/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/22/belly-fat-vs-bloating-jpg-1-2025-12-22-18-57-52.jpg)
Belly Fat vs Bloating: জেনে নিন পেট কেন ফোলে।
Belly Fat vs Bloating: বর্তমান সময়ে অনেক মানুষই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বা জামাকাপড় পরার সময় হঠাৎ লক্ষ্য করেন যে পেটটা আগের তুলনায় বেশি বেরিয়ে আছে। তখনই মনে হয় পেটের চর্বি বেড়ে যাচ্ছে, যা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সব সময় এই পেট বেরিয়ে থাকা মানেই পেটের চর্বি নয়। বহু ক্ষেত্রে এটি আসলে পেট ফোলা বা পেট ফাঁপার সমস্যা, যার প্রতিষেধক সম্পূর্ণ আলাদা।
এই ব্যাপারে এক নামী বেসরকারি হাসপাতালের ইন্টার্নাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুরঞ্জিত চ্যাটার্জির মতে, তিনি প্রায়ই এমন রোগীদের দেখেন যাঁরা পেট ফোলা অবস্থাকে পেটের চর্বি ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সাম্প্রতিক এক রোগীর ক্ষেত্রেও এমনটাই হয়েছিল। পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেটি চর্বি নয় বরং গ্যাস ও তরল জমার কারণে হওয়া সাময়িক পেট ফোলা। এই বিভ্রান্তি খুব সাধারণ এবং সঠিকভাবে পার্থক্য বোঝা না গেলে অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ তৈরি হয়।
আরও পড়ুন- শীতে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আয়ুর্বেদের এই ৬টি খাবার, রাখুন প্রতিদিনের ডায়েটে
পেট ফোলা মূলত একটি অস্থায়ী সমস্যা। হজমের সময় অন্ত্রে অতিরিক্ত গ্যাস, বাতাস বা তরল জমা হলে পেট হঠাৎ করে ফুলে ওঠে। এই অবস্থায় পেট ভারী লাগে, অনেক সময় শক্ত অনুভব হয় এবং অস্বস্তি বা হালকা ব্যথাও হতে পারে। বেশি খেয়ে ফেললে, খুব দ্রুত খাবার গিলে ফেললে বা গ্যাস তৈরি করে এমন খাবার খেলে এই সমস্যা দেখা দেয়। মটরশুঁটি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, কোল্ড ড্রিঙ্কস, দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার অনেকের ক্ষেত্রে পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য, আইবিএস বা অন্যান্য পরিপাকজনিত সমস্যাতেও পেট ফোলা দেখা যায়। সাধারণত খাবার হজম হলে, গ্যাস বের হলে বা টয়লেটে যাওয়ার পর এই ফোলাভাব কমে আসে।
আরও পড়ুন- অল্প সময়ে বিনা ঝঞ্ঝাটে বানান চুষি পিঠে, স্বাদে ফিরুক পৌষ-পার্বণের আসল আমেজ!
অন্যদিকে পেটের চর্বি একদিনে বা হঠাৎ করে তৈরি হয় না। এটি ধীরে সপ্তাহের পর সপ্তাহ, এমনকী মাসের পর মাস ধরে জমতে থাকে। অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, মানসিক চাপ, অনিয়মিত ঘুম এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস পেটের চর্বি বাড়ানোর প্রধান কারণ। চিকিৎসকদের মতে, পেটের চর্বি দু’ধরনের হয়। একটি হল ত্বকের নীচে জমা নরম চর্বি, যা তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর। অন্যটি হল ভিসারাল ফ্যাট, যা লিভার, অগ্ন্যাশয় ও অন্ত্রের চারপাশে জমা হয় এবং ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
আরও পড়ুন- লক্ষ্মী পেঁচার ঠিকানা, বরফ পড়লে কোথায় থাকে এই প্রাণী?
শরীর দেখে এই দুইয়ের পার্থক্য বোঝাও সম্ভব। পেট ফোলার ক্ষেত্রে পেট হঠাৎ করে টানটান ও শক্ত লাগে এবং আঙুল দিয়ে ধরলে চর্বির মতো নরম ভাব পাওয়া যায় না। অনেক সময় ব্যথা বা অস্বস্তিও থাকে। দিনের বিভিন্ন সময়ে পেটের আকার বদলে যেতে পারে। বিশেষ করে খাবারের পর পেট বেশি বেরিয়ে আসে এবং কয়েক ঘণ্টা পর বা পরের দিন আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। অন্যদিকে পেটের চর্বি নরম হয় এবং আঙুল দিয়ে চিমটি কাটলে সহজেই ধরা যায়। এটি দিনের বেলায় কমে বা বাড়ে না এবং দীর্ঘ সময় একই রকম থাকে।
আরও পড়ুন- ক্রিসমাসের আগের দিন বাড়িতেই বানান সুস্বাদু প্লাম কেক, সহজ রেসিপি লিখে নিন
পেট ফাঁপা কমানোর জন্য জীবনযাপনে কিছু সহজ পরিবর্তন খুব কাজের। সেটা হল- ধীরে ভালো করে চিবিয়ে খাবার খাওয়া, একবারে অতিরিক্ত না খাওয়া, পর্যাপ্ত জল পান করা এবং গ্যাস তৈরি করে এমন খাবার এড়িয়ে চলা প্রোবায়োটিকযুক্ত খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং নিয়মিত টয়লেট অভ্যাস পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করে। তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে পেট ফোলা থাকে, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
দ্রুত সমাধান নেই
পেটের চর্বি কমানোর ক্ষেত্রে কোনও দ্রুত সমাধান নেই। এখানে প্রয়োজন ধৈর্য এবং স্থায়ী জীবনধারা পরিবর্তন। সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ পেটের মেদ কমানোর মূল চাবিকাঠি। চিনি, ভাজাভুজি, জাঙ্ক ফুড ও অ্যালকোহল কমালে ধীরে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি হ্রাস পায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিজের শরীরের পরিবর্তনগুলো ঠিকভাবে বোঝা। সব পেট বেরিয়ে থাকা সমস্যাকে পেটের চর্বি ভেবে আতঙ্কিত না হয়ে, লক্ষণ অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই সুস্থ থাকার প্রথম ধাপ।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us