/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/04/actor-aditi-rao-hydari-2025-12-04-12-16-23.jpg)
Actor Aditi Rao Hydari: অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারি।
Actor Aditi-Rao-Hydari: বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারি শুধু তাঁর অভিনয় দক্ষতার জন্য নন, বরং তাঁর ফিটনেস, ফ্ললেস ফিগার এবং স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলের জন্যও ভক্তদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। ব্যস্ত শুটিং সূচি, রাতের শুট, ভ্রমণ—সবকিছুর মাঝেও তিনি নিজের শরীর এবং মনের যত্ন নিতে কখনই ভুল করেন না। তাঁর মতে, ফিটনেস মানে শুধু স্লিম হওয়া নয়, বরং শক্তিশালী এবং উজ্জীবিত থাকা। তাই তাঁর পুরো রুটিনই সাজানো রয়েছে ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার, যথাযথ ঘুম এবং মনের প্রশান্তির ওপর ভিত্তি করে।
অদিতির দিন সাধারণত ভোরের আলোতেই শুরু হয়। তিনি সকালবেলাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন, কারণ নীরব পরিবেশ ও সকালের শক্তি তাঁর ওয়ার্কআউটকে আরও ফলপ্রসূ করে তোলে। তবে ব্যস্ত দিন বা রাতের কাজের কারণে যদি সকাল মিস হয়ে যায়, তিনি রাতে হলেও ব্যায়াম করে নেন। তাঁর মতে, সময় নয়—ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি। এমনকী কঠিন দিনেও তিনি অন্তত ১০ মিনিট ব্যায়াম করার নিয়ম মেনে চলেন। এই ধারাবাহিকতা তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সবসময় সক্রিয় রাখে।
আরও পড়ুন- 'জীবনে কোনওদিন আরাম করার সুযোগ পাইনি,' বিস্ফোরক অভিনেত্রী সারা আলি খান
তাঁর ব্যায়ামের মূল আকর্ষণ সার্কিট ট্রেনিং। সপ্তাহে তিনবার তিনি ৩০ মিনিটের হাই-ইনটেনসিটি সার্কিট ট্রেনিং করেন। যা শরীরের ক্যালোরি দ্রুত পোড়াতে সাহায্য করে এবং স্ট্যামিনা বাড়ায়। এর সঙ্গে একদিন পর পর যোগব্যায়ামের অভ্যাসও রয়েছে। যোগব্যায়াম তাঁর নমনীয়তা, শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। নাচও তাঁর অন্যতম প্রিয় ফিটনেস ফর্ম। তিনি বিশ্বাস করেন, নাচ মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি দারুণ কার্ডিও ওয়ার্কআউট হিসেবেও কাজ করে। এ কারণেই প্রতিদিন একই ধরনের ব্যায়াম করার বদলে তিনি রুটিনে বৈচিত্র্য রাখেন। তাঁর মতে, একঘেয়েমি এনার্জি কমিয়ে দেয়, তাই পরিবর্তন ফিটনেসের জন্য খুবই জরুরি।
আরও পড়ুন- এই ছ’টি খাবার আমাদের হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকারক
অদিতির খাদ্যাভ্যাসও সমানভাবে স্বাস্থ্যকর ও ব্যালান্সড। হায়দ্রাবাদে জন্ম হওয়া সত্ত্বেও তিনি জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন দিল্লিতে এবং স্বভাবগতভাবেই তিনি নিরামিষাশী। তাঁর লাঞ্চ সাধারণত কুইনোয়া, ডাল, রুটি ও সবজি—একটি সম্পূর্ণ এবং পুষ্টিকর প্লেট। ব্রেকফাস্টে তিনি হালকা দক্ষিণ ভারতীয় খাবার যেমন ইডলি, উপমা বা ধোসা পছন্দ করেন। মাঝে মাঝে ডিম খান। কারণ, এটি ওয়ার্কআউট-পরবর্তী শরীরের জন্য ভালো প্রোটিন।
আরও পড়ুন- কীভাবে সহজে আপনার শরীর পেতে পারে ভিটামিন বি১২, জানুন চিকিৎসকদের মত
তবে তাঁর সবচেয়ে আকর্ষণীয় অভ্যাস হল—নিজেকে কখনও বঞ্চিত না করা। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন, 'যদি আমি চকলেট বা পানিপুরি খেতে চাই, আমি খাবই। আত্মাকে খুশি রাখা খুবই দরকার।' অর্থাৎ তিনি ‘গিল্ট-ফ্রি ইটিং’ মানসিকতায় বিশ্বাসী। খাবার নিয়ে অযথা চাপ না নিয়ে তিনি বরং শরীরের চাহিদা ও মনের সুখ—দুটিকেই গুরুত্ব দেন।
আরও পড়ুন- রং ছাড়াই ৫ মিনিটে সহজে চুল করুন কালো, ব্যবহার করুন রান্নাঘরের এই উপাদান
তাঁর রাতের খাবার সাধারণত হালকা এবং সহজপাচ্য। তিনি খুব রাতে খেতে পছন্দ করেন না, সাধারণত সন্ধ্যা ৬টা ৩০–৭টার মধ্যেই ডিনার সেরে ফেলেন। তবে সুযোগ-সুবিধা বা শুটিং সময় অনুযায়ী কখনও এটি পরিবর্তিত হতে পারে। তাঁর রাতের খাবারে মাছ, স্যুপ, গ্রিলড চিকেন, কাবাব বা মুরগির কাটলেটের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার থাকে। এগুলো শুধু পেটই ভরায় না, বরং শরীরকে অযথা ভারী হতেও দেয় না।
অদিতির রহস্য
অদিতির পুরো জীবনযাত্রা দেখে বোঝা যায়, তিনি কোনও কঠোর ডায়েট মেনে চলেন না। চরম মানসিক চাপে থাকাও পছন্দ করেন না। বরং তিনি ব্যালান্সড জীবনযাত্রায় বিশ্বাস করেন। ব্যায়ামে নিয়মানুবর্তিতা, সুষম খাবার, মনের শান্তির জন্য যোগব্যায়াম এবং প্রয়োজন হলে নিজের পছন্দসই আনন্দ—এই সহজ বিষয়গুলোই তাঁকে একটি শক্তিশালী ও সুস্থ জীবনযাপন পালন করতে সাহায্য করে।
আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই ফিটনেস নিয়ে নানা ভুল ধারণা পোষণ করেন—যেমন কঠিন ডায়েট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে থাকা অথবা নিজের ওপর অযথা চাপ দেওয়া। অদিতির রুটিন এই ধারণাকে বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, সপ্তাহে ৩ দিন ৩০ মিনিটের সঠিক ব্যায়াম, যোগাসন, নাচ, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং মানসিক সুস্থতাকে গুরুত্ব দিলে খুব সহজেই শরীর স্লিম, শক্তিশালী এবং তরতাজা রাখা সম্ভব। আর, এসব কারণেই অদিতি রাও হায়দারি আজ বহু মানুষের ফিটনেস অনুপ্রেরণা। তাঁর রুটিন মেনে চললে যে কেউ নিজের শরীরকে তরতাজা এবং ফিট বানিয়ে ফেলতে পারবেন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us