Ananta Singh: সূর্য সেনের বিপ্লবী সেনাদলের প্রধান, স্বাধীন ভারতেও জেলে ছিলেন ৮ বছর

Ananta Singh: চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখলের সফল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী বাহিনীই চট্টগ্রামকে চার দিন ব্রিটিশদের দখল থেকে মুক্ত রেখেছিল।

Ananta Singh: চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখলের সফল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী বাহিনীই চট্টগ্রামকে চার দিন ব্রিটিশদের দখল থেকে মুক্ত রেখেছিল।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Ananta Singh: অনন্ত সিং, কেউ বলেন বিপ্লবী, কেউ বলেন ডাকাত!

Ananta Singh: অনন্ত সিং, কেউ বলেন বিপ্লবী, কেউ বলেন ডাকাত!

Freedom Fighter Ananta Singh: চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের ইতিহাসে যে ক’জন নায়কের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে, অনন্ত সিং তাঁদের অন্যতম। সাহস, সাংগঠনিক দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা এবং বিপ্লবী চেতনার বিরল সমন্বয়ে তিনি উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় রচনা করেছিলেন। ১৯০৩ সালের ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে জন্ম নিয়েছিলেন অনন্ত সিং। শৈশব থেকেই ব্যতিক্রমী মেধা, শারীরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বের ঝলক দেখিয়েছেন তিনি। তাঁর পূর্বপুরুষ আগরা অঞ্চলের বাসিন্দা হলেও তাঁর শৈশব-কৈশোর কাটে চট্টগ্রামেই। খুব বেশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও তিনি দ্রুতই রাজনীতি ও বিপ্লবী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।

Advertisment

স্কুলে পড়াকালীনই সূর্য সেনের সংস্পর্শে

বিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়েই তিনি মাস্টারদা সূর্যসেনের সংস্পর্শে আসেন। সূর্যসেন তাঁর সাহসিকতা ও অদম্য স্পৃহা দেখে তাঁকে অত্যন্ত কাছের সহকর্মীর মর্যাদা দেন। এই সময় থেকেই অনন্ত সিং বিপ্লবীদলে যুক্ত হন এবং নিয়মিত পড়াশোনা কার্যত শেষ হয়ে যায়। তাঁর খেলাধুলা ও শরীরচর্চার অভ্যাস তাঁকে আরও শক্তিশালী করে তোলে এবং পরবর্তী সময়ে বিপ্লবী কাজকর্মে বিশেষভাবে সহায়তা করে। খুব অল্প বয়সেই তিনি রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতি সচেতন হয়ে ওঠেন এবং স্কুলের সহপাঠীদের নেতৃত্ব দিয়ে অসহযোগ আন্দোলনে টেনে আনেন। যদিও তিনি সেই আন্দোলনের ভাবধারার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল ছিলেন না, তবুও ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব তখন থেকেই তাঁর মধ্যে দৃঢ়ভাবে জেগে উঠেছিল।

আরও পড়ুন- 'সন্ন্যাসী রাজা'র গানে রাধাকান্ত লিখেও তাঁর প্রতিবাদে বদলে শশীকান্ত লিখতে বাধ্য হয়েছিলেন গীতিকার

Advertisment

বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে গিয়ে তিনি নিজেই বোমা ও কার্তুজ তৈরির কৌশল শিখে ফেলেন। তাঁর তৈরি বোমার ফর্মুলা একসময় অন্য নামে ছড়িয়ে পড়ে এবং সারা বাংলায় বিপ্লবীদের কাজে ব্যবহৃত হয়। অর্থসংস্থানের জন্য আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের অর্থ লুণ্ঠনের ঘটনায় তাঁর দলের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয় এবং পরবর্তীতে কিছুদিন পালিয়ে থাকার পর তিনি ধরা পড়েন। ১৯২৪ সালে আবারও গ্রেফতার হয়ে চার বছরের জেল খাটেন। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি বিপ্লবের কৌশল পরিবর্তন করেন এবং ব্যায়ামাগার স্থাপন করে যুবকদের গোপনে বিপ্লবে দীক্ষা দিতে শুরু করেন। তাঁর সংগঠনী ক্ষমতা ও পরিকল্পনা পরবর্তীকালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।

আরও পড়ুন- চিকিৎসকের পরিচয়ে অভিনয় সত্ত্বাকে ঢাকেননি, জন্মদিনে অভিনেতা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়কে স্মরণ

১৯৩০ সালের ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনে তিনি ছিলেন অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি। চারদিনের জন্য চট্টগ্রাম ব্রিটিশ শাসনমুক্ত হয়েছিল—এ ঘটনা ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অনন্য উদাহরণ। তবে আন্দোলনের এই সাফল্যের পর শাসক পক্ষের চাপে পরিস্থিতি বদলে যায়। অনন্ত সিং চন্দননগরে আশ্রয় নিলেও সহযোদ্ধাদের ওপর নিষ্ঠুর অত্যাচারের খবর তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন, তবে জেলের মধ্যেও তিনি শান্ত ছিলেন না। সুড়ঙ্গ কেটে বোমা ফাটিয়ে জেল উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও শেষ মুহূর্তে তা ধরে ফেলা হয়। এই ঘটনাই ব্রিটিশ সরকারকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছিল বলে অনেকে মনে করেন।

আরও পড়ুন- দৃষ্টিহীন বাঙালি কিশোর কেসি দে কীভাবে হলেন দেশের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সুরসাধক?

পরবর্তীতে তাঁকে দ্বীপান্তর দণ্ড দিয়ে আন্দামানের সেলুলার জেলে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি অনশন শুরু করলে জাতীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ১৯৪৬ সালে তিনি মুক্তি পান। জেলে থাকার সময়ই তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারায় বড় পরিবর্তন আসে এবং তিনি সমাজতান্ত্রিক আদর্শে আকৃষ্ট হয়ে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। যদিও তিনি কিছুদিন চলচ্চিত্র ও মোটর ব্যবসাতেও যুক্ত ছিলেন, তবে রাজনৈতিক কারণে স্বাধীন দেশেও তাঁকে আবার দীর্ঘ আট বছর কারাবরণ করতে হয়।

আরও পড়ুন- 'পাবনার সন্তান', বাপ্পি লাহিড়ী কীভাবে হয়ে উঠলেন বলিউডের ডিস্কো কিং?

অনন্ত সিংয়ের জীবন ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ ও আদর্শের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর লেখাগুলোতে প্রতিফলিত হয়েছে বিপ্লবের ইতিহাস, চট্টগ্রামের আন্দোলন, সহযোদ্ধাদের স্মৃতি এবং দেশপ্রেমের গভীর অনুভূতি। চট্টগ্রাম যুববিদ্রোহ, অগ্নিগর্ভ চট্টগ্রাম, মাস্টারদা, স্বপ্ন ও সাধনা–সহ তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল্যবান দলিল হিসেবে বিবেচিত। ১৯৭৯ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি মারা যান। 

Freedom Fighter Ananta Singh