/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/23/beetroot-glow-2025-11-23-23-51-41.jpg)
Beetroot Glow: এতে বাড়বে উজ্জ্বলতা।
Beetroot Glow: বিটরুট একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক উপাদান, যা ত্বকের গভীর থেকে পরিষ্কার করে উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি শুধু শরীরকে শক্তি দেয় তা নয়, ত্বকের ওপরে অবিশ্বাস্যভাবে কাজ করে। বিটরুটের মধ্যে থাকা আয়রন, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রাকৃতিক রঞ্জক ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে, ফলে ত্বক হয় গোলাপি, উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত। শীতকালে বিটরুট খাওয়া ও লাগানো—দুটোই ত্বকের জন্য সমান উপকারী। যা শরীরের ভেতর থেকে টক্সিন বের করে আনে এবং বাইরে থেকে ত্বককে রিফ্রেশ করে তোলে।
শরীরে রক্তসঞ্চালন বাড়ে
মাত্র এককাপ বিটরুটের রস খেলে শরীরে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং সেই প্রভাবে মুখের রঙে আসে প্রাকৃতিক গোলাপি আভা। অনেকে জন্মগতভাবে নিস্তেজ বা শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় ভোগেন, বিশেষ করে শীতকালে। বিটরুট সেসব সমস্যার সহজ সমাধান। বিটরুটের রসের মধ্যকার পুষ্টি ত্বকের ছিদ্র পরিষ্কার করে এবং ত্বকের ভেতরের জমে থাকা ময়লা দূর করে। এর ফলে ব্রণ কমে, দাগ হালকা হয় এবং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।
আরও পড়ুন- অভিশপ্ত দুর্গ, যেখানে নাকি আজও ঘুরে বেড়ায় প্রেতাত্মারা! রাতে থাকে বন্ধ
বিটরুট-দইয়ের মিশ্রণ ত্বকের জন্য এক অসাধারণ ঘরোয়া টনিক হিসেবে কাজ করে। তাতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যাসিড ত্বকের মৃত কোষ দূর করে, আর দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে নরম ও আর্দ্র রাখে। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ও দাগ দূর হয়। মুখে লাগানোর পর শুকিয়ে গেলে তা ধুয়ে ফেললেই ত্বক জলের মত সতেজতা অনুভব করে। সপ্তাহে দুইবার এই মিশ্রণ লাগালে ত্বকে এক বিশেষ গোলাপি আভা দেখা দেয়।
আরও পড়ুন- শীতে শরীর থাকবে গ্রীষ্মের মত গরম! ৩ কায়দায় খান এই শুকনো ফল
বিটরুটের রস এবং অ্যালোভেরা জেলের মিশ্রণ ত্বকের জ্বালা ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। অনেকের সেনসিটিভ ত্বক থাকে, যা সামান্য ধুলা বা রোদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। অ্যালোভেরা ত্বককে শান্ত করে এবং বিটরুট সেই ত্বকে রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে চেহারায় এনে দেয় উজ্জ্বলতা। এই প্যাকটি লাগিয়ে ১৫ মিনিট রাখলে ত্বক বাইরের ধুলা-ময়লা থেকে পরিষ্কার হয় এবং ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখে।
আরও পড়ুন- পেট ভালো রাখতে চিকিৎসকরা টিফিনে কী খান? শুনলে অবাক হয়ে যাবেন!
বিটরুট দুধের মিশ্রণ শুষ্ক ও অনুজ্জ্বল ত্বকের জন্য এক আশ্চর্য প্রতিকার। এতে থাকা প্রাকৃতিক ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকে মসৃণতা আনে এবং নারকেল তেল গভীর থেকে ত্বককে পুষ্ট করে। শীতকালে এই প্যাকটি ত্বককে রক্ষা করতে অত্যন্ত কার্যকর। নিয়মিত ব্যবহার করলে কালো দাগ কমে, ত্বকের রুক্ষভাব দূর হয় এবং চেহারা ঝলমলে দেখায়।
আরও পড়ুন- ঘরেই এভাবে বানিয়ে ফেলুন বডি লোশন! শীতে শুষ্ক ত্বক দূর করতে এর জুড়িমেলা ভার
বিটরুট এবং চন্দন গুঁড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা প্যাক ত্বককে উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী। চন্দন ত্বককে ঠান্ডা রাখে, আর বিটরুট তার মধ্যে এনে দেয় লালচে রঙের বিশেষ উজ্জ্বলতা। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি ত্বকের দাগ ও রোদে পোড়া ভাব দূর করতে কাজে লাগে। মাত্র কয়েকবার ব্যবহারেই ত্বকের ভেতরে পরিবর্তন দেখা যায়।
যাঁদের তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য বিটরুট এবং মুলতানি মাটির ফেসপ্যাক দুর্দান্ত কাজ করে। এই দুই উপাদান ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয় এবং ছিদ্র পরিষ্কার রাখে। গোলাপ জল মিশিয়ে এই প্যাক ব্যবহার করলে ত্বকের টেক্সচার উন্নত হয়, ব্রেকআউট কমে এবং ত্বক হয় মসৃণ। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা ধুলোময়লা ও তেল দূর হয়ে যায় এবং ত্বকে দেখা দেয় প্রাকৃতিক আভা।
শরীরের ভেতর থেকে ত্বক সুন্দর রাখতে বিটরুট খাওয়া সমান জরুরি। বিটরুট রক্ত শোধন করে এবং লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। ফলে ত্বকে ব্রণ বা ফুসকুড়ির সমস্যা কমে। প্রতিদিন এককাপ বিটরুটের রস বা রান্নায় বিটরুট খেলে ত্বকে স্বাভাবিক রং আসে এবং ত্বকের বার্ধক্য ধীরগতির হয়।
শীতকালে ত্বক নিস্তেজ হয়ে যায়—এ সময় বিটরুট ত্বককে নতুন জীবন দেয়। ভিতর থেকে ত্বককে পুষ্ট করে এবং বাইরে থেকে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের গঠন উন্নত হয় এবং মুখে দেখা যায় প্রাকৃতিক গোলাপি উজ্জ্বলতা।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us