Basirhat Kalibari: বহু অলৌকিক কাহিনির সাক্ষী, ৬০০ বছরের ইতিহাস বসিরহাট সংগ্রামপুর কালীবাড়ির

Basirhat Kalibari: বিপদে আপদে দেবীই ভরসা। এই বিশ্বাসে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত প্রতিদিন এই মন্দিরে ছুটে আসেন। গত ৬০০ বছর ধরে ঠিক এমনটাই চলছে।

Basirhat Kalibari: বিপদে আপদে দেবীই ভরসা। এই বিশ্বাসে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত প্রতিদিন এই মন্দিরে ছুটে আসেন। গত ৬০০ বছর ধরে ঠিক এমনটাই চলছে।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Basirhat Kalibari: বসিরহাটের সংগ্রামপুর কালী।

Basirhat Kalibari: বসিরহাটের সংগ্রামপুর কালী।

Basirhat Kalibari: বসিরহাটের সংগ্রামপুর কালীবাড়ি—এই নাম উচ্চারণ করলেই ভেসে ওঠে ছ’শো বছরের এক অদ্ভুত ইতিহাস, যেখানে বাস্তবের সঙ্গে মিশে আছে লোককথা, বিশ্বাস আর অলৌকিক অভিজ্ঞতার অনন্য এক সমাহার। উত্তর ২৪ পরগনায় অবস্থিত এই মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থান নয়; এটি এক প্রাচীন আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। যার শিকড় বহু পুরোনো এবং গ্রামীণ সংস্কৃতি ও সাধনার মাটিতে গাঁথা।

Advertisment

জাগ্রত দেবী, দূর করেন সংকট

মা কালী এখানে দক্ষিণা কালী রূপে পূজিত হন। স্থানীয়দের মতে, দেবী এখানে অত্যন্ত জাগ্রত এবং যাঁরই সংকট আসে, তার অবসান ঘটে দেবীর আশীর্বাদে। এই স্থানকে অনেকে অন্যতম জাগ্রত কালীপীঠ হিসেবে মানেন। প্রতিদিন ভোরে ধূপ-ধুনোর গন্ধে ভরে ওঠে মন্দিরপ্রাঙ্গণ, আর বিশেষ দিনে ভিড় হয় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তদের।

আরও পড়ুন- উখড়ার ৩০০ বছরের জাগ্রত সন্ন্যাসী কালী, এর অলৌকিক ইতিহাস শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে!

Advertisment

এই মন্দিরের ইতিহাসের শুরুতে রয়েছে এক কিংবদন্তী। ধরা হয়, সংগ্রামপুরের একজন সাধারণ মানুষ মায়ের ঘট স্বপ্নাদেশে প্রাপ্ত হন। সেই ঘটকে কেন্দ্র করেই পরবর্তী সময়ে মন্দির স্থাপিত হয়। তবে মূর্তিটির প্রকৃত উপাদান বা নির্মাণকারী সম্পর্কে আজও কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই। প্রবীণ পুরোহিতদের মতে, মায়ের এই মূর্তি কী দিয়ে গড়া, তা কেউ জানে না; আর এই রহস্যই মন্দিরকে আরও অলৌকিক আবহ দিয়েছে।

আরও পড়ুন- হাওড়ার ‘সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি’, ৩০০ বছরের জাগ্রত মন্দির বড় ভরসা ভক্তদের!

ইতিহাস বলে, কৃষ্ণনগরের বিখ্যাত রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় স্বপ্নাদেশে এই মন্দির নির্মাণের নির্দেশ পান। পরে তিনি জমি দান করেন এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় প্রাচীন কাঁথা-ছাউনি দেওয়া মন্দির তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে ভক্তদের অনুদান ও মন্দির উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে বর্তমান রূপ পেয়েছে।

আরও পড়ুন- জাগ্রত মন্দির, পূরণ হয় মনস্কামনা, ভক্তদের ভরসা মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ি

এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য—এখানে শ্যামা বা কালীপূজা শুরু হলে এক মাইলের মধ্যে কোনও পূজা করা যায় না। বহু পুরোনো প্রথা অনুযায়ী, একবার এক ব্যবসায়ী এই নিয়ম ভেঙে শ্যামাপুজো করেন এবং পরবর্তী সময়ে সর্বস্বান্ত হন বলে লোকমুখে প্রচলিত। সেই থেকে এলাকাবাসী প্রথাটিকে অত্যন্ত কঠোরভাবে মানেন।

আরও পড়ুন- ট্যাংরার চিনে-কালীর অদ্ভুত ইতিহাস, জাগ্রত দেবীর প্রতি অগাধ বিশ্বাস ভক্তদের

এখানে প্রতিদিন নিত্যপূজা হয়, আর দেবীকে ভোগ নিবেদন করা হয়। একেক দিনে একেক রকম ভোগ—লুচি, চিঁড়ে, ফল, খিচুড়ি, পায়েস থেকে শুরু করে বিশেষ দিনগুলিতে আমিষ ভোগ যেমন চিংড়ি মাছ ও কচুশাক পর্যন্ত দেবীকে ভোগ দেওয়া হয়। শ্যামাপুজোর দিন পাঁঠা বলি দিয়ে বলির মাংস কাঁচা অবস্থাতেই দেবীকে নিবেদন করার রীতি এখানে চালু আছে, যা আজও অটুট।

পুরোহিতরাও এই মন্দিরের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সময় থেকে আজ পর্যন্ত পুজোর দায়িত্ব পালন করছেন একই চক্রবর্তী পরিবারের পুরোহিতরা। বর্তমানে আট জন শরিক—প্রত্যেকে পালাক্রমে নয় দিন করে পূজার দায়িত্ব নেন। মানিক চক্রবর্তী, সদানন্দ চক্রবর্তী, শিবু চক্রবর্তী-সহ একাধিক পুরোহিত আজও একই প্রথা বজায় রেখে এই দেবীর সেবা করে চলেছেন।

Basirhat Kalibari