/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/11/vastu-rules-for-eating-2026-01-11-21-38-50.jpg)
Vastu Rules for Eating: বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী কীভাবে খাবেন?
Vastu Rules for Eating: ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেকেই খাওয়ার সময় বা জায়গা নিয়ে বিশেষ চিন্তা করি না। অফিসে দেরি হয়ে যাচ্ছে, স্কুলে বাচ্চাকে পৌঁছতে হবে কিংবা কোনও জরুরি কাজের তাড়া থাকলে দাঁড়িয়ে, বিছানায় বসে বা রান্নাঘরেই তাড়াহুড়ো করে খাবার খেয়ে নেওয়াটাই যেন স্বাভাবিক অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্র বলছে, খাবার গ্রহণ শুধুমাত্র শরীরের প্রয়োজন মেটানোর বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঘরের শক্তি, মানসিক শান্তি এবং ভাগ্যের প্রবাহ।
বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে খাবার এমন একটি কাজ, যার সঙ্গে লক্ষ্মীতত্ত্ব সরাসরি যুক্ত। কোথায় বসে, কী অবস্থায় এবং কোন মানসিকতায় খাবার গ্রহণ করা হচ্ছে, তার প্রভাব পড়ে সংসারের আর্থিক অবস্থা, স্বাস্থ্যের ভারসাম্য এবং পারিবারিক সম্পর্কের ওপর। সেই কারণেই শাস্ত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বাড়ির কিছু নির্দিষ্ট স্থানে বসে খাওয়াদাওয়া করলে নেতিবাচক শক্তি সক্রিয় হয়ে ওঠে।
দরজার কাছে
দরজার কাছে বসে খাওয়া বাস্তুমতে অত্যন্ত অশুভ বলে ধরা হয়। বিশ্বাস করা হয়, বাড়ির প্রধান দরজাই হল শক্তির প্রবেশপথ এবং সেখানেই মা লক্ষ্মীর অবস্থান। সেই জায়গায় বসে খাবার গ্রহণ করলে সৌভাগ্যের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং আর্থিক সমস্যার সম্ভাবনা বাড়ে। তাড়াহুড়ো থাকলেও দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বা বসে খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করাই শ্রেয়।
আরও পড়ুন- অজান্তে করা ভুলের জন্যও পড়তে হয় শনির কোপে! দেখলে বুঝবেন গ্রহরাজ রেগে গিয়েছেন
ঠাকুরঘর
ঠাকুরঘর এমন একটি স্থান যেখানে দৈব শক্তির উপস্থিতি থাকে। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, ঠাকুরঘরে বসে সাধারণ খাবার গ্রহণ করা উচিত নয়। এতে ঘরের পবিত্রতা নষ্ট হয় এবং মানসিক অশান্তি বৃদ্ধি পায়। ঠাকুরের জন্য আলাদা ভোগ নিবেদন করা হলেও, ব্যক্তিগত খাবার সেই স্থানে খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
আরও পড়ুন- কেউ স্পষ্টবাদী, কেউ কর্মঠ, কেউ আবার আদুরে! মেয়েদের স্বভাব কেমন হয়, জানালেন জ্যোতিষী
বিছানায় বসে
বিছানায় বসে খাওয়ার অভ্যাস বর্তমানে খুবই সাধারণ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে মোবাইল বা টিভি দেখতে দেখতে। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্র বলছে, বিছানা বিশ্রামের স্থান, সেখানে খাবার গ্রহণ করলে শরীর ও মনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এতে হজমের সমস্যা, অলসতা এবং আর্থিক ক্ষতির যোগ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে ভাগ্যের ওপরও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
আরও পড়ুন- বেরোনোর সময় হাঁচি হলে কি বিপদ নিশ্চিত? শুভ কাজের আগে হাঁচি সত্যিই অশুভ, নাকি সবটাই কুসংস্কার?
অগোছালো জায়গায়
নোংরা বা অগোছালো জায়গায় বসে খাবার খাওয়াও বাস্তু দোষের কারণ। খাবার গ্রহণের স্থান যত পরিষ্কার ও গুছানো হবে, ততই ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বজায় থাকবে। অপরিষ্কার টেবিল বা এলোমেলো জায়গায় খেলে সংসারে অশান্তি ও আর্থিক স্থবিরতা দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন- নতুন বছরে বাড়ির কোন দিকের দেওয়ালে ক্যালেন্ডার টাঙানো শুভ, কীসে বাড়বে অশুভ প্রভাব?
গ্যাসের কাছে দাঁড়িয়ে
রান্নাঘরে গ্যাসের কাছে দাঁড়িয়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাসও শাস্ত্রসম্মত নয়। রান্নাঘর হল অগ্নিতত্ত্বের স্থান এবং সেখানে তাড়াহুড়ো করে খাবার গ্রহণ করলে স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ে। বাস্তুশাস্ত্র মতে, খাবার গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকা উচিত, যা শান্ত ও পরিপাটি।
সঠিক স্থানে, শান্ত মনে এবং কৃতজ্ঞতার অনুভূতি নিয়ে খাবার গ্রহণ করলে তা শুধু শরীর নয়, ভাগ্যকেও পুষ্ট করে। তাই দৈনন্দিন জীবনে এই ছোট ছোট বাস্তুনিয়ম মেনে চললে সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us