/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/03/wheat-flour-lamp-2026-02-03-16-15-49.jpg)
Wheat Flour Lamp: এই প্রদীপ জ্বালালেই গ্রহ হবে শান্ত।
Wheat Flour Lamp: বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানো ভারতীয় সংস্কৃতিতে শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি শুভ শক্তি ও ইতিবাচকতার প্রতীক। সকাল ও সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানোর রীতি বহু প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে। সাধারণত বেশির ভাগ বাড়িতেই কাঁসা, পিতল, তামা কিংবা মাটির প্রদীপ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্র ও জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, এই প্রচলিত প্রদীপগুলির বাইরে আরও একটি বিশেষ প্রদীপ রয়েছে, যা নিয়মিত জ্বালালে সংসারে সুখ, শান্তি ও সৌভাগ্য স্থায়ী হয়।
কীভাবে তৈরি হয় এই বিশেষ প্রদীপ?
এই বিশেষ প্রদীপটি তৈরি হয় গমের আটা দিয়ে। গমের তৈরি আটার প্রদীপকে শাস্ত্রে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। গমকে মা অন্নপূর্ণার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। অন্ন, সমৃদ্ধি এবং জীবনের ধারাবাহিকতার সঙ্গে গমের গভীর যোগ রয়েছে। সেই কারণে গমের আটা দিয়ে তৈরি প্রদীপে যখন আলো জ্বলে ওঠে, তখন তা শুধু ঘর আলোকিতই করে না, বরং সংসারে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহও বৃদ্ধি করে।
আরও পড়ুন- রাতে ভয়ঙ্কর স্বপ্নে ঘুম ভেঙে যায়? জ্যোতিষ মতে কিন্তু কিছু ভয়াল স্বপ্নই আসন্ন সুদিনের ইঙ্গিত!
শাস্ত্র মতে, আটার প্রদীপ মাটির প্রদীপের থেকেও বেশি পবিত্র। কারণ মাটির প্রদীপ ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া হয়, কিন্তু আটার প্রদীপ পুজোর শেষে প্রকৃতির মধ্যেই ফিরে যায়। এতে পরিবেশের কোনও ক্ষতি হয় না। পাশাপাশি বিশ্বাস করা হয়, আটার প্রদীপ জ্বালালে দেবী লক্ষ্মী ও মা অন্নপূর্ণার কৃপা সংসারে বজায় থাকে।
আরও পড়ুন- ২ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারির সাপ্তাহিক প্রেম রাশিফল, কোন রাশির জীবনে আসবে প্রেমের মোড়?
মনোস্কামনা পূরণের জন্য আটার প্রদীপ অত্যন্ত কার্যকর বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। গমের আটা ও সামান্য জল মিশিয়ে একটি মণ্ড তৈরি করে পঞ্চমুখী প্রদীপ বানাতে হয়। পরপর পাঁচটি মঙ্গলবার হনুমান মন্দিরে গিয়ে সেই প্রদীপ জ্বালিয়ে বজরংবলির কাছে নিজের মনের ইচ্ছা জানালে ধীরে ধীরে সেই ইচ্ছা বাস্তবের পথে এগোয়। বিশ্বাস করা হয়, এতে ভক্তের সংকল্প শক্তিশালী হয় এবং মানসিক জড়তা কেটে যায়।
আরও পড়ুন- ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের রাশিফল, কারা পাবেন সাফল্য, কারা পড়বেন চাপে?
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, কোষ্ঠীতে গ্রহের অশান্তি জীবনের নানা সমস্যার কারণ। এই গ্রহ শান্ত করার অন্যতম সহজ উপায় হল আটার প্রদীপ। শনি গ্রহ শান্ত করতে প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার হনুমান মন্দিরে আটার প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত শুভ। আবার অগ্নিকারক গ্রহ মঙ্গল শান্ত করার জন্য প্রতিদিন বাড়িতে আটার প্রদীপে চামেলির তেল দিয়ে প্রদীপ জ্বালানোর নিদান দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত এই কাজ করলে গ্রহের নেতিবাচক প্রভাব ক্রমশ কমে আসে।
আরও পড়ুন- ফেব্রুয়ারিতে কর্মক্ষেত্রে কারা সাফল্যের শীর্ষে, আর কোন রাশিকে পড়তে হবে জটিলতায়?
বর্তমান সময়ে ঋণের বোঝা বহু মানুষের জীবনের বড় সমস্যা। শাস্ত্র মতে, ঋণমুক্তির জন্য তুলসীমঞ্চে আটার প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত ফলদায়ক। প্রতিসন্ধ্যায় নিষ্ঠাভরে তুলসীমঞ্চের সামনে আটার তৈরি প্রদীপ জ্বালালে ঋণ সংক্রান্ত জটিলতা কমতে শুরু করে। বিশ্বাস করা হয়, এতে আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে এবং ভবিষ্যতে নতুন করে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
আরও পড়ুন- ক্রাশের মনের কথা বুঝতে চান? মহাশিবরাত্রিতে এভাবে ব্রত পালন করে দেখুন
আর্থিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রেও আটার প্রদীপের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। গমের আটার সঙ্গে সামান্য হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে একটি প্রদীপ তৈরি করে দিনে দু’বার সর্ষের তেল দিয়ে জ্বালালে সংসারে লক্ষ্মীর কৃপা বৃদ্ধি পায়। আয় বৃদ্ধির নতুন পথ খুলে যায় এবং দীর্ঘদিনের অর্থকষ্ট দূর হয়।
অনেকের জীবনেই বিয়ে নিয়ে নানা বাধা দেখা যায়। বয়স বাড়লেও সম্বন্ধ স্থির হয় না বা নানা কারণে বিঘ্ন ঘটে। শাস্ত্র মতে, হলুদ মেশানো আটার প্রদীপে সামান্য ঘি দিয়ে প্রতিসন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালালে বিবাহ সংক্রান্ত সমস্যাগুলি দূর হতে থাকে। এই প্রদীপের ঘি যতক্ষণ শেষ না হয়, ততক্ষণ জ্বলতে দিতে হয়। বিশ্বাস করা হয়, এতে দাম্পত্য জীবনের পথে থাকা অদৃশ্য বাধাগুলি কেটে যায়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কাঁসা, পিতল বা মাটির প্রদীপের পাশাপাশি যদি নিয়মিত গমের আটার প্রদীপ ব্যবহার করা যায়, তবে তা সংসারে শান্তি, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করে। সহজ নিয়ম, কম খরচ এবং ঘরে বসেই করা সম্ভব হওয়ায় আটার প্রদীপ শাস্ত্রসম্মত এক অনন্য উপায় হিসেবে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us