটি করলে জীবনের বড় বাধা দূর হয় এবং কর্মক্ষেত্র ও ব্যবসায় সাফল্যের পথ খুলে যায়। যাঁরা শত্রুতা, ষড়যন্ত্র বা প্রতিযোগিতায় বারবার পিছিয়ে পড়ছেন, তাঁদের জন্য বজরং বাণ পাঠ বিশেষ ফলদায়ক বলে বিশ্বাস করা হয়।
এই সমস্ত প্রতিকার মূলত বিশ্বাস, আস্থা ও মানসিক শক্তির সঙ্গে যুক্ত। এগুলি কোনও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার বিকল্প নয়, তবে ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী মনকে শক্ত এবং ইতিবাচক রাখতে সাহায্য করে। অনেক সময় ইতিবাচক মানসিকতাই জীবনের বড় সমস্যার সমাধান এনে দেয়। তাই মঙ্গলবারের এই ছোট্ট প্রতিকার অনেকের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us