/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/22/vastu-tips-for-artificial-jewellery-2025-12-22-01-12-29.jpg)
Vastu Tips for Artificial Jewellery: ঘরে গয়না রাখার সঠিক দিক কোনটি, জেনে নিন।
Vastu Tips for Artificial Jewellery: বর্তমান সময়ে কৃত্রিম গয়না নারীদের দৈনন্দিন সাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বাজারে নানা রকম আকর্ষণীয় ডিজাইন, রঙ ও স্টাইলে কৃত্রিম গয়না সহজেই পাওয়া যায়, যা অল্প খরচে সৌন্দর্য বাড়াতে সাহায্য করে। সোনা বা রূপার মতো দামি গয়নার বিকল্প হিসেবে কৃত্রিম গয়নার জনপ্রিয়তা দিনকে দিন বাড়ছে। তবে বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, কেবল গয়না পরাই নয়, ঘরে গহনা কোথায় এবং কীভাবে রাখা হচ্ছে, সেটিও জীবনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়।
বাস্তু মতে, শরীরে পরিধান করা প্রতিটি বস্তুই শক্তির সঙ্গে যুক্ত। গয়না যেহেতু সরাসরি শরীরের সংস্পর্শে থাকে, তাই তা ইতিবাচক বা নেতিবাচক শক্তির প্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে। অনেকেই জানেন না যে, কৃত্রিম গয়না ভুল দিকে বা ভুলভাবে রাখলে সংসারে অশান্তি, মানসিক চাপ কিংবা আর্থিক বাধার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়।
আরও পড়ুন- আগামী বছর কেমন কাটবে মেষ রাশির, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা, প্রেম, অর্থভাগ্যের ভবিষ্যৎ কী?
যদি আপনার কাছে দামি কৃত্রিম গয়না থাকে এবং আপনি সেগুলি দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে চান, তবে বাস্তু মতে সেগুলি ঘরের উত্তর দিকে রাখাই শুভ। উত্তর দিককে ধন ও সমৃদ্ধির দিক হিসেবে ধরা হয়। এই দিকে গয়না রাখলে সেগুলি দীর্ঘদিন ভালো থাকে এবং ঘরে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বজায় থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়। যদি আলমারিতে গয়না রাখেন, তবে চেষ্টা করুন আলমারিটি এমনভাবে রাখার, যাতে তার মুখ উত্তর বা পূর্ব দিকে থাকে।
আরও পড়ুন- তালা দিয়েই খুলে যাবে ভাগ্যের দরজা, দূর হবে বাধা ও অর্থসঙ্কট
প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য যে কৃত্রিম গয়না যেমন কানের দুল, চুড়ি বা লকেট ব্যবহার করা হয় এবং যেগুলি ঘন ঘন বদলানো হয়, সেগুলি রাখার জন্য উত্তর-পশ্চিম দিককে তুলনামূলকভাবে ভালো বলা হয়। এই দিক পরিবর্তনও গতিশীলতার প্রতীক। ফলে নিয়মিত বদলানো গয়নার জন্য এই দিক উপযোগী বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন- ঘরের দেওয়ালে কেমন আকৃতির ঘড়ি ঝোলানো শুভ? সময় এগিয়ে রাখা কি অশুভ, কী জানালেন জ্যোতিষী?
বাস্তুমতে গয়নার পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয়, অপরিষ্কার বা নোংরা গয়না নেতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করে। যেহেতু কৃত্রিম গয়না অনেক সময় ঘাম, ধুলো ও ময়লার সংস্পর্শে আসে, তাই নিয়মিত সেগুলি পরিষ্কার করা জরুরি। পরিষ্কার গয়না শুধু দেখতে ভালোই নয়, বরং ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বজায় রাখতেও সহায়ক বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন- মাসের ১০ দিনেই পকেট ফাঁকা? এই টিপস মানলেই বদলাবে অর্থভাগ্য, দূর হবে টাকার টান!
ভাঙা, মরিচা ধরা বা ক্ষতিগ্রস্ত কৃত্রিম গয়না পরা বাস্তু মতে অশুভ। এমন গয়না নেতিবাচক শক্তি বাড়াতে পারে বলেও বিশ্বাস করা হয়। যদি কোনও গহনা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মেরামত করা সম্ভব হয়, তবে তা ঠিক করে নেওয়ার পরেই ব্যবহার করা উচিত। তবে যদি গয়নাটি ব্যবহারযোগ্য না থাকে, তাহলে সেটি পরিহার করাই ভালো।
অনেক বাস্তু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, গয়না কখনও বাথরুম বা শোবার ঘরের মেঝেতে রাখা উচিত নয়। এতে শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। গহনা সবসময় একটি নির্দিষ্ট বাক্স বা আলমারিতে রাখা ভালো, যাতে তা সুরক্ষিত থাকে এবং শক্তির দিক থেকেও ভারসাম্য বজায় থাকে।
কৃত্রিম গহনার ক্ষেত্রেও নিয়মিত অপ্রয়োজনীয় বা পুরনো গহনা ঘরে জমিয়ে না রাখাই ভালো। বাস্তু মতে, অচল বা অব্যবহৃত জিনিস ঘরে জমে থাকলে তা নেতিবাচক শক্তির সৃষ্টি করে। তাই যেসব গহনা আর ব্যবহার করা হয় না, সেগুলি সরিয়ে দেওয়া বা দান করে দেওয়া ভালো বলে মনে করা হয়।
সবশেষে বলা যায়, কৃত্রিম গয়না যতই সাধারণ মনে হোক না কেন, বাস্তু দৃষ্টিকোণ থেকে তার সঠিক ব্যবহার ও সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক দিকে গয়না রাখা, পরিষ্কার রাখা এবং ভাঙা গয়না এড়িয়ে চললে মানসিক শান্তি ও ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে এগুলি বিশ্বাস ও লোকাচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ধারণা, তাই বাস্তব জীবনে প্রয়োগের আগে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
দাবিত্যাগ
উল্লেখ করা প্রয়োজন, এই তথ্যগুলি বিভিন্ন বাস্তুগ্রন্থ, বিশ্বাস ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর উদ্দেশ্য শুধুমাত্র তথ্য প্রদান। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রাসঙ্গিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us