Amla Benefits: শীত পড়তেই খাচ্ছেন আমলকি, জানেন কীভাবে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার?

Amla Benefits: শীতে সর্দি-কাশি রুখতে অনেকেই প্রতিদিন আমলকি খান। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ এই ফলের বিরাট উপকারিতা। কখন খাবেন, কীভাবে খাবেন, সবকিছু বিস্তারিত জেনে নিন এখানে।

Amla Benefits: শীতে সর্দি-কাশি রুখতে অনেকেই প্রতিদিন আমলকি খান। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ এই ফলের বিরাট উপকারিতা। কখন খাবেন, কীভাবে খাবেন, সবকিছু বিস্তারিত জেনে নিন এখানে।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Amla Benefits: শীতকালে আমলকি খাওয়ার বিরাট উপকারিতা।

Amla Benefits: শীতকালে আমলকি খাওয়ার বিরাট উপকারিতা।

Amla Benefits: শীত এলেই সর্দি-কাশি, গলা বসে যাওয়া, ঠান্ডা লাগা বা দুর্বলতা—এসব সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ সময় অনেকেই নিজের ইমিউনিটি বাড়াতে বাড়িতে তৈরি বিভিন্ন রস বা টনিক পান করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল আমলা জুস (Amla Juice) বা আমলকির রস। আয়ুর্বেদে আমলকিকে ‘দিব্যফল’ বলা হয়, কারণ এত ছোট একটি ফলে রয়েছে বিপুল পরিমাণ পুষ্টিগুণ। বিশেষ করে শীতে এই রসের উপকারিতা আরও বেশি কার্যকর বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। প্রশ্ন হল—শীতকালে সত্যিই কি প্রতিদিন আমলকির রস পান করলে সর্দি-কাশি কমে? গবেষণা ও আয়ুর্বেদ—দুই ক্ষেত্রেই এর উত্তর ইতিবাচক। 

Advertisment

আমলকি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল

আমলকিতে থাকা প্রাকৃতিক ভিটামিন সি (Vitamin C) শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। একটি আমলকিতে কমলার তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে—যা ঠান্ডা লাগা বা ভাইরাল সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে। ভিটামিন সি-র এই উচ্চমাত্রা শীতের সময় নাক সর্দিতে ভরে যাওয়া, গলা খুসখুসে ভাব, কাশি হওয়ার প্রবণতা কমায়। ভিটামিন সি শরীরের কোষ মেরামত করে এবং শ্বাসনালিকে শক্তিশালী করে। তাই আয়ুর্বেদ ও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানে আমলকির রসকে শীতকালে সমৃদ্ধকারক জুস (Winter Immunity Booster) বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন- কমলালেবুর এই অংশটায় বিরাট উপকার, ফেলে দিয়ে বেশিরভাগ মানুষই বিরাট ভুল করেন!

Advertisment

শরীরকে উষ্ণ রাখতে আমলকির রসের কার্যকারিতা দেখে অনেকেই অবাক হন। কারণ, সাধারণত জুস শরীরকে ঠান্ডা করে। কিন্তু আমলকি একটি ত্রিদোষনাশক ফল—অর্থাৎ শরীরের ভেতরে তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখে। শীতে যখন বাত ও কফ বাড়তে থাকে, তখন আমলকি কফ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। ফলে সর্দি-কাশি কম হয়, শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ হয় এবং ঠান্ডা-বাত থেকে হওয়া মাথাব্যথাও কমে।

আরও পড়ুন- মুম্বই কাঁপিয়ে দিয়েছিল ভয়াবহ সন্ত্রাস! ফিরে দেখা ২৬/১১

প্রতিদিন আমলকির জুস (Amla Juice) পান করলে পাচনতন্ত্র শক্তিশালী হয়। এতে থাকা প্রাকৃতিক ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য, অম্বল, অম্ল ভাব, গ্যাস—এই সব সমস্যাকে কমায়। শীতে অনেকেই ভারী খাবার খান, তেল-মশলা বেশি খান, যার ফলে পাকস্থলিতে চাপ পড়ে। আমলকি লিভারকে ডিটক্স করতে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে। এতে বিপাকক্রিয়া (metabolism) বাড়ে এবং শরীরে জমে থাকা টক্সিন বের হয়ে যায়। ফলে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর।

আরও পড়ুন- শীতেও কি গ্রীষ্মের মত একটু বেশি রাতে ডিনার করেন? অজান্তেই ডাকছেন চরম বিপদ!

শুধু ইমিউনিটি বা হজমশক্তিই নয়, আমলকি দেহের বাহ্যিক সৌন্দর্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমলকিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলকে শক্তিশালী ও ঘন করে, চুল পড়া কমায় এবং মাথার ত্বককে পুষ্টি জোগায়। ত্বকেও এর প্রভাব স্পষ্ট—ত্বক উজ্জ্বল হয়, দাগ-ছোপ কমে, বলিরেখা পাতলা হয়। শরীরের ভেতরের প্রদাহও কমায় আমলকির রস, যা শীতকালের জয়েন্ট পেইন ও শরীরের কাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত অল্প পরিমাণ আমলকির রস পান করলে দীর্ঘমেয়াদে ত্বক, চুল এবং হাড়ের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

আরও পড়ুন- আধুনিক ভারতকে ব্যবসা শিখিয়েছিলেন বাঙালি রামদুলাল!

আমলকির রস ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও অত্যন্ত উপকারী বলে বিবেচিত। এতে থাকা ক্রোমিয়াম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে হালকা গরম জলের সঙ্গে আমলকির রস পান করলে রক্তে গ্লুকোজের ওঠানামা কমে এবং ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ে। শীতকালে ডায়াবেটিস রোগীদের সর্দি-কাশি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে, তাই আমলকি তাঁদের জন্যও অত্যন্ত কার্যকর।

এখন প্রশ্ন—আমলকির রস কখন পান করলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে? আয়ুর্বেদ মতে, সকালে খালি পেটে আমলকির রস (Amla Juice) পান করলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। কারণ তখন শরীর বেশি পুষ্টি শোষণ করতে পারে। মাত্র ১০–১৫ দিন নিয়মিত পান করলেই শরীর হালকা লাগে, পেট পরিষ্কার হয়, ঠান্ডা লাগা কমে, ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং শরীরের ক্লান্তি কমে যায়। তবে যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা খুব বেশি, তাঁরা সকালে খালিপেটে আমলকির রস পান করলে হালকা জ্বালাপোড়া অনুভব করতে পারেন—তাই সকালে টিফিনের পরে এটি খাওয়া যেতে পারে।

আমলকির রস বানানো খুবই সহজ। কয়েকটি তাজা আমলকি কেটে বিচি বাদ দিয়ে মিক্সারে ব্লেন্ড করুন। চাইলে সঙ্গে সামান্য আদা মেশাতে পারেন—এটি ইমিউনিটি আরও বাড়াবে। আধা গ্লাস জল মিশিয়ে ছেঁকে নিয়ে তাতে এক চা চামচ লেবুর রস দিন। লেবু ভিটামিন সি (Vitamin C)-র শোষণ বাড়ায়, তাতে এর উপকারিতা আরও বাড়ে। চাইলে তাতে একফোঁটা মধুও মেশাতে পারেন। এই রস ফ্রেশ অবস্থায় পান করাই সবচেয়ে ভালো।

সুতরাং শীতকালের সর্দি-কাশি এড়াতে প্রতিদিন আমলকির রস পান করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এতে ভিটামিন সি (Vitamin C), অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার, মিনারেল—সবকিছু রয়েছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে সুন্দর ত্বক, শক্তিশালী চুল, হজমশক্তির উন্নতি, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মত—অসংখ্য উপকারিতা লুকিয়ে আছে এই ছোট্ট ফলে। আর, এই সব কারণেই শীতে ইমিউনিটি শক্তিশালী রাখতে আমলকির জুস (Amla Juice) আজই আপনার ডায়েটে যুক্ত করুন।

benefits Amla