/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/10/bakreshwar-5-2025-11-10-19-09-50.jpg)
Bakreshwar Temple: সতীপীঠ বক্রেশ্বর।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/10/bakreshwar-6-2025-11-10-19-09-19.jpg)
তীর্থক্ষেত্র বক্রেশ্বর
Bakreshwar Temple: পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অন্তর্গত বক্রেশ্বর — একাধারে শৈবপীঠ, সতীপীঠ ও তীর্থস্থান। অনেকে একে বলেন গৌড়দেশের গুপ্তকাশী। এখানে একদিকে যেমন প্রাচীন শিবভক্তির ধারা আজও বহমান, তেমনি দেবী সতীর উপস্থিতি এই স্থানকে দিয়েছে অতুলনীয় আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/10/bakreshwar-1-2025-11-10-19-11-43.jpg)
বক্রেশ্বর— শৈব ও সতীপীঠ দু’য়েরই মিলনক্ষেত্র
পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, দেবী সতীর দুই ভ্রু-র মধ্যস্থল বা তৃতীয় নয়ন এখানে পতিত হয়েছিল। তাই এটি ৫১ সতীপীঠের একটি। এখানে দেবী মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গা রূপে পূজিতা হন, আর ভগবান শিব বক্রেশ্বর রূপে বিরাজমান। প্রথমদিকে দেবীকে কষ্ঠিপাথররূপে পূজা করা হত।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/10/bakreshwar-2-2025-11-10-19-12-41.jpg)
খাকিবাবার মূর্তিস্থাপন
পরে স্থানীয় সিদ্ধপুরুষ খাকিবাবা এখানে অষ্টধাতুর দুর্গামূর্তি স্থাপন করেন। তখন থেকেই এখানে নিয়মিত নিত্যপুজো, সন্ধ্যা আরতি ও ভোগ নিবেদন চলে আসছে। ভক্তদের বিশ্বাস, বাংলাদেশের ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দেবী ও বক্রেশ্বরের মহিষাসুরমর্দিনী একই রূপ।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/10/bakreshwar-3-2025-11-10-19-13-19.jpg)
দুর্গাপুজোয় বক্রেশ্বরের বিশেষ আয়োজন
প্রতিবছর শারদীয়া দুর্গাপুজোয় বক্রেশ্বর মন্দিরে আয়োজন হয় বিশেষ উৎসবের। মহাষষ্ঠীতে দেবীকে পরানো হয় বেনারসি শাড়ি, সোনার অলঙ্কার ও ফুলের সাজ। মহাসপ্তমীতে দেবীর মহাভোগে থাকে সুজি, চিঁড়ে, দই ও নানা মিষ্টি। অষ্টমীতে দেবীকে চালকুমড়ো ও আখ বলি দেওয়া হয়। নবমীতে খিচুড়ি ও মহাভোগ নিবেদন করা হয়। দশমীতে ঘটবিসর্জনের মাধ্যমে পুজোর সমাপ্তি হয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/10/bakreshwar-4-2025-11-10-19-13-43.jpg)
ভক্তদের জন্য মহাপ্রসাদের বিশেষ ব্যবস্থা
এই সময় মন্দির চত্বরে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। নবমীতে কয়েক হাজার ভক্ত মহাপ্রসাদ গ্রহণ করেন। দুর্গাপুজোর চারদিন গর্ভগৃহে সাধারণ ভক্তদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে— এই সময় শুধুমাত্র পুরোহিতরাই দেবীর সেবা করতে পারেন। বক্রেশ্বর কেবল একটি মন্দির নয়, এটি এক আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। শিব ও শক্তির মিলন, উষ্ণ প্রস্রবণের অলৌকিকতা এবং দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য— সব মিলিয়ে এটি ভক্ত ও পর্যটকদের কাছে এক অনন্য তীর্থক্ষেত্র।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/10/bakreshwar-9-2025-11-10-19-14-27.jpg)
বক্রেশ্বরের উষ্ণ প্রস্রবণ বা কুণ্ড
বক্রেশ্বরের প্রধান আকর্ষণ এর দশটি উষ্ণ প্রস্রবণ বা কুণ্ড। এই কুণ্ডগুলিকে ঘিরে বহু কিংবদন্তি ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ জড়িয়ে আছে। এই কুণ্ডগুলো হল- ১. পাপহরা গঙ্গা, ২. বৈতরণী গঙ্গা, ৩. খরকুণ্ড, ৪. ভৈরবকুণ্ড, ৫. অগ্নিকুণ্ড, ৬. দুধকুণ্ড, ৭. সূর্যকুণ্ড, ৮. শ্বেতগঙ্গা, ৯. ব্রহ্মাকুণ্ড, ১০. অমৃতকুণ্ড। এর মধ্যে সবচেয়ে গরম অগ্নিকুণ্ড, যার জলের তাপমাত্রা প্রায় ৮০°C। সূর্যকুণ্ডের জল ৬১°C, ভৈরবকুণ্ড ৬৫°C এবং দুধকুণ্ডের তাপমাত্রা ৬৬°C।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/10/bakreshwar-7-2025-11-10-19-14-57.jpg)
কী আছে কুণ্ডে
এই সব উষ্ণ প্রস্রবণের জলে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরাইড, সালফেট ও বাইকার্বোনেটের মত খনিজ উপাদান রয়েছে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই উপাদানগুলির মধ্যে ঔষধি ও পুণ্যফলদায়ী গুণ আছে। এমনকী কেউ কেউ বলেন, এখানে রেডিও-অ্যাকটিভ উপাদানও আছে যা শরীরের ব্যথা বা চর্মরোগে উপকারি।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/10/bakreshwar-8-2025-11-10-19-15-45.jpg)
বক্রেশ্বর— ভক্তি ও প্রকৃতির অনন্য সংযোগ
বক্রেশ্বরের একদিকে যেমন ধর্মীয় গুরুত্ব প্রবল, তেমনই প্রকৃতির সৌন্দর্যও চমকপ্রদ। শীতকালে এখানে আসেন কয়েক হাজার ভক্ত ও পর্যটক। সকালের কুয়াশার মধ্যেও উষ্ণ কুণ্ডের ধোঁয়া যেন এক অলৌকিক দৃশ্য তৈরি করে। বক্রেশ্বর শুধু পুজোর জায়গাই নয়। এটি আধ্যাত্মিকতা, প্রাকৃতিক শক্তি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মিলনক্ষেত্রও।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us