/indian-express-bangla/media/media_files/2025/07/01/beer-after-whisky-health-risks-2025-07-01-21-36-08.jpg)
Hiccups After Drinking: মদ্যপানের পর অনেকেরই হেঁচকির সমস্যা বাড়ে।
Alcohol-Induced Hiccups: রাতের পার্টি বা সাপ্তাহিক আড্ডায় মদ্যপানের পর অনেকেই হঠাৎ টের পান— বারবার হেঁচকি উঠছে, আর থামছেই না। কেউ কেউ মজার ছলে বলেন, 'দেখ, মদ মাথায় উঠে গেছে!' কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই হেঁচকি মোটেই মজার ব্যাপার না। কেন অতিরিক্ত মদ্যপানের পর হেঁচকি ওঠে, সেটাই জানালেন বেঙ্গালুরুর গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. প্রশান্ত বি গান্ধী।
ডা. গান্ধীর ভাষায়, 'হেঁচকি একটি জটিল প্রতিবর্ত ক্রিয়া। এতে মূল ভূমিকা নেয় ফ্রেনিক ও ভ্যাগাস স্নায়ু, মস্তিষ্কের ব্রেনস্টেমে থাকা হেঁচকি-কেন্দ্র এবং ডায়াফ্রাম।' যখন এই স্নায়ুগুলি উত্তেজিত বা জ্বালাযুক্ত হয়, তখন ডায়াফ্রাম হঠাৎ সংকুচিত হয় এবং এক মুহূর্তের জন্য শ্বাস বন্ধের মত অবস্থার সৃষ্টি হয়— এটিই হেঁচকি।
আরও পড়ুন- দোকানের রুম ফ্রেশনারের দরকার নেই, এই কায়দায় ঘর রাখুন সুগন্ধে ভরপুর!
অ্যালকোহল শরীরে প্রবেশ করলে তিনটি বড় পরিবর্তন ঘটায়। তা হল- ১) পাকস্থলীর প্রসারণ (Gastric Distension), ২) অ্যাসিড নিঃসরণ বৃদ্ধি ও মিউকোসাল জ্বালা (Mucosal Irritation), ৩) স্নায়বিক প্রভাব বা (Central Nervous System Modulation)। এই তিনটি কারণ একত্রে 'নিখুঁত ঝড়' তৈরি করে — যার ফলেই মদ্যপানের পরে হেঁচকি উঠতে শুরু করে। ডা. গান্ধী ব্যাখ্যা করে বলেছেন, 'যখন কেউ দ্রুত বা অতিরিক্ত মদ পান করেন, তখন পাকস্থলি গ্যাস ও তরলের জেরে ফুলে ওঠে। এই যান্ত্রিক প্রসারণ ভ্যাগাস স্নায়ুকে উত্তেজিত করে, তার ফলেই হেঁচকি হয়।'
আরও পড়ুন- কলকাতার ইকো পার্কে চালু হতে চলেছে ভিস্তা ডোম কোচ, কাচের মধ্যে দিয়ে নিন পার্ক ঘোরার আনন্দ!
বিয়ার, স্পার্কলিং ওয়াইন বা শক্ত সেল্টজারের মতো কার্বনেটেড ড্রিঙ্কস হেঁচকির জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। এগুলিতে থাকা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস পাকস্থলিতে বুদবুদ তৈরি করে, যা ফোলাভাব বাড়িয়ে স্নায়ুতে চাপ ফেলে। ফলে ডায়াফ্রামের স্নায়ু অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে হেঁচকি তৈরি করে। অন্যদিকে হুইস্কি বা ভদকার মতো শক্তিশালী স্পিরিট খাদ্যনালী ও পাকস্থলির আস্তরণকে জ্বালাতন করে। ঠান্ডা তাপমাত্রার পানীয় হলে সেই প্রভাব বা সমস্যা (problem) আরও বাড়ে।
আরও পড়ুন- একটাও পাকা থাকবে না, ঝলমল করবে চুল, কাজে লাগান রান্নাঘরে প্রতিদিন ব্যবহার করা এই জিনিস
ডাঃ গান্ধীর মতে, 'খালি পেটে অ্যালকোহল পান করলে পাকস্থলির মিউকোসা সরাসরি জ্বলে যায়। আবার দ্রুত পান করলে শরীরে অতিরিক্ত বাতাস প্রবেশ করে, যা পেট ফোলায় এবং হেঁচকি বাড়ায়।' খাবার ছাড়া অ্যালকোহল সরাসরি গ্যাস্ট্রিক দেওয়ালে আঘাত করে— যেন এক 'শকওয়েভ'। এতে পাকস্থলির অ্যাসিড বৃদ্ধি পায়, এলইএস (LES, Lower Esophageal Sphincter) দুর্বল হয় এবং রিফ্লাক্সের সম্ভাবনা বাড়ে— যা হেঁচকির আরেকটি কারণ।
আরও পড়ুন- শীতে মেথি শাক দিয়ে বানান এই ৪ রকমের হেলদি রেসিপি!
বিয়ারের সঙ্গে ঝাল চাট বা তেলে ভাজা কাবাব খেলে হেঁচকি আরও তীব্র হতে পারে। ঝাল খাবারে থাকা রাসায়নিক (Capsaicin) স্নায়ুর প্রান্তগুলোকে উত্তেজিত করে। আর তৈলাক্ত খাবার পাকস্থলির হজম ধীর করে দেয়। অ্যাসিডিক খাবার (যেমন লেবু বা ভিনেগার) পাকস্থলির pH কমায়, রিফ্লাক্স ও হেঁচকির সম্ভাবনা বাড়ায়। অর্থাৎ, মদ এবং ঝাল আর তেল— এর 'কম্বিনেশন' অনিবার্য হেঁচকি ডেকে আনে।
যদি হেঁচকি কয়েক মিনিট বা ঘণ্টার মধ্যেই থেমে যায়, তবে চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু যদি তা ৪৮ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয় বা ঘুম, খাওয়া কিংবা দৈনন্দিন কাজে বাধা দেয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলেই চিকিৎসক জানিয়েছেন। ডা. গান্ধী সতর্ক করে বলেছেন, 'অবিরাম হেঁচকি স্নায়ুজনিত সমস্যা, ব্রেনস্টেম লেশন, স্ট্রোক, অথবা গ্যাস্ট্রিক রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।' বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অ্যালকোহল সেবন করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি আরও গুরুতর সংকেত হতে পারে।
কীভাবে হেঁচকি প্রতিরোধ করবেন?
খালি পেটে মদ্যপান করবেন না। ধীরে ধীরে পান করুন, মাঝেমাঝে জল পান করুন। কার্বনেটেড বা ঠান্ডা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। পান করার সময় ঝাল, টক বা তেলযুক্ত খাবার সীমিত রাখুন। হেঁচকি দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
মনে রাখতে হবে, অ্যালকোহল (Alcohol) স্বাদে আনন্দ দিলেও, শরীরে এটি জটিল স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। হেঁচকি তেমনই এক ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। যা বলে দেয়, শরীরের ভিতরে কিছু গণ্ডগোল হচ্ছে। তাই পরের বার পানীয় হাতে নেওয়ার আগে একবার ভেবে দেখুন — আপনার পাকস্থলী ও স্নায়ু কি প্রস্তুত আছে?
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us