Focus Improvement: লেখাপড়া, কাজে মনসংযোগের অভাব? নিত্যদিনের এই পানীয়তে মিটবে সমস্যা!

Focus Improvement: বিশেষজ্ঞদের মতে কর্টিসল লেভেল, অ্যালার্টনেস এবং ফোকাসের ওপর নির্ভর করে এই পানীয় খাওয়ার সঠিক সময় বেছে নিতে হবে। জেনে নিন বিস্তারিত।

Focus Improvement: বিশেষজ্ঞদের মতে কর্টিসল লেভেল, অ্যালার্টনেস এবং ফোকাসের ওপর নির্ভর করে এই পানীয় খাওয়ার সঠিক সময় বেছে নিতে হবে। জেনে নিন বিস্তারিত।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Focus Improvement: পানীয়র সাহায্যে বাড়ান মনসংযোগ।

Focus Improvement: পানীয়র সাহায্যে বাড়ান মনসংযোগ।

Focus Improvement: সামনেই পরীক্ষা। কিন্তু, ছেলে বা মেয়ে লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে পারছে না? একটু পড়তে বসলেই মনসংযোগে ব্যাঘাত ঘটছে? অথবা আপনি নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজ মন দিতে না পারায় শেষ করতে পারছেন না? এই সমস্যার দুর্দান্ত সমাধান হতে পারে আপনার হাতের নাগালেই থাকা একটি পানীয়। কী সেটা? বিস্তারিত জেনে নিন। 

Advertisment

আসলে সকালের শুরুটাকে প্রাণবন্ত করতে অনেকেই প্রথমে হাতে তুলে নেন এককাপ গরম কফি। মনে করা হয়, দিনের কাজের গতিকে ঠিক রাখতে সকালে ক্যাফেইন নাকি ত্রাতা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কফি ঠিক কোন সময়ে খাওয়া হচ্ছে, সেটা আপনার ফোকাস, শক্তি এবং অ্যালার্টনেসের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকে ঘুম থেকে উঠেই কফি খেয়ে নেন, আবার কেউ একটু দেরিতে নেন। কিন্তু কোন সময়টা সত্যিই বেশি উপকারী—সকাল ৬.৩০–৮টা, নাকি ৯–১১টা—তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ছিল। শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির সঙ্গে কফির টাইমিং কতটা মিল খাচ্ছে, সেটাই এখানে আসল। তবে, বিশেষজ্ঞরা এটা নিশ্চিত যে কফি খেলে বেশি ফোকাস পাওয়া যায়। 

আরও পড়ুন- চিনতে পারছেন? শীতে এই ছয় পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে ভারতে!

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মানুষ ঘুম থেকে উঠার পরপরই শরীরে কর্টিসল নামের একটি হরমোন স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। এই কর্টিসলই আমাদের শরীরকে জাগিয়ে তোলে, অ্যালার্ট করে, শক্তি জোগায় এবং ফোকাস বাড়ায়। ফলে ঘুম থেকে উঠেই কফি খেলে ক্যাফেইন তেমন কোনও বাড়তি সুবিধা দিতে পারে না। বরং এই সময় ক্যাফেইন নেওয়া হলে শরীরের স্বাভাবিক কর্টিসল চক্রে কিছুটা গোলমাল হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে এই সময় কফি খাওয়া শরীরকে অস্বস্তিকরভাবে উত্তেজিত বা জিটারির দিকে ঠেলে দেয়, আবার কারও ক্ষেত্রে মাঝসকালেই এনার্জি ক্র্যাশ দেখা যায়। খুব ভোরে যাঁরা কাজ শুরু করেন বা ৫টার আগে ওঠেন, তাঁরা হয়তো স্বল্পমেয়াদি উপকার পেতে পারেন, তবে সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এটি সঠিক সময় নয় বলেই বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

Advertisment

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন

সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে শরীরের কর্টিসল লেভেল একটু কমতে শুরু করে। এই সময়ই মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে ক্যাফেইনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। ফলে এই সময় কফি খেলে শরীরে ক্যাফেইনের প্রভাব আরও ভালোভাবে কাজ করে। অ্যালার্টনেস বাড়ে, মনঃসংযোগ ভালো হয়, আর দিনের কাজের গতি দীর্ঘক্ষণ ধরে ভালো থাকে। যাঁরা খুব সকালে কফি খেয়ে ফেলেন, তাঁরা দুপুরের আগেই ক্লান্তি বা হালকা ঘুম ঘুম ভাব অনুভব করেন। কিন্তু ৯–১১টার মধ্যে কফি খেলে এই সমস্যাও অনেকাংশে কমে যায়, কারণ কফি তখন শরীরের স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে মিল রেখে কাজ করে।

আরও পড়ুন- ঘনঘন প্রস্রাবে নাজেহাল? ঘরের এই সামান্য জিনিস খেয়ে করুন বিনামূল্যে সমাধান

সকালের কফির সঠিক সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। প্রথমত, কফি ঘুম ভাঙার পর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরে খাওয়া হলে সেটি শরীরের চক্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে। দ্বিতীয়ত, খালিপেটে কফি খেলে অনেকের অ্যাসিডিটি বা হালকা কম্পন হতে পারে, ফলে সকালে ব্রেকফাস্টের পর বা হালকা খাবারের পরে কফি খাওয়া বেশি উপযোগী। তৃতীয়ত, অনেকেই মনে করেন যে বেশি কফি মানেই বেশি ফোকাস, কিন্তু দিনে দুই কাপের বেশি কফি সাধারণত প্রয়োজন হয় না। অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরে উলটো প্রভাব ফেলতে পারে। এতে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে, শরীরে অস্বস্তি হতে পারে অথবা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

আরও পড়ুন- লেপ বা কম্বল থেকে দুর্গন্ধ দূর করবেন কীভাবে? ঘরোয়া উপায়েই মিলবে সমাধান

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কফির শেষ কাপ কখন নেওয়া হচ্ছে। বিকেল ৩–৪টার পরে ক্যাফেইন খেলে ঘুমের মান কমে যেতে পারে। যাঁরা রাতের ঘুমে সমস্যা অনুভব করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে রাতের অ্যালার্টনেস আরও বেড়ে যায়, ফলে শরীর বিশ্রাম নেওয়ার সময়ও স্থির হতে পারে না। কফির মূল উদ্দেশ্য যদি দিনের শুরুতে মনঃসংযোগ এবং এনার্জি বাড়ানো হয়, তবে দিনের শেষ ভাগে খেলে তার প্রভাব বাড়ে। সেটা যেন ঘুমে বাধা না দেয়, তা নিশ্চিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Coffee: কফি।
Coffee: কফি।

যাঁরা পড়াশোনা, কর্পোরেট কাজ, শিফট ডিউটি বা উচ্চ মনঃসংযোগের পরিবেশে কাজ করেন, তাঁদের জন্য কফির সময় নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মাঝসকালে ফোকাস হারানোর অভিযোগ করেন, যেটি প্রায়ই খুব সকালে কফি খাওয়ার কারণেই ঘটে। কিন্তু ৯–১১টার মধ্যে কফি খেলে দিনের মাঝামাঝি অংশে এনার্জি ধরে রাখা সহজ হয়। দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন এমন ব্যক্তিদের জন্যও এটি কার্যকরী। শরীরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কফি খাওয়া মানেই কম জিটার, কম ক্র্যাশ, আর বেশি স্থায়ীত্বের এনার্জি—সব মিলিয়ে এতে দৈনন্দিন কাজের কার্যকারিতা বাড়ে। এমনটাই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Focus Improvement