/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/15/5-minute-walking-for-longevity-2026-01-15-14-20-21.jpg)
5 Minute Walking for Longevity: আয়ু বাড়াতে হাঁটার উপকারিতা বিরাট।
5 Minute Walking for Longevity: আধুনিক জীবনে দীর্ঘ আয়ু পাওয়ার কথা বললেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে কঠোর ডায়েট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে ঘাম ঝরানো কিংবা জীবনযাত্রায় বড়সড় পরিবর্তনের ছবি। কিন্তু বাস্তবে এই সব পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা অনেকের পক্ষেই কঠিন। ঠিক এই জায়গাতেই নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে সাম্প্রতিক একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা, যেখানে বলা হচ্ছে দিনে মাত্র পাঁচ মিনিটের একটি অভ্যাসও আয়ু বাড়াতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার্লস পারকিন্স সেন্টারের গবেষক ড. নিকোলাস কোমলের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ঘুম, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক কার্যকলাপে খুব সামান্য পরিবর্তন আনলেও তার প্রভাব পড়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপর। গবেষকদের মতে, প্রতিদিন পাঁচ মিনিট মাঝারি গতিতে হাঁটা বা শরীরচর্চা করলে মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
আরও পড়ুন- দ্রুত ওজন কমাতে চান? খাদ্যতালিকায় রাখুন এই জিনিসটি! ওজন নামবে হুড়মুড়িয়ে
এই গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর বাস্তবতা। এখানে এমন কোনও পরামর্শ দেওয়া হয়নি যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে খাপ খায় না। বরং বলা হয়েছে, যাঁরা একেবারেই ব্যায়াম করেন না, তাঁরাও যদি দিনে মাত্র পাঁচ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলেন, তাহলেও স্বাস্থ্যগত বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, মাঝারি গতিতে ঘণ্টায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বেগে হাঁটলেও মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় দশ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
আরও পড়ুন- ওজন কমানোর জন্য ঘি নাকি তেল বেশি কার্যকর? জানুন সঠিক উত্তর
এই গবেষণার জন্য ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ইউকে বায়োব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ষাট হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। গড়ে আট বছর ধরে তাঁদের স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রা এবং দৈনন্দিন অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের কবজিতে বিশেষ অ্যাক্সিলোমিটার পরিয়ে ঘুম এবং শারীরিক কার্যকলাপ পরিমাপ করা হয়েছিল। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করে প্রত্যেকের জন্য একটি খাদ্যের মানের স্কোরও নির্ধারণ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে
গবেষণার ফলাফলে দেখা গিয়েছে, যাঁরা দিনে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান, নিয়মিত মাঝারি থেকে প্রচণ্ড শারীরিক ব্যায়াম করেন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান, তাঁরা তুলনামূলকভাবে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকারীদের চেয়ে গড়ে নয় বছর বেশি সুস্থ জীবন কাটাতে পারেন। তবে গবেষকদের মূল জোর ছিল সেই মানুষগুলোর ওপর, যাঁরা হঠাৎ বড় পরিবর্তন আনতে পারেন না। তাঁদের জন্য ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তনই হতে পারে দীর্ঘায়ুর চাবিকাঠি। এমনটাই গবেষকরা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন- শীতকালে মুখে মুলতানি মাটি কীভাবে লাগালে ভালো? ফেসপ্যাক তৈরির সঠিক উপায় জেনে নিন
শুধু হাঁটা নয়, পর্যাপ্ত ঘুমও এই গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যাঁরা নিয়মিত কম ঘুমান, তাঁদের ক্ষেত্রে দিনে মাত্র পাঁচ মিনিট বেশি ঘুমও শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা বা দ্রুত হাঁটার মত দুই মিনিটের ছোট শারীরিক কার্যকলাপও দীর্ঘমেয়াদে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন- ভারতের নানা প্রান্তের আঞ্চলিক সংস্কৃতি উৎসব, এগুলো জীবনে একবার হলেও দেখা উচিত
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, যাঁরা দিনের বড় অংশ বসে কাটান, তাঁরা যদি প্রতিদিন অন্তত ত্রিশ মিনিট বসে থাকার সময় কমান, তাহলে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় সাত শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। এই তথ্যটি বিশেষভাবে আধুনিক অফিস কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তাঁদের জন্য, যাঁদের দিনের বেশিরভাগ সময় কমপিউটারের সামনে বসে কাটে।
ড. কোমলের মতে, দীর্ঘায়ুর জন্য জীবনযাত্রার প্রতিটি দিককে আলাদা করে না দেখে একটি সামগ্রিক প্যাকেজ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি। নিয়মিত হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস একসঙ্গে কাজ করলে তবেই তার পূর্ণ সুফল পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, বড় পরিবর্তনের চিন্তায় ভয় না পেয়ে ছোট এবং বাস্তবসম্মত অভ্যাস দিয়ে শুরু করাই সবচেয়ে বুদ্ধির কাজ।
এই গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন পেতে সব সময় বড় ত্যাগ স্বীকার করার দরকার হয় না। প্রতিদিনের রুটিনে মাত্র পাঁচ মিনিটের হাঁটা, সামান্য বেশি ঘুম এবং খাবারে একটু সচেতনতা—এই ছোট পরিবর্তনগুলিই ভবিষ্যতে যোগ করতে পারে জীবনের মূল্যবান কয়েকটি বছর। দীর্ঘায়ু আসলে কোনও দূরের স্বপ্ন নয়, বরং প্রতিদিনের ছোট সিদ্ধান্তের ফল।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us