/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/15/allergy-sinusitis-connection-2025-12-15-08-16-41.jpg)
Allergy Sinusitis Connection: অ্যালার্জি আর সাইনুসাইটিসের সম্পর্কটা কী?
Allergy Sinusitis Connection: শীতকাল আসলেই বাংলার ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সর্দির কারণ নাকি অ্যালার্জি। অথচ, এই সর্দির সঙ্গেই রয়েছে সাইনাসের গভীর সম্পর্ক। তাহলে কি অ্যালার্জি এবং সাইনাসের মধ্যে কোনও যোগসূত্র আছে?
অ্যালার্জি আর সাইনুসাইটিস
আসলে সাইনুসাইটিস আর অ্যালার্জি একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। দুটিই শারীরিক সমস্যা। অনেক মানুষ দীর্ঘদিন নাকের অ্যালার্জিতে ভুগলেও তাকে তেমন গুরুত্ব দেন না। কিন্তু বাস্তবে এই অ্যালার্জিই ধীরে ধীরে সাইনুসাইটিসের মতো জটিল সমস্যা তৈরি করে। নাক এবং সাইনাস আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই অংশে সামান্য সমস্যা হলেই তার প্রভাব গোটা শরীরে পড়ে।
আরও পড়ুন- মস্তিষ্কের সঙ্গে প্রতিদিনের এই কাজের অপ্রত্যাশিত যোগ, জানলে অবাক হবেন!
অ্যালার্জি হলে নাকের ভেতরের শ্লেষ্মা ঝিল্লি উত্তেজিত হয়। ধুলো, ধোঁয়া, পরাগরেণু, ছত্রাক, পোষা প্রাণীর লোম বা আবহাওয়ার পরিবর্তনের মত নানা কারণে অ্যালার্জি দেখা দেয়। শরীর এই সব জিনিসকে ক্ষতিকর মনে করে। এর ফলেই নাকের ভেতরে ফুলে যায়, অতিরিক্ত কফ তৈরি হতে শুরু করে। শুরুতে বিষয়টি নাক দিয়ে জল পড়া অথবা হাঁচির মত সাধারণ ব্যাপারেই আটকে থাকে, কিন্তু দীর্ঘদিন চলতে থাকলে পরিস্থিতি জটিল হয়।
আরও পড়ুন- ৫০ পেরোলেই দরকার নিউমোনিয়ার টিকা, কেন একথা বলছেন ফুসফুস বিশেষজ্ঞরা?
নাকের ভেতরের অংশ ফুলে গেলে সাইনাসের সঙ্গে যুক্ত ছোট পথগুলি ধীরে সংকুচিত হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় এই পথ দিয়েই বাতাস সাইনাসের ভেতরে চলাচল করে এবং জমে থাকা তরল বাইরে বের হয়ে যায়। কিন্তু অ্যালার্জির জন্য যখন এই পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন সাইনাসের ভেতরে কফ জমে। এই জমে থাকা কফ বেরোতে না পারার জন্যই সাইনাসের ভেতরে চাপ তৈরি হয়। আর, তা থেকে শুরু হয় ব্যথা। এভাবেই অ্যালার্জি থেকে দেখা দেয় সাইনুসাইটিসের সমস্যা।
আরও পড়ুন- সয়াবিন তেল কি স্বাস্থ্যকর, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
দীর্ঘদিনের অ্যালার্জি সাইনুসাইটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই অবস্থায় নাক ও সাইনাসের ভেতরের শ্লেষ্মা ঝিল্লি ফুলে যায়। সামান্য ঠান্ডা লাগা বা পরিবেশের পরিবর্তনে এই সমস্যা বাড়ে। অনেক ক্ষেত্রে সাইনাসের ভেতরে জমে থাকা কফে ঘটে জীবাণু সংক্রমণ। তখন পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। মাথার কপাল, চোখের চারপাশ বা গালের হাড়ে শুরু হয় তীব্র চাপ আর ব্যথা।
আরও পড়ুন- শীতকালে দিনে কতটা জল পান করা উচিত? জানুন, বিশেষজ্ঞরা কী বলেন
অ্যালার্জি থেকে হওয়া সাইনুসাইটিসের লক্ষণ ক্রমে প্রকাশ পায়। নাক প্রায় সব সময় বন্ধ থাকে। ঘন কফ বেরোয়। কখনও গলা দিয়ে কফ নামে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথা ভারী লাগে এবং অনেক সময় গন্ধ পাওয়ার ক্ষমতাও কমে যায়। কারও ক্ষেত্রে হালকা জ্বর, অবসাদ ও মনোযোগের অভাব দেখা দেয়। এই সব লক্ষণ দীর্ঘদিন চলতে থাকলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অনেকে ভাবেন বারবার সাইনুসাইটিস হলে শুধু সংক্রমণই তার একমাত্র কারণ। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর মূলে আসলে নিয়ন্ত্রণহীন অ্যালার্জি। অ্যালার্জি যদি সময়মতো ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে সাইনাসের সমস্যাও অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। তাই নাকের অ্যালার্জিকে কখনওই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
এই সমস্যা কমাতেই আমাদের নিয়মিত নাক পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। পরিষ্কার জল বা হালকা নোনাজল দিয়ে নাক ধোয়ার অভ্যাস সাইনাসের ভেতরে জমে থাকা কফ বের করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ধুলোবালি ও দূষণ এড়ানো, ঘর পরিষ্কার রাখা, ধোঁয়া থেকে দূরে থাকাও দরকার। যাঁদের অ্যালার্জির সমস্যা দীর্ঘদিনের, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us