/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/28/banita-sandhu-interview-2026-01-28-18-16-42.jpg)
Coffee-Nervous System of Banita Sandhu: কফি এবং নার্ভাস সিস্টেম সম্পর্কে সোজাসাপটা বনিতা সান্ধু।
Coffee-Nervous System of Banita Sandhu: বনিতা সান্ধু এখন যেন এক অন্যরকম মানসিক পর্যায়ে। মুম্বইয়ে ফিরে তিনি যেমন স্থির, তেমনই উজ্জ্বল। কেরিয়ারের ব্যস্ততা, আন্তর্জাতিক কাজ, নতুন ছবি—সবকিছুর মধ্যেই নিজের শরীর আর মনের মধ্যে সংযোগটাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক এক কথোপকথনে বনিতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কীভাবে ছোট অভ্যাস তাঁর জীবনে বিরাট পরিবর্তন এনেছে।
প্রতিদিন সকাল থেকেই শুরু হচ্ছে বনিতার নতুন রুটিন। দিনের শুরুতেই বনিতার রুটিন এখন আলাদা। ঘুম থেকে উঠেই ফোন স্ক্রল নয়, বরং জার্নালিং। 'দ্য আর্টিস্ট ওয়ে' (The Artist’s Way) কোর্সের অংশ হিসেবে তিনি প্রতিদিন সকালে নিজের ভাবনা লিখে ফেলেন। এতে মাথার ভেতরের অস্থিরতা অনেকটাই কমে যায় বলে তাঁর মনে হয়। দিনের শুরুতেই মানসিক ভার হালকা হয়ে যায়, যা তাঁর সৃজনশীলতার জন্যও ভীষণ কাজে আসে।
সকালের পানীয় হিসেবে বনিতা বেছে নিয়েছেন একেবারে ঘরোয়া দেশি মিশ্রণ—হলুদ, আদা, এলাচ, দারুচিনি আর মধু মেশানো গরম জল। তাঁর মতে, এটি ত্বক ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য দারুণ কাজ করে। পরবর্তী এক ঘণ্টায় তিনি খান প্রোটিন-সমৃদ্ধ ব্রেকফাস্ট। তাতে সাধারণত ডিম থাকে। আগে ফল ও পোরিজ খেলেও তাতে তাঁর শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ত, তাই এখন তিনি দীর্ঘস্থায়ী এনার্জির দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন।
আরও পড়ুন- প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এই তেল লাগান, বগলের কালো দাগ ও দুর্গন্ধ ধীরে কমতে পারে
ফিটনেসের ক্ষেত্রে বনিতার চিন্তাভাবনাও বদলেছে। আগে যেখানে দৌড়, কার্ডিও আর অতিরিক্ত এক্সারসাইজে বিশ্বাস ছিল, এখন সেখানে স্ট্রেংথ ট্রেনিং এবং যোগ। সপ্তাহে চার দিন ওয়েট ট্রেনিং, দু’দিন যোগ—এই ছন্দেই তিনি স্বচ্ছন্দ। হাঁটাও তাঁর পছন্দের ব্যায়াম, বিশেষ করে ইউরোপ বা আমেরিকায় থাকলে। প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ রেখে হাঁটার মধ্যে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি পান বনিতা।
বনিতার দৃষ্টিভঙ্গি বেশ বাস্তববাদী
নারী শরীর সম্পর্কে বনিতার দৃষ্টিভঙ্গি বেশ বাস্তববাদী। তিনি মনে করেন, নারীদের ফিটনেস বা কাজের রুটিন মাসিক হরমোন সাইকেলের সঙ্গে জড়িত। কোন সপ্তাহে কতটা এনার্জি থাকবে, কী খাওয়া দরকার—সবটাই সেই অনুযায়ী বদলানো উচিত। নিজের অতীত সম্পর্কে বলতে গিয়ে বনি জানিয়েছেন, কৈশোরে এই জ্ঞান থাকলে তিনি যতটা সমস্যায় পড়েছেন, ততটা সমস্যায় পড়তেন না।
আরও পড়ুন- মস্তিষ্ক সুস্থ থাকবে, স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ৬টি সহজ অভ্যাসের ওপর জোর দিচ্ছেন স্নায়ু বিশেষজ্ঞরা
অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল কফি ছেড়ে দেওয়া। ছোটবেলা থেকেই সকালে কফি ছাড়া দিন শুরু করতে পারতেন না বনিতা। কিন্তু মেডিটেশন কোর্সে যোগ দেওয়ার সময় ক্যাফেইন পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়। শুরুতে কঠিন লাগলেও, তিনি ক্রমশ বুঝতে পারেন, কফি ছাড়ার ফলে তাঁর নার্ভাস সিস্টেম অনেক শান্ত হয়েছে। আগের মতো অস্থিরতা বা উদ্বেগও নেই। এখন ভোর ৪টায় শুটিং থাকলেও কফি ছাড়াই তিনি সতেজতা অনুভব করেন। মাঝে মধ্যে ম্যাচা খেলেও কফিতে আর ফিরতে চান না।
আরও পড়ুন- কিডনির স্বার্থে কোন ৬ খাবার এবং পানীয় ভুলেও খাবেন না, জেনে নিন বিশেষজ্ঞ কী বলছেন
খাবারের ব্যাপারে বনিতা জানিয়েছেন, তিনি কোনও কঠোর ডায়েটে বিশ্বাসী নন। তিনি নিজেকে বঞ্চিত করেন না, ক্যালোরি গোনেন না। মিষ্টির প্রতি তাঁর দুর্বলতা আজও রয়েছে। স্ট্রবেরি আর গলানো চকোলেট তাঁর প্রিয় কম্বিনেশন। তবে চিনির ব্যাপারে তিনি সচেতন। খান না, বদলে গুড়, স্টেভিয়া বা প্রাকৃতিক সুইটনার খান।
আরও পড়ুন- দই দিয়ে বানান ৬টি অজানা রেসিপি, যা স্বাদে ও পুষ্টিতে চমকে দেবে!
বনিতা জানিয়েছেন, ত্বকের যত্নই তাঁর মূল লক্ষ্য। বাইরের প্রোডাক্টের চেয়ে শরীরের ভেতর থেকে যত্ন নেওয়াকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। নিয়মিত ইলেক্ট্রোলাইট খাওয়ার ফলে তাঁর ত্বক, এনার্জি আর মনোযোগ—সবই উন্নত হয়েছে বলেই তিনি মনে করেন। কাজ না থাকলে মেকআপ এড়িয়ে চলেন এবং রাতে মেকআপ না তুলে কখনও ঘুমোন না।
কাজের দিক থেকে বনিতার সামনে এখন নতুন অধ্যায়। ওটিটি (OTT)-তে আসতে চলেছে তাঁর ছবি 'মাদার টেরেজা' (Mother Teresa), যা তাঁর কাছে ভীষণ স্পেশাল। এই ছবির আয় দান করা হবে নারী ও শিশুদের জন্য। ছবিতে বনিতা এক আধুনিক নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, এমন নারী যিনি বিশ্বাস হারিয়ে আবার তা ফিরে পাওয়ার পথে হাঁটেন। তাঁর মতে, ছবিটি হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মত।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us