/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/23/jagadish-chandra-bose-2025-11-23-01-40-13.jpg)
Jagadish Chandra Bose: জগদীশচন্দ্র বসু।
Jagadish Chandra Bose: আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর মৃত্যুবার্ষিকী (Death Anniversary) আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, কেমন করে এক সাধারণ বাঙালি যুবকের স্বপ্ন, অধ্যবসায় এবং ইচ্ছাশক্তি ভারতকে বিজ্ঞানের বিশ্বমানচিত্রে নতুন মর্যাদা এনে দিয়েছিল। জগদীশচন্দ্র বসুর আত্মজীবনী (Jagadish Chandra Bose Biography) শুধু একজন বিজ্ঞানীর জীবনকথা নয়। এটি সংগ্রাম, আত্মনিবেদন এবং মানবজাতির কল্যাণে বৈজ্ঞানিক ভাবনার এক অনন্য যাত্রা। ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করার ইচ্ছা নিয়েই তিনি ইংল্যান্ডের পথে যাত্রা করেছিলেন, কিন্তু ভাগ্য তাঁকে নিয়ে যায় অন্য পথে, যেখানে পৃথিবী পায় আধুনিক বিজ্ঞানের এক মহান আচার্যকে।
কঠিন পথে হেঁটে সাফল্য
১৮৮০ সালে বিলেতে পৌঁছানোর সময় থেকেই তাঁর পথচলা ছিল কঠিন। সমুদ্রযাত্রার সময় কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়ে তাঁর শরীর ভেঙে যায়। লন্ডনে পৌঁছে বারবার জ্বর, অসুস্থতা তাঁর ডাক্তারি পড়ায় বাধা সৃষ্টি করে। বিখ্যাত চিকিৎসক ডা. রিঙ্গার-সহ অনেকে তাঁকে সুস্থ করতে ব্যর্থ হন। শেষপর্যন্ত শিক্ষকরা পরামর্শ দেন—ডাক্তারি পড়া বন্ধ করতে হবে। তরুণ জগদীশচন্দ্রের স্বপ্ন যেন ভেঙে যায়। আর, এখানেই তাঁর জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
আরও পড়ুন- ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নতুন শব্দগুলো কী?
অসুস্থ দেহ নিয়ে হার মানেননি তিনি। বিজ্ঞানের পথে নতুন স্বপ্ন খুঁজে নেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেখানে তাঁর গভীর বিজ্ঞান-চর্চার সূচনা হয়। ক্রাইস্ট কলেজ (Christ’s College)–এ ভর্তি হয়ে তিনি পড়তে শুরু করেন পদার্থবিদ্যা ও উদ্ভিদবিদ্যা। তাঁর শিক্ষক ছিলেন কিংবদন্তি লর্ড র্যালে এবং চার্লস ডারউইনের পুত্র ফ্রান্সিস ডারউইন। তাঁদের সাহচর্যে জগদীশচন্দ্র বিজ্ঞানের সূক্ষ্ম রহস্য উপলব্ধি করেন। ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থাও ভালো হতে শুরু করে এবং ১৮৮৪ সালে ট্রাইপস (Tripos) পরীক্ষায় ভালো ফল করেন।
আরও পড়ুন- মিস ইউনিভার্স ফাতিমা বশের শৈশবের গল্প, শুনলে চোখে জল আসতে বাধ্য!
দেশে ফিরে বৈষম্যের তীব্র অভিজ্ঞতা তাঁর সামনে আসে। ভাইসরয় লর্ড রিপনের সুপারিশ সত্ত্বেও তাঁকে ইম্পিরিয়াল সার্ভিসে না নিয়ে ব্রিটিশ শাসকরা প্রভিন্সিয়াল সার্ভিসে পাঠাতে চাইছিল। কিন্তু তিনি এই অবিচার দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। পরে সরকারের ওপর চাপ বাড়লে তাঁকে বাধ্য হয়েই ইম্পিরিয়াল সার্ভিসে নিয়োগ করা হয়। ১৮৮৫ সালে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক হন। কিন্তু এখানেও বেতন বৈষম্যের জ্বালা তাঁকে থামাতে পারেনি। যতক্ষণ না সরকার ভারতীয় ও ব্রিটিশ অধ্যাপকদের বেতনের সমতা স্বীকার করেছে, ততদিন (৩ বছর) তিনি বেতন নেননি।
আরও পড়ুন- বাজার থেকে গাজর কিনতে ভুলবেন না, মিষ্টি নাকি তেতো বুঝবেন কীভাবে?
বিজ্ঞানী হিসেবে তাঁর প্রকৃত উত্থান শুরু হয় এখান থেকেই। রেডিও তরঙ্গ নিয়ে তাঁর পরীক্ষা (Radio Wave Experiment) ইউরোপের বৈজ্ঞানিক মহলে আলোড়ন ফেলে দেয়। মারকোনির আগে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ ও গ্রহণ করে তিনি বিশ্বকে দেখিয়ে দেন—ভারতের বিজ্ঞান গবেষণা বিশ্বমানের। কিন্তু ঔপনিবেশিক বৈষম্যের কারণে বিশ্ব তাঁকে যথাযথ সম্মান দিতে দেরি করেছিল। পরে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জগতে তাঁর কাজ প্রতিষ্ঠা পায়।
আরও পড়ুন- মাঝে মধ্যে, বিশেষ অনুষ্ঠানে সিগারেট খান! জানেন আপনার কী হতে পারে?
উদ্ভিদের জীবন, অনুভূতি ও স্পন্দন নিয়ে তাঁর উদ্ভিদের প্রতিক্রিয়ার গবেষণা (Plant Response Research) আজও বিশ্বের বিস্ময়ের বিষয়। তাঁর তৈরি ক্রেসকোগ্রাফ যন্ত্রের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে উদ্ভিদেরও অনুভূতি আছে, তারা আঘাত পেলে প্রতিক্রিয়া করে। এই আবিষ্কার শুধু উদ্ভিদবিদ্যাই নয়, আধুনিক বায়োফিজিক্সেও নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।
জগদীশচন্দ্র বসুর কাজকে শুধু বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তিনি ভারতীয় মেধাকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরেছিলেন। সেটাও এমন একটা সময়ে, যখন ভারত ছিল পরাধীন। তাঁর ব্যক্তিত্ব, কাজ, নৈতিক শক্তি—সবকিছু মিলিয়ে তিনি ছিলেন আধুনিক ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চার পথিকৃৎ। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের সঙ্গে মিলিতভাবে তিনি পরাধীন বাংলায় আধুনিক বিজ্ঞান চর্চার সোনালি অধ্যায় রচনা করেছিলেন। তিনি বারবার বলেছেন—মেধা, অধ্যবসায় এবং স্বাধীন চিন্তাই জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
আর, সেটা তিনি নিজের কাজের মাধ্যমে করেও দেখিয়েছেন। প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের পথ খুঁজে নিয়েছিলেন। ভারতকে বিজ্ঞানচর্চার মানচিত্রে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। যা শিখিয়েছে কঠিন সময় মানুষকে থামাতে পারে না; ইচ্ছাশক্তিই ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়। আর, এই সব কারণেই তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে প্রেরণা, দায়িত্ববোধ এবং আত্মবিশ্বাসের উৎস।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us