/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/07/air-pollution-1-2025-12-07-22-38-11.jpg)
Air Pollution Effect: বায়ুদূষণের প্রভাব।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/07/air-pollution-2-2025-12-07-22-38-25.jpg)
বায়ুদূষণের প্রভাব
Air Pollution Effect: দূষিত বাতাস আমাদের স্বাস্থ্যকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত করে, তেমনি নিয়মিত ব্যায়াম করার পর যে উপকারগুলো স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায়, সেগুলিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে যে বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব ব্যায়ামের সময় আরও বেশি তীব্র হয়, কারণ সেই সময় শরীর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং একইসঙ্গে দূষিত কণা গভীরভাবে ফুসফুসে ঢুকে পড়ে। শহরাঞ্চলে যাদের ব্যায়ামের প্রধান মাধ্যম হল পার্কে দৌড়ানো, সাইক্লিং বা আউটডোর জগিং, তাঁদের শরীরে এ প্রভাব আরও বেশি দেখা যায়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/07/air-pollution-3-2025-12-07-22-39-18.jpg)
সমস্যা যেভাবে তৈরি হয়
ব্যায়াম সাধারণত ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ায়, হার্টকে শক্তিশালী করে এবং রক্তসঞ্চালন উন্নত করে। কিন্তু যখন বাতাসে নাইট্রোজেন ডাই–অক্সাইড বা ওজোনের মাত্রা বেশি থাকে, তখন ব্যায়ামের সময় দ্রুত শ্বাস নেওয়ার ফলে এসব কণাগুলো সরাসরি ফুসফুসের গভীরে চলে যায়। এতে শ্বাসনালিতে প্রদাহ তৈরি হয় এবং ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যায়। এই প্রদাহের কারণে ব্যায়াম করতে গেলে বুক ভারি লাগে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে যাঁরা নিয়মিত দূষিত বাতাসে দৌড়ান, তাঁদের ফুসফুসের গ্রোথ কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/07/air-pollution-4-2025-12-07-22-39-47.jpg)
উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি
শুধু শ্বাসযন্ত্র নয়, হার্টেও এর প্রভাব পড়ে। সাধারণভাবে ব্যায়াম হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে, রক্তচাপ কমায় এবং রক্তনালিগুলিকে নমনীয় রাখে। কিন্তু বায়ুদূষণ শরীরের ভেতরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে, রক্তনালি সংকুচিত করে এবং রক্ত ঘন করে ফেলে। ফলে ব্যায়ামের পর যে কার্ডিওভাসকুলার উপকারিতা পাওয়া উচিত, তার একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। এমনকী দূষিত পরিবেশে ব্যায়াম করলে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/07/air-pollution-5-2025-12-07-22-40-16.jpg)
ব্যায়াম–পরবর্তী রিকভারি
এছাড়াও দূষিত বাতাস ব্যায়াম–পরবর্তী রিকভারি কমিয়ে দেয়। ব্যায়ামের পর পেশিগুলো স্বাভাবিকভাবেই সামান্য ইনফ্ল্যামেশন অনুভব করে, যা পরে পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু বায়ুদূষণ সেই ইনফ্ল্যামেশনকে আরও তীব্র করে তোলে এবং শরীরে অতিরিক্ত রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেন স্পেসিস (Reactive Oxygen Species) তৈরি করে। এর ফলে পেশির পুনরুদ্ধারের সময় বেড়ে যায়, ব্যথা বেশি থাকে এবং শরীর পরবর্তী সেশনে আগের মত পারফর্ম করতে পারে না। দীর্ঘমেয়াদে এটি ফিটনেস প্রোগ্রেস (Fitness Progress)–কে মন্থর করে দেয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/07/air-pollution-6-2025-12-07-22-40-51.jpg)
দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি
যাঁদের অ্যাজমা, অ্যালার্জি বা শ্বাসজনিত সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ঝুঁকি আরও বেশি। সামান্য দৌড়ানো বা দ্রুত হাঁটলেও শ্বাসকষ্ট, কাশি, বুক ধড়ফড় করার মত ঘটনা বাড়তে পারে। এতে অনেকেই নিয়মিত ব্যায়াম করতে ভয় পান এবং ফিটনেস রুটিন ভেঙে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও ক্ষতি করে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/07/air-pollution-7-2025-12-07-22-41-39.jpg)
দূষণের কারণে মানসিক চাপ
দূষণের কারণে মানসিক চাপও বাড়তে পারে। হু জানাচ্ছে যে দূষিত বাতাসের নাইট্রোজেন ডাই–অক্সাইড কণা মস্তিষ্কে নিউরো–ইনফ্ল্যামেশন তৈরি করে, যা মানসিক শক্তি কমিয়ে দেয়। এর ফলে ব্যায়াম করতে গেলে মনোযোগ কমে এবং মোটিভেশন কমে যায়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/07/air-pollution-8-2025-12-07-22-42-16.jpg)
সমাধান
তবে সমাধানও আছে। দূষণের সময়ে আউটডোর ব্যায়ামের পরিবর্তে ইনডোর ওয়ার্কআউট, যোগব্যায়াম, স্টেশনারি সাইক্লিং, স্কিপিং বা ট্রেডমিলে দৌড়ানো ভালো। মাস্ক ব্যবহার করা এবং ব্যায়ামের আগে–পরে পর্যাপ্ত জল পান করা শরীরকে অনেকটাই সুরক্ষা দিতে পারে। দূষণ বাড়লে জানালা বন্ধ করে ইনডোর জোন তৈরি করাও উপকারি। নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, তবে পরিবেশের দূষণ বিবেচনায় রেখে সঠিক সময়ে, সঠিক স্থানে ব্যায়াম করা আরও গুরুত্বপূর্ণ।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us