/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/mumbai-attack-1-2025-11-26-11-35-51.jpg)
26/11 mumbai attack: মুম্বই হামলা।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/mumbai-attack-2-2025-11-26-11-36-04.jpg)
মুম্বই হামলা
26/11 mumbai attack: ২৬/১১ মুম্বই হামলা—এই তিনটি শব্দ শুনলেই এখনও মুম্বইয়ের বুক কেঁপে ওঠে। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর রাত। ভারতের আর্থিক রাজধানী যখন দিনের ব্যস্ততা কাটিয়ে একটু একটু করে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছিল, ঠিক তখনই সমুদ্রপথে ঢুকে পড়েছিল ১০ সশস্ত্র জঙ্গি। তারা একসঙ্গে আক্রমণ করেছিল শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা—ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস, লিওপোল্ড ক্যাফে, তাজ মহল প্যালেস হোটেল, ওবেরয় ট্রাইডেন্ট, কাজা চাবাড নারিম্যান হাউসে। আর, এর জেরে এটি হয়ে উঠেছিল ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/mumbai-attack-3-2025-11-26-11-36-35.jpg)
সেই রাতের আতঙ্ক
সেই রাতের আতঙ্ক শুরু হয়েছিল ছত্রপতি শিবাজি (CST) স্টেশনে। হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন এই স্টেশন দিয়ে, আর সেদিনও তাঁরা যাতায়াত করছিলেন। আচমকা গুলির শব্দে ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে নিরীহ যাত্রীদের ওপর স্বয়ংক্রিয় রাইফেল চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। কয়েক মিনিটের মধ্যে লুটিয়ে পড়েন বহু মানুষ। শহর তখনও বুঝতেই পারেনি তার ওপর কী ঝড় নেমে এসেছে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/mumbai-attack-4-2025-11-26-11-37-06.jpg)
লিওপোল্ড কাফে
এরপরই হামলার দ্বিতীয় কেন্দ্র লিওপোল্ড কাফে (Leopold Cafe)। জনপ্রিয় এই কাফে সেদিন সন্ধ্যায় ছিল খদ্দেরে ভরপুর। মাত্র কয়েক মিনিটে গুলিবর্ষণে প্রাণ হারান বেশ কয়েকজন। ক্যাফের দেওয়ালে আজও দেখা যায় সেই বুলেটের চিহ্ন—যেন ইতিহাসের সাক্ষী।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/mumbai-attack-5-2025-11-26-11-37-35.jpg)
তাজে হামলা
সবচেয়ে দীর্ঘ এবং ভয়াবহ ছিল তাজ হোটেলে হামলা (Taj Hotel Siege)। মুম্বাইয়ের প্রতীক, রাজকীয় সৌন্দর্যের প্রতিমূর্তি এই তাজ হোটেল রাতারাতি পরিণত হয়েছিল যুদ্ধের ময়দানে। দু’জন জঙ্গি টাওয়ার উইং ধরে ঢুকে পড়ে, আর দু’জন প্রবেশ করে প্যালেস উইংয়ের ঐতিহাসিক লা-প্যাট দরজা দিয়ে। ভিতরে যে অতিথিরা ছিলেন, তাঁদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো শুরু হয়। আগুন লাগানো হয় হোটেলের বিভিন্ন অংশে। ঘন ধোঁয়া, বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দ বিভীষিকা ছড়ায় রাতের তাজে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/mumbai-attack-6-2025-11-26-11-38-18.jpg)
অতিথি উদ্ধার অভিযান
প্রায় ৬০ ঘণ্টা ধরে চলেছিল অতিথিদের উদ্ধারের অভিযান। এনএসজি (NSG) কমান্ডো, মেরিন কমান্ডো, পুলিশ—সবাই মিলে লড়াই করেছিলেন ভিতরে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। টেলিভিশন স্ক্রিনে পুরো পৃথিবী দেখছিল এই মানবিক বিপর্যয়ের লাইভ দৃশ্য। তাজের চোখ ধাঁধানো গম্বুজের নীচে আগুনের লেলিহান শিখা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/mumbai-attack-7-2025-11-26-11-39-17.jpg)
করুণ অধ্যায়
নারিমান হাউস (Nariman House) বা চাবাড হাউস, ছিল এই হামলার এক করুণ অধ্যায়। ইজরায়েলি দম্পতি রাব্বি গ্যাব্রিয়েল হোল্টজবার্গ এবং তাঁর স্ত্রী রিভকার মৃত্যু গোটা বিশ্বকে হতবাক করেছিল। কমান্ডোদের অপারেশন ছিল কঠিন, কারণ ভিতরে ছিল নিরপরাধ ছোট্ট শিশু ও নানা দেশের মানুষ। বুলেটবিদ্ধ (riddled) দেওয়াল আজও সেদিনের সেই নির্মমতার সাক্ষ্য দেয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/mumbai-attack-8-2025-11-26-11-39-57.jpg)
হামলায় হতাহত
এই হামলায় মোট ১৬৬ জন মানুষ প্রাণ হারান, আহত হন ৩০০-রও বেশি। লস্কর-ই-তইবা (Lashkar-e-Taiba) নামের জঙ্গি সংগঠনের দ্বারা পরিচালিত পরিকল্পিত এই জঙ্গি হামলার উদ্দেশ্য ছিল ভারতকে অস্থিতিশীল করা, মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন ফেলা। কিন্তু, ভারত তার শক্তি হারায়নি। বরং মুম্বই শহর দেখিয়েছিল অসাধারণ সাহস, দ্রুত পুনরুদ্ধারের শক্তি এবং মানুষের প্রতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিকতা।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/mumbai-attack-9-2025-11-26-11-40-33.jpg)
ভোরেই ভিড়
হামলা শেষ হওয়ার পর পরদিন ভোরেই মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করে তাজ হোটেলের সামনে। কেউ মোমবাতি জ্বালিয়ে, কেউ জাতীয় পতাকা হাতে, কেউ নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে শহরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তগুলো প্রমাণ করেছিল—সন্ত্রাস শহরকে আঘাত করতে পারে, কিন্তু তার মনোবল দমিয়ে দিতে পারে না।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/mumbai-attack-10-2025-11-26-11-41-00.jpg)
আক্রান্ত হওয়ার বার্ষিকী
আজও ২৬/১১ হামলার বার্ষিকী (26/11 Anniversary) এলে মুম্বইয়ে নানা জায়গায় শ্রদ্ধা ও স্মরণানুষ্ঠান হয়। সিএসটি (CST)-এর প্ল্যাটফর্ম ৯-এ পুলিশ স্মৃতিফলকের সামনে মাথা নত করেন সহকর্মীরা। নারিম্যান হাউস আবার নতুন ভবন হিসেবে খুলেছে, কিন্তু দেয়ালে রেখে দেওয়া বুলেটের চিহ্ন ইতিহাসকে মনে করিয়ে দেয়। তাজ হোটেল আবার পুরো মহিমায় জেগে উঠেছে—কিন্তু সেদিন যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের পরিবারের শূন্যতা কখনও পূরণ হয়নি।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/mumbai-attack-11-2025-11-26-11-41-28.jpg)
ভুলতে নারাজ মুম্বই
২৬/১১ শুধু এক হামলা নয়; এটি মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকা ক্ষত, আবার সেই সঙ্গে মুম্বইয়ের হার না মানা চেতনার প্রতীকও। আজ যখন আমরা সেই রাতকে স্মরণ করি, তখন মুম্বইজুড়ে শুধু একটি কথাই ভেসে ওঠে, 'আমরা হার মানতে নারাজ।' (We Will Not Forget).
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us