/indian-express-bangla/media/media_files/2025/04/20/3zFiJzjfZbDqn5R6XItL.jpg)
Sleep: ঘুম দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ। (ফাইল ছবি)
Better Sleep: ভালো ঘুম আমাদের শরীর ও মনের জন্য কতটা প্রয়োজন, সেটা আমরা দিনের ক্লান্তি না ঘোচা পর্যন্ত বুঝতেই পারি না। ঘুম ঠিক না হলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মনমেজাজ খিটখিটে হওয়া, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া—এসব সমস্যা নিয়েই সকাল শুরু হয়। অনেকেই ভাবেন ঘুমের ওষুধই একমাত্র উপায়। কিন্তু শরীরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের ঘাটতি থাকলেও ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে। এই ভিটামিনগুলো ঘুমের হরমোন, স্ট্রেস লেভেল এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সরাসরি প্রভাবিত করে। তাই ঘুমের মান বাড়াতে মূলত যে জিনিসগুলো দরকার, তার মধ্যে অন্যতম বেটার স্লিপ ভিটামিনস (Better Sleep Vitamins) বা ঘুম সহায়ক ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট।
ঘুম আরামদায়ক হওয়ার জন্য শরীরের পেশী শিথিল থাকা জরুরি। এক্ষেত্রে ম্যাগনেসিয়াম অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ম্যাগনেসিয়াম শরীরকে শান্ত করে, উদ্বেগ কমায় এবং নার্ভ সিস্টেমকে রিল্যাক্স করে। যাঁরা রাতে বিছানায় গিয়ে এপাশ-ওপাশ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি খুব সাধারণ। এই ভিটামিন শরীরে মেলাটোনিন উৎপাদন বাড়ায়, যা প্রাকৃতিকভাবে ঘুমের সিগন্যাল তৈরি করে। ফলে ঘুম আসতেও সময় লাগে না এবং ঘুম গভীর হয়।
আরও পড়ুন- খুব কম খরচে দেখান ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ হাসপাতালে, জেনে নিন কোন ডাক্তার কবে বসেন
এরপর আসে নিয়াসিন বা ভিটামিন বি৩। এটি ঘুমের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি পুষ্টি উপাদান কারণ এটি ট্রিপ্টোফানকে সেরোটোনিনে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। সেরোটোনিন আমাদের মুড এবং ঘুম দুটোকেই নিয়ন্ত্রণ করে। রাতে রিল্যাক্স অনুভব করতে এবং মন শান্ত করতে সেরোটোনিন অত্যন্ত জরুরি। এই সেরোটোনিন থেকেই পরে মেলাটোনিন তৈরি হয়। তাই নিয়াসিন ঘুমের চক্রকে ভেতর থেকে ঠিক রাখে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন বি৩ সঠিক মাত্রায় নিলে আরইএম ঘুমের মান বাড়ে, আর এই আরইএম (REM) ঘুমই আমাদের মস্তিষ্ককে পুনর্জীবিত করতে সাহায্য করে।
ভিটামিন বি৬-ও ঘুমের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এটি নিউরোট্রান্সমিটার উৎপাদনে সাহায্য করে, যা ঘুমানোর আগে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। দিনে যাঁরা অনেক কাজের চাপে থাকেন বা রাতে মনকে শান্ত করতে পারেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে ভিটামিন বি৬ ভালো ফল দেয়। এটি মেলাটোনিন এবং সেরোটোনিন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, যার ফলে ঘুমের সময় শরীর স্থির থাকে এবং রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।
অন্যদিকে, ভিটামিন সি-কে সাধারণত আমরা কোল্ড-ফ্লু প্রতিরোধকারী পুষ্টি হিসেবে জানলেও, এটি ঘুমের ক্ষেত্রেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন সি শরীরে জমে থাকা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। সারাদিনের ক্লান্তি, মানসিক চাপ এবং দুশ্চিন্তা প্রায়ই রাতে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। ভিটামিন সি এই স্ট্রেস কমিয়ে শরীরকে গভীরভাবে রিল্যাক্স অবস্থায় নিয়ে যায়। একই সঙ্গে এটি কর্টিসল লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে। কর্টিসল বেশি হলে শরীর সচেতন থাকে, ফলে ঘুম আসে না। ভিটামিন সি এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করে ঘুমের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করে।
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি এখন খুবই সাধারণ একটি সমস্যা, কারণ আমরা অনেকেই রোদ কম পাই। গবেষণা বলছে, ভিটামিন ডি কম থাকলে ঘুমের মান কমে যায়, রাতে বারবার জেগে উঠতে হয় এবং দিনে প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগে। ভিটামিন ডি শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণ করে, যা আমাদের প্রাকৃতিক ঘুম-জাগরণ চক্র। তাই সঠিক পরিমাণ ভিটামিন ডি নেওয়া ঘুমের সময়কাল বাড়াতে এবং ঘুমকে গভীর করতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন- জিমে মাত্র এই একটি ভুলের জন্যই আপনি ঠিকঠাক রেজাল্ট পাচ্ছেন না, কী বলছেন ফিটনেস কোচ?
জিংকও ঘুমের জন্য অত্যন্ত দরকারি একটি খনিজ। এটি ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন বি৬-এর সঙ্গে মিলিত হয়ে ঘুমের হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। জিংক শরীরের নিউরোট্রান্সমিটারকে সুস্থ রাখে, যা স্বাভাবিক ঘুমের জন্য দরকার। যাঁরা রাতে সহজে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন না বা ঘুম ভেঙে গেলে আবার ঘুমাতে কষ্ট হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে জিংক সাপ্লিমেন্ট ভালো ফল দেয়।
আরও পড়ুন- শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হলে দেখাবে এই ৫ গোপন সিগন্যাল, সতর্ক করলেন চিকিৎসক
এই সব ভিটামিন একসঙ্গে শরীরকে শান্ত করে, নার্ভ সিস্টেম রিল্যাক্স করে এবং ঘুমের হরমোনকে ব্যালান্স করে। ঘুম যাতে সহজে আসে, গভীর হয় এবং ভোর পর্যন্ত স্থির থাকে, তার জন্য এগুলো সত্যিই কার্যকর। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সাপ্লিমেন্ট আপনার নিজের শরীরের চাহিদা অনুযায়ী নিতে হবে। কারও ঘুমের সমস্যা মানসিক কারণে, কারও ক্ষেত্রে স্ট্রেসের প্রভাব বেশি থাকে, আবার কারও শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি থাকে—তাই সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন
এর পাশাপাশি দৈনন্দিন অভ্যাসেও পরিবর্তন আনা দরকার—রাতে ভারী খাবার না খাওয়া, ঘুমানোর আগে মোবাইল বা স্ক্রিন টাইম কমানো, রুম অন্ধকার রাখা, আরামদায়ক বালিশ-গদি ব্যবহার করা এবং নিয়মিত ঘুমের রুটিন তৈরি করা। ভিটামিন সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে এসব উপায় মিলেই ঘুমকে আরও ভালো করতে পারে। শরীর যখন ভেতর থেকে পুষ্টি পায়, তখন ঘুমও স্বাভাবিকভাবেই উন্নত হয় এবং জীবনযাত্রা আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us