/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/18/asthma-risk-7-2025-12-18-18-31-23.jpg)
Asthma Risk: হাঁপানির সমস্যা।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/18/asthma-risk-1-2025-12-18-18-32-25.jpg)
হাঁপানির আশঙ্কা
Asthma Risk: হাঁপানিকে এতদিন মূলত শ্বাসযন্ত্রের একটি সমস্যা হিসেবেই দেখা হত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান ক্রমেই বুঝতে পারছে, শরীর ও মনের মধ্যে সম্পর্ক যতটা গভীর, ততটাই জটিল। ইউরোপীয় মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক গবেষণা সেই ধারণাকেই আরও জোরালো করেছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক দীর্ঘদিন ধরে হতাশা বা উদ্বেগে ভুগছেন, তাঁদের হাঁপানি হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/18/asthma-risk-2-2025-12-18-18-33-03.jpg)
গবেষকরা যা জানিয়েছেন
গবেষকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরের স্বাভাবিক স্ট্রেস-রেসপন্স সিস্টেমকে ব্যাহত করে। উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার সময় শরীরে কর্টিসল এবং অন্যান্য স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা দীর্ঘদিন ধরে বেশি থাকে। এর ফলে শ্বাসনালীগুলি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে এবং সামান্য উদ্দীপনাতেই সঙ্কুচিত হতে পারে। এই পরিবর্তনই হাঁপানির লক্ষণ শুরু হওয়ার পথ তৈরি করে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/18/asthma-risk-3-2025-12-18-18-33-43.jpg)
যোগসূত্র হল প্রদাহ
মানসিক সমস্যার সঙ্গে হাঁপানির আরেকটি বড় যোগসূত্র হল প্রদাহ। বহু গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে যে হতাশা ও উদ্বেগ শরীরজুড়ে সিস্টেমিক ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়। এই সময় শরীরে সাইটোকাইন নামের প্রদাহজনক উপাদানের পরিমাণ বেড়ে যায়। ফুসফুসের শ্বাসনালীতে যখন এই প্রদাহ ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেগুলি ফুলে যায় ও বায়ু চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুকে চাপ লাগে এবং হাঁপানির উপসর্গ তীব্র আকার ধারণ করে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/18/asthma-risk-4-2025-12-18-18-35-20.jpg)
মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব
মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব শুধু হাঁপানি হওয়ার ঝুঁকিতেই সীমাবদ্ধ নয়, হাঁপানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও বড় বাধা। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক হতাশা বা উদ্বেগে ভুগছেন, তাঁদের ওষুধ নিয়মিত খাওয়ার প্রবণতা কম। অনেক সময় তাঁরা নিজের শারীরিক সমস্যার দিকেও উদাসীন হয়ে পড়েন। এর ফলে হাঁপানির অ্যাটাক ঘন ঘন হতে পারে এবং উপসর্গ আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/18/asthma-risk-5-2025-12-18-18-35-55.jpg)
জীবনযাত্রার অভ্যাস
এছাড়াও মানসিক চাপের সঙ্গে যুক্ত জীবনযাত্রার অভ্যাস হাঁপানির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। কম ঘুম, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ধূমপান, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ বা অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ফুসফুসের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গবেষকেরা মনে করছেন, এই সমস্ত কারণ একসঙ্গে কাজ করে বলেই হতাশাগ্রস্ত ও উদ্বিগ্ন প্রাপ্তবয়স্কদের হাঁপানির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/18/asthma-risk-6-2025-12-18-18-36-47.jpg)
হাঁপানির উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ
তবে এই গবেষণার সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হল, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে হাঁপানির উপসর্গও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। থেরাপি, কাউন্সেলিং, মাইন্ডফুলনেস, মেডিটেশন ও নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক হয় এবং প্রদাহ কমতে শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, মানসিক সুস্থতা ফিরে এলে হাঁপানির অ্যাটাকের তীব্রতা ও সং
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/30/asthma-treatment-2025-11-30-11-51-29.jpg)
ইনহেলার বা ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা
চিকিৎসকেরা তাই এখন হাঁপানি চিকিৎসার ক্ষেত্রে শুধু ইনহেলার বা ওষুধের ওপর নির্ভর না করে মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁপানি ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে এই দ্বিমুখী সম্পর্ক বোঝা গেলে রোগ নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, ইউরোপীয় মেডিকেল জার্নালের এই গবেষণা স্পষ্ট করে দিয়েছে, হাঁপানি শুধু ফুসফুসের অসুখ নয়, এটি অনেক সময় মনের সমস্যার প্রতিফলনও হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ বা হতাশায় ভুগলে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সময়মতো মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিলে শুধু মন নয়, ফুসফুসও সুস্থ রাখা সম্ভব।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us