/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/31/black-coffee-reset-2026-01-31-03-20-30.jpg)
Black Coffee Reset: ব্ল্যাক কফির উপকারিতা জেনে নিন।
Black Coffee Reset: দুধ ও চিনি মেশানো কফি অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। সকালে ঘুম ভাঙানো থেকে শুরু করে কাজের ফাঁকে শক্তি জোগাতে এই কফির ওপর ভরসা করেন বহু মানুষ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষদের মধ্যে দুধ ছাড়া ব্ল্যাক কফির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। অনেকেই ভাবছেন, দুধ বাদ দিলে শরীরে আদৌ কোনও পরিবর্তন আসবে, কি না, নাকি এটি শুধুই একটি ফুড ট্রেন্ড।
দুধ ছাড়া ব্ল্যাক কফি
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধ ছাড়া ব্ল্যাক কফিতে যাওয়ার পর প্রথম যে পরিবর্তনটি বেশিরভাগ মানুষই লক্ষ্য করেন, তা হলো দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণ কমে যাওয়া। দুধ ও চিনি মেশানো কফিতে অজান্তেই অতিরিক্ত ফ্যাট ও শর্করা শরীরে ঢুকে পড়ে। ব্ল্যাক কফি প্রায় ক্যালোরি শূন্য হওয়ায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শরীর হালকা লাগতে শুরু করে এবং অনেকের ফাঁপাভাব কমে যায়।
আরও পড়ুন- পিঠে বা কোমরে ব্যথা থাকলে জিমে যাওয়ার আগে এই ৮টি করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় জেনে নিন
ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে সহায়ক হতে পারে। শুধুমাত্র ব্ল্যাক কফি খেলে ওজন কমে যাবে এমনটা নয়, তবে নিয়মিত দুধ ও চিনি বাদ দিলে ধীরে ধীরে একটি ক্যালোরি ঘাটতি তৈরি হয়। এই ছোট পরিবর্তন ছয় মাস বা তার বেশি সময়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি ক্যাফেইন সামান্য হলেও শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করে এবং ব্যায়ামের সময় ফ্যাট ব্যবহার দক্ষ করে তোলে।
আরও পড়ুন- আর বাজারের ওপর নির্ভরশীল নয়! সহজ উপায়ে সংরক্ষণ করুন, সারা বছর তাজা থাকবে সবুজ মটর
হজমের দিক থেকে ব্ল্যাক কফির প্রভাব ব্যক্তি ভেদে আলাদা হতে পারে। ব্ল্যাক কফি পাকস্থলীতে অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়ায়, যা অনেকের ক্ষেত্রে খাবার হজমে সাহায্য করে। তবে যাঁদের গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের খালি পেটে ব্ল্যাক কফি অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। দুধ সাধারণত অ্যাসিডিটির তীব্রতা কিছুটা কমায়, তাই দুধ ছাড়ার পর অনেকের জন্য খাবারের পরে ব্ল্যাক কফি খাওয়া বেশি আরামদায়ক মনে হয়।
আরও পড়ুন- এখন আপনার বাচ্চারা বই থেকে পালাবে না, এই ৫টি টিপস পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ব্ল্যাক কফি ভালো। দুধ ও চিনি দেওয়া কফি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে। দুধ ছাড়া কফিতে এই সমস্যা না থাকায় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা প্রিডায়াবেটিসে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি তুলনামূলক নিরাপদ। দীর্ঘমেয়াদে চিনি কমানোয় শরীরের ইনসুলিনের মাত্রা বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন- ভালো ঘুমের জন্য ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই ৪টি রুটিন অনুসরণ করুন, সারা দিনের ক্লান্তি ও চাপ দূর হবে
এনার্জি লেভেলের ক্ষেত্রেও ব্ল্যাক কফি বেশ উপকারী। দুধ ও চিনি ছাড়া কফি খেলে শক্তি ধীরে এবং স্থিরভাবে বাড়ে। হঠাৎ চাঙ্গা হয়ে আবার দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ার প্রবণতা কমে যায়, কারণ এতে রক্তে শর্করার ওঠানামা হয় না। ফলে মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা তুলনামূলকভাবে আগের চেয়ে ধারাবাহিকভাবে বেশি থাকে।
তবে দুধ বাদ দেওয়া নিয়ে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। দুধ ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। কফি থেকে দুধ বাদ দিলে এই পুষ্টিগুলি অন্য খাবার থেকে পূরণ করতে হবে। দই, ছানা, বাদাম, বীজ ও শাকসবজি এই ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে ব্ল্যাক কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদযন্ত্র ও পরিপাক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
তবে সবার জন্য ব্ল্যাক কফি সমান উপকারী নয়। যাঁদের গ্যাস্ট্রাইটিস, উদ্বেগজনিত সমস্যা বা ঘুমের ব্যাঘাত রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্ল্যাক কফি সমস্যা বাড়াতে পারে। দিনে এক থেকে দুই কাপ এবং সন্ধ্যার পরে না খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। সব মিলিয়ে বলা যায়, দুধ ছাড়া ব্ল্যাক কফি স্বাস্থ্য সহায়ক। তবে নিজের শরীরের সিগন্যাল বোঝা এবং পরিমিতি বজায় রাখাই সবচেয়ে জরুরি।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us