/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/22/basanta-panchami-2026-2026-01-22-17-13-06.jpg)
Basanta Panchami 2026: কীভাবে জন্ম নিলেন দেবী সরস্বতী?
Basanta Panchami 2026: হিন্দু ধর্মে দেবী সরস্বতী জ্ঞান, বিদ্যা, বাকশক্তি, সঙ্গীত, শিল্পকলা এবং সৃষ্টিশীলতার দেবী হিসেবে পূজিতা। মানবজীবনে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার যে অপরিসীম গুরুত্ব, তারই প্রতীক হলেন সরস্বতী। প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে বসন্ত পঞ্চমী পালিত হয় এবং এই দিনটিকেই দেবী সরস্বতীর জন্মতিথি হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বসন্ত পঞ্চমীর দিনে দেবীর আরাধনা করলে জ্ঞান বৃদ্ধি পায়, কথায় মাধুর্য আসে, শিক্ষাজীবনে সাফল্য লাভ হয় এবং কর্মক্ষেত্রে অগ্রগতির পথ প্রশস্ত হয়।
পুরাণে বর্ণিত দেবী সরস্বতীর জন্মকাহিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেবীভাগবত পুরাণ অনুসারে, সৃষ্টির আদিতে যখন ত্রিমূর্তি—ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ—মহাবিশ্বের রচনা করেছিলেন, তখন চারিদিকে ছিল নিস্তব্ধতা। আকাশ, বাতাস, পৃথিবী—সবই ছিল স্থির এবং নীরব। সৃষ্টি সম্পূর্ণ হলেও তাতে প্রাণের স্পন্দন, শব্দ ও চেতনার অভাব ছিল। এই নীরবতা ত্রিমূর্তির মনে এক শূন্যতার অনুভূতি সৃষ্টি করেছিল।
ব্রহ্মার উপলব্ধি
তখন সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা উপলব্ধি করেন যে, কেবল আকার বা রূপ থাকলেই সৃষ্টি পূর্ণ হয় না, তার জন্য প্রয়োজন জ্ঞান, শব্দ ও চেতনা। তিনি বিষ্ণু ও মহেশের অনুমতি নিয়ে নিজের কমণ্ডলু থেকে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করে জল ছিটিয়ে দেন। সেই জল থেকেই এক ঐশ্বরিক শক্তির আবির্ভাব ঘটে। সেই শক্তি ধীরে ধীরে এক অপরূপ নারীমূর্তিতে রূপ নেয়। তাঁর চার হাতে ছিল বীণা, পুস্তক, জপমালা এবং আশীর্বাদের মুদ্রা। তিনিই হলেন দেবী সরস্বতী।
আরও পড়ুন- কানে 'শিস' বা বাঁশির শব্দ শুনলে সাবধান, দায়ী হতে পারে এই ৩টি কারণ
ত্রিমূর্তি দেবীকে সাদরে স্বাগত জানান এবং তাঁকে বীণা বাজানোর অনুরোধ করেন। দেবী সরস্বতী বীণার তারে আঙুল ছোঁয়াতেই প্রথম যে সুর ধ্বনিত হয়, তা ছিল 'সা'। যা হল, সপ্তস্বরের প্রথম ধ্বনি। সেই মুহূর্তে নিস্তব্ধ মহাবিশ্বে শব্দের জন্ম হয়। এই মধুর সুর ধীরে স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল—তিন লোকেই ছড়িয়ে পড়ে। শব্দের সঙ্গে সৃষ্টি পায় গতি, প্রাণ এবং চেতনা। তাতে জীবজগৎ আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন- বাঙালি নারীশিক্ষায় বিপ্লবের সাক্ষী আজকের নিবেদিতা মিউজিয়াম
এই কারণেই দেবীর নাম হয় সরস্বতী, যার অর্থ প্রবাহমান শক্তি বা জ্ঞানের ধারা। দেবীর বীণার সুর থেকেই ভাষা, সঙ্গীত ও বিদ্যার সূচনা হয়েছে বলে পুরাণে উল্লেখ রয়েছে। এই কাহিনি শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বরং এটি জ্ঞানের শক্তি ও সৃষ্টিশীলতার গুরুত্বকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে। বসন্ত পঞ্চমীর দিনটি প্রকৃতির দিক থেকেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই সময়ে প্রকৃতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়, গাছে নতুন পাতা ও ফুল ফুটতে শুরু করে। হলুদ রঙে প্রকৃতি সেজে ওঠে, যা জ্ঞান ও শুভ শক্তির প্রতীক। এই কারণেই দেবী সরস্বতীর পুজোয় হলুদ রঙের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ভক্তরা হলুদ পোশাক পরেন, হলুদ ফুল ও মিষ্টি নিবেদন করেন।
আরও পড়ুন- কেন আধুনিক মানুষ খামখেয়ালি' জীবনের দিকে ঝুঁকছে? জানুন নেপথ্যের মনস্তত্ত্ব
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, বসন্ত পঞ্চমীতে দেবী সরস্বতীর পুজো করলে তিনি ভক্তদের প্রতি প্রসন্ন হন। তাঁর আশীর্বাদে শিক্ষার্থীদের স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধি পায়, শিল্পী ও সঙ্গীতজ্ঞদের সৃজনশীলতা বাড়ে এবং কর্মজীবনে স্থিতি ও সাফল্য আসে। অনেক পরিবারে এই দিনেই শিশুদের হাতেখড়ি হয়, যাতে তাঁরা বিদ্যার পথে শুভ সূচনা করতে পারে।
আরও পড়ুন- ওয়াইনের সঙ্গে সোডা কেন খান লিওনেল মেসি? শরীরে কী প্রভাব পড়ে জানুন
সব মিলিয়ে, বসন্ত পঞ্চমী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি জ্ঞান, সৃষ্টিশীলতা এবং নতুন সূচনার প্রতীক। দেবী সরস্বতীর জন্মকাহিনি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শব্দ, ভাষা ও জ্ঞান ছাড়া সৃষ্টি অসম্পূর্ণ। এই কারণেই বসন্ত পঞ্চমীর দিনে দেবীর আরাধনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই তিথি ভক্তিভরে পালিত হয়ে আসছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us