/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/29/sannyasi-kali-2025-11-29-03-35-20.jpg)
Sannyasi Kali: দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে ভিড় করেন।
Ancient Sannyasi Kali Temple: পশ্চিম বর্ধমানে উখড়া গ্রামের প্রায় তিনশো বছরের পুরনো সন্ন্যাসী কালী মন্দির। এই গ্রাম তার কালীপুজোর জন্য বিখ্যাত। এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অলৌকিক ইতিহাস। জাগ্রত দেবীর দর্শন, কার্তিক অমাবস্যার উৎসব, দীপাবলির রাত্রে সারারাত পুজো এবং নিরঞ্জন ঘিরে এখানকার গ্রামজীবনে তৈরি হয় অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
সন্ন্যাসী কালী
আর এই কারণেই উখড়া গ্রামের নাম উচ্চারণ করলেই ভক্তমনে একটি বিশেষ অনুভূতি জেগে ওঠে—আর তা হল বহু প্রাচীন ও পূজিত সন্ন্যাসী কালী। প্রায় তিন শতাব্দী আগে এই দেবী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন সন্ন্যাসী প্রেমপুরী বাবাজির সাহায্যে। তাঁর তপস্যা, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক শক্তির স্পর্শে শুরু হয় পুজো। পরে সন্ন্যাসী প্রতিষ্ঠিত এই দেবীর নাম হয়ে যায় ‘সন্ন্যাসী কালী’।
আরও পড়ুন- টেনশনে ধরতে পারে হাঁফ, সামলাবেন কীভাবে? জানুন চিকিৎসকের থেকে
কথিত আছে, এই দেবীর সামনে দাঁড়ালে মন এক অদ্ভুত শক্তিতে ভরে ওঠে। মনে হবে যেন, কোনও অদৃশ্য আশীর্বাদ মনের গভীরে স্পর্শ করে যায়। স্থানীয় মানুষদের বিশ্বাস, দেবী কাউকে খালি হাতে ফেরান না; ভক্ত মন খুলে কিছু চাইলে তিনি পূর্ণতা দান করেন।
আরও পড়ুন- প্রত্যেক মানুষের শরীরেই রয়েছে অসংখ্য হাড়, জানেন কী নাম সেগুলোর?
কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে এই মন্দিরে পালিত হয় বার্ষিক উৎসব। উৎসবের দিনটি শুধু পুজোর নয়, গ্রাম্য ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি এবং মানুষের মিলনের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। অমাবস্যার আগের দিন থেকেই উখড়া জেগে ওঠে উৎসবের আলোয়। বাড়ির আঙিনা, মন্দির প্রাঙ্গণ, আশপাশের রাস্তা—সবই আলো, ধূপধুনো ও ভক্তির আবরণে সাজতে শুরু করে।
আরও পড়ুন- পায়ের গোড়ালি ফাটা থেকে চিরতরে মুক্তি চান? শীতে মেনে চলুন এই ৫টি সহজ টিপস
উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে দেবীর বেদী, যার পাশে দাঁড়িয়ে আছে বহু প্রাচীন একটি বকুল গাছ। এই গাছটি যেন মন্দিরের নীরব ইতিহাস, বছরের পর বছর ধরে মন্দিরের এই গাছটি দেখছে উৎসবের আনাগোনা, মানুষের কান্না–হাসি–আশা এবং অলৌকিক করুণার দৃশ্য।
আরও পড়ুন- দেখুন তো এই কারণেই আপনার চুল ঝরছে কি না? হলে দ্রুত বন্ধ করুন!
দীপাবলির রাতে এই মন্দিরে চলে সারারাতব্যাপী পুজো। কালীপুজোর সব রীতি মেনেই এখানে দেবীর আরাধনা করা হয়। আগুনের আলো, ঢাক–কাঁসর–উলুধ্বনির মিশ্রণে পুরো পরিবেশটি হয়ে ওঠে এক অদ্ভুত আধ্যাত্মিক পটভূমি। ধর্মীয় আবেগে ভেসে যায় সকলের মন। এই রাতেই একমাত্র দেবীর বেদীতে বিগ্রহ দেখা যায়, এমনটাই প্রচলিত ধারণা ভক্তদের মধ্যে। গ্রামবাসীসহ বহু দূর থেকে আগত মানুষ ভিড় করেন মায়ের দর্শন পেতে। এই দর্শনকেই তারা জীবনের নতুন শক্তি, নতুন প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যতের সুখ–সমৃদ্ধির চাবিকাঠি মনে করেন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us