scorecardresearch

১৬ বছর ধরে মহিলাদের স্বনির্ভর করছে বর্ধমানের ‘উইমেন্স ইনস্টিটিউশন’

মহিলাদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে প্রায় ১৬ বছর ধরে বিউটিশিয়ানের পাঠ পড়াচ্ছেন বর্ধমানের পাপিয়া সিংহ রায়। দুঃস্থ ছাত্রীদের থেকে কোর্স ফি নেয় না তাঁর ‘উইমেন্স ইনস্টিটিউশন’।

১৬ বছর ধরে মহিলাদের স্বনির্ভর করছে বর্ধমানের ‘উইমেন্স ইনস্টিটিউশন’
ছাত্রীদের সঙ্গে পাপিয়া সিংহ রায়।

প্রায় একযুগ আগের কথা। তাঁর বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন এক মহিলা। প্রায়শই তাঁর কাছে কান্নাকাটি করতেন পরিচারিকা। একদিকে আর্থিক অনটন, সঙ্গে স্বামীর অত্যাচার। এই দুইয়ের টানাপোড়েনে অসহায় পরিচারিকাকে দেখেই তাঁর মাথায় খেলল আইডিয়া। যে আইডিয়ায় ভর করে আজ বহু মহিলাই স্বনির্ভর হয়েছেন এবং হচ্ছেন। তিনি পাপিয়া সিংহ রায়। প্রায় ১৬ বছর ধরে নিজের হাতে মহিলাদের বিউটিশিয়ানের পাঠ পড়াচ্ছেন পাপিয়া দেবী। বিউটিশিয়ানদের ভিড়ে তিনি কিছুটা হলেও ব্যতিক্রমী।

তাঁর নিজস্ব ইনস্টিটিউশন রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট ফি রয়েছে। কিন্তু সেই ফি আজকের বাজারে নেহাতই ‘নামমাত্র’। তার থেকেও বড় কথা, দুঃস্থ বাড়ির মেয়েদের একটা বড় অংশ তাঁর ছাত্রীদের তালিকায় রয়েছেন। যাঁরা আবার নিখরচাতেই শিখছেন অপরকে সাজানোর কাজ। আর এভাবেই ১৬ বছর ধরে বহু মহিলাকে স্বনির্ভর করে আসছে বর্ধমানের ‘উইমেন্স ইনস্টিটিউশন’।

কীভাবে গড়ে উঠল ‘উইমেন্স ইনস্টিটিউশন’? ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলাকে পাপিয়া দেবী বললেন, ”আমার কাছে একটি মেয়ে পরিচারিকার কাজ করত। খুব আর্থিক সমস্যা ছিল। স্বামীর কাছে টাকা চাইত, পেত না, স্বামীর অত্যাচার সহ্য করত। খুব কান্নাকাটি করত। ওকে দেখে ভাবলাম, মেয়েরা যদি নিজেরাই রোজগার করতে পারে, তবে তারা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে। তারপরই ধীরে ধীরে এগোলাম।”

মহিলাদের স্বনির্ভর করতে বিউটশিয়ানের পেশাকে কেন বাছলেন‍? পাপিয়া দেবীর জবাব, “বিউটি ট্রিটমেন্ট আমার খুব পছন্দের বিষয়। তাই এটা নিয়ে এগোলাম। ২০০২ সালে বর্ধমানের ছোট নীলপুরে প্রথম পার্লার খুলি। পার্লারের পাশেই একটা ঘরে ইনস্টিটিউশন খুলি। প্রথমে ৩-৪ জন ছাত্রী ছিল। এই ১৬ বছরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ছাত্রী আমার কাছে কাজ শিখে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছে।”

womens institution, উইমেন্স ইনস্টিটিউশন
‘উইমেন্স ইনস্টিটিউট’-এর ছাত্রীরা। ছবি সৌজন্যে: পাপিয়া সিংহ রায়

আরও পড়ুন: শর্বরী দত্ত, পুরুষের ফ্যাশনের প্রথম পছন্দ

দুঃস্থ বাড়ির মেয়েদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্য নিয়ে বিউটি পার্লার ও ইনস্টিটিউশন খুলেছিলেন পাপিয়া দেবী। তাঁর কথায়, “বহু গরীব ঘরের মেয়েরা আমার কাছে কাজ শিখে এখন নিজেরা প্রতিষ্ঠিত। তবে এখন অনেক সচ্ছল পরিবারের মেয়েরাও আমার কাছে কাজ শিখতে আসছে।” আজকের দিনে যে কোনও কোর্স করা মানেই গুণতে হয় মোটা টাকা। সেক্ষেত্রে দুঃস্থ বাড়ির মেয়েরা কীভাবে করতে পারবেন এই কোর্স? ‘উইমেন্স ইনস্টিটিউশন’-এর ‘ম্যাডাম’ সাফ জানালেন, “কোর্স ফি রাখতে হয় তাই রেখেছি। তাও আজকের বাজারে খুবই কম। তবে আমার কাছে যারা কাজ শিখতে আসে, তাদের অনেকেই ফি দিতে পারে না। আমিও ওদের থেকে ফি নিই না। অনেকে আবার সামর্থ্য অনুযায়ী যা পারে, তাই দেয়। ফি নিয়ে কখনওই জোর করি না।”

womens institution, উইমেন্স ইনস্টিটিউশন
১৬ বছর ধরে বহু মহিলাকে স্বনির্ভর করে আসছে বর্ধমানের ‘উইমেন্স ইনস্টিটিউশন’। ছবি সৌজন্যে: পাপিয়া সিংহ রায়

কোর্স ফি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পাপিয়া দেবী আরও বললেন, “আজকের দিনে বিউটিশিয়ানের কোর্স করা মানেই হাজার হাজার টাকা গুনতে হয়। সেখানে আমার কোর্স ফি মাত্র ৭ হাজার টাকা। এত সস্তায় এত ভাল কাজ কে শেখাবে? এই টাকাটা নিই স্রেফ খরচ চালানোর জন্য। তবে এই টাকাও অনেকে দিতে পারে না। আমিও নিই না, কারণ টাকাটা আমার উদ্দেশ্য নয়।”

আরও পড়ুন: ‘টু হিজ কয়মিসট্রেস’- অ্যান্ড্রোজেনাস ফ্যাশনের দুনিয়ায় কলকাতা

৬ মাসের কোর্সের পর সার্টিফিকেট দেওয়া হয় ‘উইমেন্স ইনস্টিটিউশন’-এ। কিন্তু প্লেসমেন্ট? পাপিয়া দেবী জানালেন, “আমরা প্লেসমেন্টের ব্যবস্থা করি। বহু পুরনো ছাত্রীর মধ্যে অনেকে এখন আমার পার্লারে কাজ করছে, কেউ আবার আমার ইনস্টিটিউশনের টিচিং স্টাফ। তবে অনেকে নিজেই পার্লার খুলেছে। কেউবা অন্য জায়গায় কাজ করছে। কেউ বসে নেই। সবাই কিছু না কিছু করছে।”

এখনও সরকারি সাহায্য না মিললেও আগামী দিনে সেই সাহায্য পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী পাপিয়া দেবী। তিনি বললেন, “সরকারি সাহায্য পেলে খুবই ভাল লাগবে।” শুধু বর্ধমানেই নয়, ২০১৬ সালে কলকাতার বেহালার সখেরবাজার এলাকাতেও একটি শাখা খুলেছেন পাপিয়া দেবী। ‘উইমেন্স ইনস্টিটিউশন’-এ বিউটিশিয়ানের হাতেখড়ি নিতে হলে যোগাযোগ করুন এই নম্বরে: 99320 92227

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Lifestyle news download Indian Express Bengali App.

Web Title: Beautician course burdwan womens empowerment papia singha roy