/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/14/india-sleep-2025-11-14-23-17-02.jpg)
India Sleep: অনেকেরই রাতের ঘুমের দফারফা করছে এই ৪ অভ্যাস।
Bad night habits: ঘুম মানবশরীরের জন্য যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি হজমশক্তি আর মানসিক শান্তিও। আমাদের পেট ও মস্তিষ্ক একে অপরের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ গড়ে তোলে। যাকে বলা হয়, গাট-ব্রেন কানেকশন (Gut-Brain Connection)। তাই ঘুম, খাবার, মানসিক চাপ—সবকিছু এই সংযোগকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমানোর আগে মাত্র ৪টি সাধারণ ভুল অভ্যাস আপনার অন্ত্রের জীবাণু, ঘুমের মান এবং মুড তিনটিকেই নষ্ট করতে পারে। এইমস (AIIMS) হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ডের প্রাক্তন ছাত্র তথা প্রখ্যাত গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ড. সৌরভ শেঠি এই ভুলগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
আরও পড়ুন- আপনার ওজন কি বেশি? সঠিক কত হওয়া উচিত ছিল, দেখে নিন চার্ট
১. রাতের খাবার দেরিতে খাওয়া: গাট-ব্রেইন (Gut-Brain) অক্ষের সবচেয়ে বড় শত্রু
রাতে খুব দেরিতে খেলে পেট খালি হতে বেশি সময় লাগে। এর ফলে—অ্যাসিড রিফ্লাক্স বাড়ে, পেট ভারী লাগে, ঘুম গভীর হয় না, হজমশক্তি কমে যায়। মস্তিষ্ক তখন এই অস্বস্তির সংকেত বার বার পায়, ফলে মেজাজ খারাপ, অস্থিরতা ও স্ট্রেস বাড়তে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমানোর কমপক্ষে তিন ঘণ্টা আগে ডিনার শেষ হওয়া উচিত। যাতে পেট ও মস্তিষ্ক দুটোই বিশ্রাম পায়।
আরও পড়ুন- প্রতিদিন ঘুমানোর আগে এই তেল লাগান, পা হবে তুলোর মতো নরম!
২. ঘুমানোর আগে মোবাইল স্ক্রলিং: মেলাটোনিন বন্ধ করে দেয়
ঘুমোনোর আগে ফোন স্ক্রল করা এখন অনেকের অভ্যাস। কিন্তু, রাতে স্ক্রিন থেকে বের হওয়া নীল আলো মেলাটোনিন হরমোন কমিয়ে দেয়। ঘুম আসতে দেরি হয়। ঘুম বার বার ভেঙে যায়। অন্ত্রের জীবাণুর সার্কাডিয়ান রিদম নষ্ট হয়। অন্ত্রের জীবাণু ঘুমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করে। স্ক্রিন টাইমের কারণে সেই ছন্দ নষ্ট হলে পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি, মুড পরিবর্তনের মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ঘুমানোর অন্তত ৬০ মিনিট আগে সব স্ক্রিন বন্ধ করুন।
আরও পড়ুন- চায়ের গুঁড়ো দিয়ে বানিয়ে ফেলুন ভেষজ হেয়ার ডাই, চুল করুন কুচকুচে কালো!
৩. ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল: ঘুমের নীরব ধ্বংসকারী
সন্ধ্যায় এক কাপ কফিও রাতের ঘুম নষ্ট করতে পারে। ক্যাফেইন শরীরে ৬–৮ ঘণ্টা সক্রিয় থাকে। তাই ডা. শেঠির পরামর্শ— দুপুর ২টার পরে ক্যাফেইন নয়। রাতে বা সন্ধ্যায় অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। অ্যালকোহল আপনাকে দ্রুত ঘুম পাড়িয়ে দিলেও গভীর ঘুম ভেঙে যায় এবং সকালে ক্লান্তি বাড়ে। এছাড়া, এটি অন্ত্রের বাধা দুর্বল করে, ফলে ইনফ্ল্যামেশন বাড়ে।
আরও পড়ুন- দামি ক্রিম নয়, খুশকি দূর করুন এই ৬ ঘরোয়া কায়দায়, পান চটজলদি সমাধান
৪. অনিয়মিত ঘুম ও মানসিক চাপ: অন্ত্রের প্রদাহ বাড়ায়
ঘুমের ছন্দ নষ্ট হলে শরীরের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল বেড়ে যায়। এর ফলে— হজমশক্তি দুর্বল হয়, অন্ত্রের প্রদাহ বাড়ে, জীবাণুর ভারসাম্য নষ্ট হয়, মুড সুইং ও অস্থিরতা বাড়ে। যাঁরা ঘুমানোর আগে অস্থির থাকেন, উদ্বেগে ভোগেন বা রাত জাগেন—তাদের পেটের সমস্যা বেশি দেখা দেয়। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া, ঘর ঠান্ডা রাখা, মন শান্ত করা—এসব অভ্যাস অত্যন্ত জরুরি।
এই অভ্যাসগুলো ঠিক করতে রাত ৮টার মধ্যে ডিনার সেরে ফেলুন। ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে মোবাইল দূরে রাখুন। বিকেলের পর ক্যাফেইন বন্ধ করে দিন। রিল্যাক্স করার মত নৈশরুটিন তৈরি করুন। শোবার ঘর অন্ধকার ও ঠান্ডা রাখুন। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম ও জাগার অভ্যাস করুন। এই ছোট পরিবর্তনগুলো আপনার ঘুম, মুড এবং পাচনতন্ত্রকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলবে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us