/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/17/vasant-panchami-2026-2026-01-17-21-46-58.jpg)
Vasant Panchami 2026 date & time: বসন্তপঞ্চমী কতক্ষণ থাকবে, জেনে নিন।
Vasant Panchami 2026 date & time: মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথি মানেই বাঙালি ঘরে ঘরে বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনা। ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই দিনটি যেমন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই অভিভাবক ও শিক্ষকদের কাছেও বসন্ত পঞ্চমীর তাৎপর্য অপরিসীম। ২০২৬ সালে সরস্বতী পুজো ঠিক কতক্ষণ থাকবে, কখন পুজো করা সবচেয়ে শুভ এবং পঞ্জিকা অনুযায়ী এই তিথির প্রকৃত গুরুত্ব কী—এই প্রশ্নগুলি প্রতিবছরই মানুষের মনে জিজ্ঞাসা থাকে।
বিশুদ্ধ পঞ্জিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালে বসন্ত পঞ্চমী বা সরস্বতী পুজোর পঞ্চমী তিথি শুরু হচ্ছে ৮ মাঘ, অর্থাৎ ২২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ২টা ৩০ মিনিটে। এই তিথি শেষ হচ্ছে পরের দিন ৯ মাঘ, অর্থাৎ ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার মধ্যরাত ১টা ৪৭ মিনিটে। এই হিসাব অনুযায়ী বসন্ত পঞ্চমী মোট স্থায়ী হচ্ছে ২৩ ঘণ্টা ১৭ মিনিট। অর্থাৎ প্রায় পুরো একদিন জুড়েই এই পুণ্য তিথির প্রভাব থাকবে।
বসন্ত পঞ্চমী, সরস্বতী পুজো:
| পঞ্চমী তিথি আরম্ভ | ৮ মাঘ, ২২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার। সময়- মধ্যরাত ২টো ৩০ মিনিট। |
| পঞ্চমী তিথি শেষ | ৯ মাঘ, ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার। সময়- মধ্যরাত ১টা ৪৭ মিনিট। |
অনেকেই প্রশ্ন করেন, এত রাতে তিথি শুরু হলে পুজো কোন দিন করা উচিত। শাস্ত্র মতে, সূর্যোদয়স্পর্শী তিথিকেই পুজোর জন্য গ্রহণ করা হয়। সেই হিসেবে ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার সকাল থেকে সরস্বতী পুজো পালন করাই সর্বাধিক প্রচলিত ও শাস্ত্রসম্মত। তবে যাঁরা বিশেষ তিথি বিচার করে পুজো করেন, তাঁরা বৃহস্পতিবার রাতের পর থেকেই দেবীর আরাধনার প্রস্তুতি শুরু করতে পারেন।
বসন্ত পঞ্চমীর সঙ্গে বসন্ত ঋতুর সূচনাও জড়িয়ে আছে। প্রকৃতিতে এই সময় ধীরে ধীরে শীতের প্রভাব কমে আসে এবং নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটে। হলুদ রঙের আধিক্য, বাসন্তী আবহ এবং সুর-সঙ্গীতের উপস্থিতি এই পুজোকে অন্য সব পুজো থেকে আলাদা করে তোলে। দেবী সরস্বতী জ্ঞান, বিদ্যা, সংগীত ও সৃজনশীলতার প্রতীক। তাই এই দিন বই, খাতা, বাদ্যযন্ত্র ও কলমের পুজো করা হয়।
আরও পড়ুন- মাঘ মানেই বিয়ের হিড়িক! জানুন শুভ বিবাহ লগ্ন, একাদশী ও বিশেষ পুজোর দিনক্ষণ
শিক্ষাজীবনের সূচনা হিসেবে হাতেখড়ি বা বিদ্যারম্ভ করার জন্য বসন্ত পঞ্চমীকে অত্যন্ত শুভ দিন বলে মনে করা হয়। অনেক পরিবার এই দিনই সন্তানের প্রথম পড়াশোনা শুরু করান। বিশ্বাস করা হয়, এই তিথিতে দেবীর কৃপা পেলে শিক্ষাজীবনে বাধা আসে না এবং জ্ঞানের পথ সুগম হয়।
আরও পড়ুন- শত্রুকে চিনতে ব্যর্থ, কুনজরের ফাঁদে পড়ে সাজানো জীবন তছনছ! ৫ রাশির ওপর থাকে বাঁকা চোখের চাহনি
২০২৬ সালে যেহেতু বসন্ত পঞ্চমী দীর্ঘ সময় ধরে থাকছে, তাই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সময় পুজোর জন্য বিশেষভাবে অনুকূল। স্কুল, কলেজ ও পাড়া-মহল্লার পুজোগুলিও সাধারণত এই সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করা হয়। হলুদ ফুল, বাসন্তী শাড়ি, খিচুড়ি ভোগ এবং প্রসাদের আয়োজন এই দিনের বিশেষ আকর্ষণ।
আরও পড়ুন- মাঘে মুলো খাওয়া কেন নিষেধ! কী খাওয়া যাবে না এই মাসে? কোন কাজ থেকে বিরত থাকতে বলছে শাস্ত্র?
মাঘ মাসের অন্যান্য তিথির মতো বসন্ত পঞ্চমীরও একটি আধ্যাত্মিক দিক রয়েছে। এই দিন সংযম, শুদ্ধতা ও মনঃসংযোগ বজায় রেখে পুজো করলে মানসিক স্থিরতা বৃদ্ধি পায় বলে বিশ্বাস। বিদ্যার সঙ্গে সঙ্গে বিবেক ও বোধশক্তি বৃদ্ধির জন্যও দেবীর আশীর্বাদ কামনা করা হয়।
আরও পড়ুন- চা বানানোর এই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলুন, সঠিক কায়দা জানুন চিকিৎসকের থেকে
সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৬ সালে বসন্ত পঞ্চমী বা সরস্বতী পুজো প্রায় ২৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে থাকায় পুজো, বিদ্যারম্ভ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে। সঠিক তিথি জেনে পুজো করলে শাস্ত্রসম্মত ফল লাভের বিশ্বাস বহু প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us