/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/08/afternoon-sleep-1-2025-12-08-20-35-05.jpg)
Afternoon Sleep: দুপুরের ক্লান্তি।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/08/afternoon-sleep-2-2025-12-08-20-35-16.jpg)
জৈবিক পরিবর্তন
Afternoon Sleep: দিনের ব্যস্ততার মাঝে দুপুরবেলা হঠাৎ এমন একটি সময় আসে যখন শরীর যেন নিজে থেকেই ঢলে পড়তে চায়। দুপুর ১টা থেকে ৩টার এই সময়কে অনেকে ‘ঘুমঘুম ভাব’ হিসেবে দেখলেও চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে শরীরের জৈবিক একটি বড় পরিবর্তন। এটি কেবল ক্লান্তির বিষয় নয়, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ ছন্দ, হরমোন, রক্তসঞ্চালন এবং মেটাবলিজম—সবকিছুকে একসঙ্গে প্রভাবিত করে এমন একটি প্রাকৃতিক ধস।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/08/afternoon-sleep-3-2025-12-08-20-35-37.jpg)
ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ে
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুপুরের খাবারের পর শরীর হজমে মনোযোগ দেয়। খাবার ভেঙে শক্তি তৈরি করতে গিয়ে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ে এবং রক্তসঞ্চালনের একটি বড় অংশ পেটে কেন্দ্রীভূত হয়। ফলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ সামান্য কমে গিয়ে চোখ ভারী লাগে এবং শরীর ধীরে ধীরে ঢিলে হয়ে আসে। এ ছাড়া সার্কাডিয়ান রিদমের প্রাকৃতিক বক্ররেখা অনুযায়ী দুপুরেই এনার্জি লেভেল কমে, যা জৈবিকভাবে সবার জন্যই স্বাভাবিক।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/08/afternoon-sleep-4-2025-12-08-20-35-56.jpg)
হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন
চিকিৎসক মুকেশ বাত্রার মতে, দুপুর ১টা থেকে ৩টার সময় আমাদের শরীর সবচেয়ে বেশি ‘বায়োলজিক্যালি চ্যালেঞ্জড’ অবস্থায় পৌঁছে যায়। কারণ এই সময়ে রক্তসঞ্চালন সামান্য কমে যায়, শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা নেমে আসে, হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটে, মাইক্রোসার্কুলেশন ধীর হয়ে যায়। এর প্রভাব শুধু শক্তিহীনতা নয়; ত্বকও নিস্তেজ দেখায়, চোখের নীচে ক্লান্ত ভাব আসে এবং ব্রণের প্রবণতাও বাড়তে পারে। এই অবস্থাকে বলা হয় ‘পোস্টপ্র্যান্ডিয়াল ডিপ’, অর্থাৎ খাবারের পর শরীরের প্রাকৃতিক ধীরগতি।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/08/afternoon-sleep-5-2025-12-08-20-36-16.jpg)
মেলাটোনিন হরমোন
পুষ্টিবিদ লভনীত বাত্রা বলছেন, দুপুরে ঘুমঘুম ভাব হওয়া সব সময় স্বাভাবিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি আপনার খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের রুটিন এবং জীবনযাত্রার সংকেত। যারা দুপুরে অতিরিক্ত লবণ বা বেশি কার্বোহাইড্রেট খেয়ে ফেলেন, তাঁদের ইনসুলিন দ্রুত বেড়ে যায়, ফলে হঠাৎ শক্তি বাড়লেও পরে দ্রুত কমে গিয়ে ঝিমুনি চলে আসে। রাত জেগে স্ক্রিনে সময় কাটানো বা খারাপ ঘুমের মান পরদিন দুপুরে আরও ঝিমুনি তৈরি করে। এর সঙ্গে মেলাটোনিন হরমোনের প্রাকৃতিক কার্যক্রমও যুক্ত হয়, যা দুপুরে সামান্য সক্রিয় হয়ে শরীরকে বিশ্রামের দিকে ঠেলে দেয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/08/afternoon-sleep-6-2025-12-08-20-36-41.jpg)
দুপুরে ঘুম ঘুম ভাব
লভনীত বাত্রা সতর্ক করে বলেন, দুপুরে ঘুম ঘুম ভাব এড়াতে হলে কখনই সকালের টিফিন বাদ দেওয়া উচিত নয়। বরং সকালেই জটিল কার্বোহাইড্রেটযুক্ত টিফিন খেলে দুপুরে ইনসুলিনের ওঠানামা কম হয় এবং শরীর স্থিতিশীল থাকে। মিলেটের পোরিজ, ব্রাউন রাইস পোহা, ব্রাউন রাইস ইডলি বা ডোসা—এসব খাবার দীর্ঘক্ষণ শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/08/afternoon-sleep-7-2025-12-08-20-37-05.jpg)
অস্থায়ী শক্তি
দুপুরের ঝিমুনি পুরোপুরি এড়ানোর জন্য শরীরকে ‘অস্থায়ী শক্তি’ নয়, বরং ‘স্থিতিশীল শক্তি’ দিতে হয়। তাই এই সময়ে চা, বিস্কুট, সফট ড্রিংক, প্যাকেটজাত টিফিন বা অতিরিক্ত কফি খাওয়া বিপরীত প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। এগুলো দ্রুত গ্লুকোজ বাড়ায়, আবার হঠাৎ কমিয়ে দেয়। এর ফলে শক্তি কমে গিয়ে আরও ক্লান্তি আসে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us