Alopecia Disease Explained: অ্যালোপেসিয়া, আচমকা টাক পড়ে যায় কেন, কীভাবে চিনবেন এই রোগ আর আটকাবেনই বা কী করে?

Alopecia Disease Explained: অ্যালোপেসিয়া কী, কেন চুল পড়ে, এর লক্ষণ, ধরন, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায় কী? সহজ বাংলায় জেনে নিন অ্যালোপেসিয়া রোগ সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য।

Alopecia Disease Explained: অ্যালোপেসিয়া কী, কেন চুল পড়ে, এর লক্ষণ, ধরন, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায় কী? সহজ বাংলায় জেনে নিন অ্যালোপেসিয়া রোগ সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Alopecia Disease Explained: অ্যালোপেসিয়া রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।

Alopecia Disease Explained: অ্যালোপেসিয়া রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।

Alopecia Disease Explained: অ্যালোপেসিয়া বলতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় চুল পড়ার এমন একটি সমস্যা বোঝায়, যেখানে মাথা বা শরীরের যে কোনও অংশের চুল আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ঝরে যেতে পারে। সাধারণভাবে আমরা প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়াকে স্বাভাবিক বলে ধরে নিই, কিন্তু যখন তার চেয়ে অনেক বেশি চুল পড়ে এবং সেই অনুপাতে নতুন চুল গজায় না, তখন সেটি অ্যালোপেসিয়া হিসেবে চিহ্নিত হয়। এই সমস্যা পুরুষ ও মহিলা উভয়ের মধ্যেই দেখা যায় এবং যে কোনও বয়সেই শুরু হতে পারে, এমনকী শিশুদের ক্ষেত্রেও এই রোগ দেখা যায়।

Advertisment

পরিচিত ধরন

অ্যালোপেসিয়ার সবচেয়ে পরিচিত ধরন হল অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া, যা পুরুষদের ক্ষেত্রে পুরুষ-প্যাটার্ন টাক এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে মহিলা-প্যাটার্ন টাক নামে পরিচিত। এটি মূলত জেনেটিক ও হরমোনজনিত কারণে হয়ে থাকে। পরিবারের কারও যদি টাক পড়ার ইতিহাস থাকে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ধীরে ধীরে মাথার সামনের দিক বা ক্রাউন অংশের চুল পাতলা হয়ে যেতে থাকে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধরন হল অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা, যা একটি অটোইমিউন রোগ। এই ক্ষেত্রে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে নিজের চুলের ফলিকলকেই আক্রমণ করে। ফলে হঠাৎ করে মাথায় বা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গোলাকার টাক দাগ দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে এই চুল আবার গজায়, আবার কখনও সম্পূর্ণ মাথার চুল পড়ে গিয়ে অ্যালোপেসিয়া টোটালিস বা পুরো শরীরের লোম ঝরে গিয়ে অ্যালোপেসিয়া ইউনিভার্সালিস পর্যন্ত হতে পারে।

মানসিক চাপ, বড় অসুস্থতা, অস্ত্রোপচার, সন্তান প্রসব বা হরমোনের বড় পরিবর্তনের ফলে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম নামে এক ধরনের অ্যালোপেসিয়া দেখা যায়। এতে হঠাৎ করে প্রচুর চুল পড়ে, যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি সাময়িক এবং কিছু মাস পর চুল আবার গজাতে শুরু করে। এছাড়াও খুব আঁটসাঁট করে চুল বাঁধা, নিয়মিত টাইট পনিটেল বা বিনুনি করার কারণে ট্র্যাকশন অ্যালোপেসিয়া হতে পারে, যা বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

আরও পড়ুন- কর্তব্য পথে জমকালো প্রস্তুতি, শীতের কনকনানি উপেক্ষা করে মহড়ায় ব্যস্ত সশস্ত্র বাহিনী!

অ্যালোপেসিয়ার লক্ষণ হিসেবে সবচেয়ে আগে চোখে পড়ে অস্বাভাবিক হারে চুল পড়া। চিরুনি, বালিশ বা বাথরুমের মেঝেতে অতিরিক্ত চুল জমতে দেখা যায়। অনেকের মাথায় ছোট ছোট মসৃণ টাকের দাগ তৈরি হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে পুরো মাথার চুল পাতলা হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে নখেও পরিবর্তন দেখা যায়, যেমন নখে ছোট গর্ত বা খাঁজ তৈরি হওয়া। চুল পড়ার পাশাপাশি মানসিক প্রভাবও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, উদ্বেগ বা বিষণ্ণতায় ভোগার প্রবণতা বাড়ে।

আরও পড়ুন- ডায়েট ঠিকঠাক, কিন্তু রাত ১১টার পরে ঘুমালে কেন ওজন কমে না, জানুন বৈজ্ঞানিক কারণ

অ্যালোপেসিয়া নির্ণয়ের জন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ প্রথমে রোগীর সম্পূর্ণ চিকিৎসা ইতিহাস নেন এবং মাথার ত্বক পরীক্ষা করেন। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করে থাইরয়েড, আয়রন, ভিটামিন বা হরমোনের মাত্রা দেখা হয়। কিছু ক্ষেত্রে স্কাল্প বায়োপসি বা ট্রাইকোস্কোপির সাহায্য নেওয়া হয়, যাতে চুলের ফলিকলের অবস্থা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

আরও পড়ুন- নিপা ভাইরাস কী, লক্ষণ কতটা ভয়ংকর? চিকিৎসা ও প্রতিরোধে এগুলো জানা জরুরি

চিকিৎসার ক্ষেত্রে অ্যালোপেসিয়ার ধরন অনুযায়ী পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়। মিনোক্সিডিল একটি বহুল ব্যবহৃত ওষুধ, যা চুলের বৃদ্ধি উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে। ফিনাস্টেরাইড মূলত পুরুষদের প্যাটার্ন টাকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং এটি হরমোনজনিত চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটার ক্ষেত্রে কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন বা টপিকাল চিকিৎসা দেওয়া হয়। যাঁদের ক্ষেত্রে চুল স্থায়ীভাবে পড়ে গেছে, তাঁদের জন্য চুল প্রতিস্থাপন একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

আরও পড়ুন- ছদ্মবেশে বেলুড় মঠে ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের ছোটভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত

প্রতিরোধের দিক থেকে সুষম খাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক ও ভিটামিন গ্রহণ করলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম, মৃদু চুলের যত্ন এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক বা তাপ ব্যবহার এড়িয়ে চললে চুল পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। নিয়মিত সমস্যা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

অস্কার মঞ্চে অভিনেত্রী জেডা পিঙ্কেট স্মিথকে নিয়ে আলোচনার পর অ্যালোপেসিয়া রোগটি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় আসে। তিনি নিজেই প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে এই রোগের কারণে তাঁর মাথার চুল পড়ে গেছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, অ্যালোপেসিয়া শুধুই একটি শারীরিক সমস্যা নয়, এর সঙ্গে মানসিক এবং সামাজিক দিকও গভীরভাবে জড়িত।

Disease Alopecia