Back Pain Gym Workout Tips: পিঠে বা কোমরে ব্যথা থাকলে জিমে যাওয়ার আগে এই ৮টি করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় জেনে নিন

Back Pain Gym Workout Tips: পিঠে বা কোমরে ব্যথা থাকলে জিমে কোন ব্যায়াম নিরাপদ, কোনগুলো ক্ষতিকর? জানুন জিম করার সময় জরুরি করণীয় ও বর্জনীয়, বিশেষজ্ঞের পরামর্শই বা কী।

Back Pain Gym Workout Tips: পিঠে বা কোমরে ব্যথা থাকলে জিমে কোন ব্যায়াম নিরাপদ, কোনগুলো ক্ষতিকর? জানুন জিম করার সময় জরুরি করণীয় ও বর্জনীয়, বিশেষজ্ঞের পরামর্শই বা কী।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Back Pain Gym Workout Tips: পিঠে ব্যথা থাকলে জেনে নিন জিমে কী করবেন, আর করবেন না।

Back Pain Gym Workout Tips: পিঠে ব্যথা থাকলে জেনে নিন জিমে কী করবেন, আর করবেন না।

Back Pain Gym Workout Tips: বর্তমান সময়ে পিঠে ও কোমরে ব্যথা প্রায় প্রতিটি ঘরে। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, শারীরিক নড়াচড়া কমে যাওয়া এবং হঠাৎ করে ভারী ব্যায়াম শুরু করার ফলে এই সমস্যা আরও বাড়ছে। অনেকেই মনে করেন, ব্যথা থাকলে জিম করা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, পিঠে ব্যথা মানেই ব্যায়াম বন্ধ নয়, বরং আরও সচেতনভাবে ব্যায়াম করা প্রয়োজন।

Advertisment

জিমে বড় ভুল

জিমে ব্যায়াম করার সময় সবচেয়ে বড় ভুল হল শরীরের সীমাবদ্ধতা না বুঝেই ভারী ওজন তোলা। পিঠের নমনীয়তা ও শরীরের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে ভারী স্কোয়াট, ডেডলিফট বা লেগ প্রেস করার সময় মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এই চাপ ধীরে ধীরে পিঠের পেশি ও স্নায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং পুরনো ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

আরও পড়ুন- আর বাজারের ওপর নির্ভরশীল নয়! সহজ উপায়ে সংরক্ষণ করুন, সারা বছর তাজা থাকবে সবুজ মটর

আরেকটি সাধারণ সমস্যা হল ব্যায়ামের সময় ঝাঁকুনি বা গতি ব্যবহার করা। দ্রুত ব্যায়াম শেষ করার জন্য অনেকেই শরীর দোলান বা হঠাৎ টান দেন। এতে মূল পেশিগুলো ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না এবং চাপ চলে যায় কোমর এবং পিঠের ওপর। ধীরে, নিয়ন্ত্রিত ভঙ্গিতে ব্যায়াম করাই পিঠের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।

আরও পড়ুন- এখন আপনার বাচ্চারা বই থেকে পালাবে না, এই ৫টি টিপস পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে

অনেকেই জিমে যাওয়ার আগে শরীর গরম করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু ব্যায়ামের আগে পেট, নিতম্ব ও পিঠের গভীর পেশিগুলো সক্রিয় না হলে শরীর ভারসাম্য হারায়। তখন পিঠ অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য হয় এবং সহজেই টান বা ব্যথা ধরে যায়। কয়েক মিনিটের হালকা নড়াচড়া ও প্রস্তুতিমূলক ব্যায়াম পিঠকে বড় আঘাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

আরও পড়ুন- ভালো ঘুমের জন্য ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই ৪টি রুটিন অনুসরণ করুন, সারা দিনের ক্লান্তি ও চাপ দূর হবে

ব্যথা সহ্য করে ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়াও একটি বড় ভুল। অনেকেই মনে করেন, ব্যথা হলেই বুঝতে হবে ব্যায়াম কাজ করছে। কিন্তু তীব্র ব্যথা, ঝিনঝিনে অনুভূতি বা পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া যন্ত্রণা কখনও স্বাভাবিক নয়। এই ধরনের ব্যথা শরীরের সতর্ক সংকেত, যা উপেক্ষা করলে ছোট সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী চোটে পরিণত হতে পারে।

আরও পড়ুন- ওজন না কমলেও শরীর দিচ্ছে অদ্ভুত সংকেত? ঘন ঘন প্রস্রাব, ঠান্ডা লাগা ও মুড বদলের আসল কারণ জানালেন চিকিৎসক

তবে পিঠে ব্যথা থাকলেও কিছু ব্যায়াম তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং উপকারী। কম ধাক্কাযুক্ত, স্থিতিশীলতা ও নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়া ব্যায়াম পিঠের জন্য ভালো কাজ করে। এই ধরনের ব্যায়াম শরীরের পেছনের পেশিগুলোকে আবার সক্রিয় করে, কিন্তু মেরুদণ্ডের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ ফেলে না। হালকা ওজন ব্যবহার করে সহায়ক যন্ত্রে ব্যায়াম করাও অনেক ক্ষেত্রে ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ধীর গতি ও সীমিত নড়াচড়া বজায় রাখা। কম ওজন হলেও সঠিক ভঙ্গিতে ব্যায়াম করলে শরীর উপকার পায় এবং ব্যথার ঝুঁকি কমে।

পিঠে ব্যথা থাকলে ব্যায়ামে কিছু পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। মেরুদণ্ড সোজা রেখে ব্যায়াম করা, ওজন কমানো, নড়াচড়ার পরিসর সীমিত রাখা কিংবা একপাশ করে ব্যায়াম করা শরীরের ভারসাম্য ঠিক করতে সাহায্য করে। এই ছোট পরিবর্তনগুলো দীর্ঘমেয়াদে পিঠের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় ভূমিকা নেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিজের শরীরের কথা শোনা। সাধারণ ব্যায়ামের ক্লান্তি এক বা দুই দিনের মধ্যে কমে যায়। কিন্তু যদি ব্যথা দুই থেকে তিন দিনেও না কমে, বিশ্রাম নেওয়ার পরেও অস্বস্তি থাকে বা হাঁটা ও বসার সময়ও ব্যথা বাড়ে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক নিয়ম মেনে চললে পিঠের ব্যথা নিয়েও নিরাপদভাবে জিম করা সম্ভব।

back pain gym tips