/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/07/bipin-chandra-pal-2025-11-07-09-02-25.jpg)
Bipin Chandra Pal: বিপিনচন্দ্র পাল।
Bipin Chandra Pal Biography: 'নিঃসন্দেহে স্বাধীনতা একটি মূল্যবান রত্ন, কিন্তু এটি কেবল ততক্ষণ পর্যন্তই থাকবে যতক্ষণ আমরা এর মূল্য দিতে প্রস্তুত ও ইচ্ছুক থাকব'— এই গভীর অর্থবোধক উক্তিটি করেছিলেন ভারতের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপিনচন্দ্র পাল। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে তিনি 'লাল-বাল-পাল' ত্রয়ীর অন্যতম।
গান্ধীজির সঙ্গে ছিল মতপার্থক্য
১৮৫৮ সালের ৭ নভেম্বর অবিভক্ত ভারতের সিলেট জেলার হবিগঞ্জের পইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিপিনচন্দ্র পাল। পিতা রামচন্দ্র পাল ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী ও প্রভাবশালী আইনজীবী। মা ছিলেন মানবিক ও উদার মানসিকতার। পারিবারিক প্রভাবেই তাঁর মধ্যে সমাজসেবার বীজ রোপিত হয়।
আরও পড়ুন- দক্ষিণ কলকাতার রহস্যময় ডাকাত কালীবাড়ি, কাহিনি শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে!
শিক্ষাজীবনে তিনি সিলেট গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে চমৎকার ফলাফল করেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু, অসুস্থতার কারণে পরীক্ষায় বসতে পারেননি। শিক্ষার প্রতি তাঁর অনুরাগ ছিল অমোঘ, আর এই মনোভাবই তাঁকে শিক্ষকতা পেশায় টেনে আনে।
আরও পড়ুন- ভারতের ৫ জায়গায় এই ধরনের বেলুনে চেপে ঘোরার সুযোগ পাবেন, জানেন খরচ কত?
বিপিনচন্দ্র পাল কর্মজীবন শুরু করেন শিক্ষক হিসেবে। স্বভাবতই স্বাধীনচেতা তিনি প্রশাসনিক বাঁধন পছন্দ করতেন না। তাই আত্মমর্যাদা ও আদর্শের প্রশ্নে বারবার চাকরি ত্যাগ করেন। ধীরে ধীরে তাঁর চিন্তায় রাজনৈতিক জাগরণের সুর বেজে ওঠে।
আরও পড়ুন- প্রতিদিন এভাবে ভাত খাচ্ছেন? বিপদে পড়তে পারেন কিন্তু!
১৯শ শতকের শেষদিকে জাতীয় কংগ্রেসের জন্মের সঙ্গেই বিপিনচন্দ্র পাল রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। বাল গঙ্গাধর তিলক ও লালা লাজপত রায়ের সঙ্গে গড়ে তোলেন এক শক্তিশালী চরমপন্থী ত্রয়ী — 'লাল-বাল-পাল'। যাঁরা বিশ্বাস করতেন, শুধু আবেদন নয়, সংগ্রামই ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটাতে পারবে।
আরও পড়ুন- চেনেন এই পাখিকে? ঠুকরে নয়, পিষে মেরে ফেলে সাপ!
বিপিনচন্দ্র পাল শুধু রাজনীতিবিদই ছিলেন না — তিনি ছিলেন এক অনন্য বক্তা ও সাংবাদিক। তাঁর ‘বন্দেমাতরম’ পত্রিকা তৎকালীন তরুণ সমাজকে জাগিয়ে তুলেছিল। তাঁর বক্তৃতায় অনুপ্রাণিত হয়ে অসংখ্য যুবক স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
অরবিন্দ ঘোষের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারের আনা মামলায় সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করে তিনি ছয় মাসের জেল খাটেন। অরবিন্দ ঘোষকে বাঁচাতে নিজের স্বাধীনতাকেই উৎসর্গ করেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ ছিল সাহস ও নৈতিকতার বিরল দৃষ্টান্ত। ১৯০৮ সালে তিনি ইংল্যান্ডে যান এবং সেখান থেকে 'Swaraj' নামের জার্নাল প্রকাশ করেন। দেশে ফিরে ১৯১১ সালে আবারও কারাবরণ করেন। কিন্তু বিপিনচন্দ্র পাল কখনও থামেননি — তাঁর কলম, চিন্তা ও আদর্শ সবসময়ই স্বাধীনতার মন্ত্রে অনুপ্রাণিত ছিল।
পরবর্তীতে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে মতপার্থক্য দেখা দিলে তিনি বলেন, 'তুমি জাদু চেয়েছিলে, আমি যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছি।' এই উক্তি তাঁর যুক্তিবাদী ও স্বাধীনচেতা মনোভাবের প্রতিফলন। রাজনীতি থেকে সরে এসে জীবনের শেষ দিকে তিনি সাহিত্য ও লেখালেখিতে মন দেন। প্রবন্ধ, উপন্যাস ও আত্মজীবনী— সবক্ষেত্রেই তিনি অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দেন। তাঁর লেখা, 'শোভনা' (Shobhana), 'সত্তর বছর' (Sattar Bacha) ও বহু ইংরেজি গ্রন্থ আজও ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে স্বীকৃত।
১৯৩২ সালের ২০ মে তিনি পরলোকগমন করেন। কিন্তু তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগ আজও অনুপ্রেরণার উৎস। বিপিনচন্দ্র পাল দেশবাসীকে শিখিয়েছেন, স্বাধীনতা কখনও বিনামূল্যে আসে না, এর জন্য ত্যাগ, অধ্যবসায় এবং অটল বিশ্বাসের প্রয়োজন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us