/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/27/bloating-causes-explained-2026-01-27-17-34-22.jpg)
Bloating Causes Explained: পেট ফাঁপার কারণ জেনে নিন।
Bloating Causes Explained: পেট ফাঁপা (bloating) এমন এক সমস্যা যা অনেকেই হালকাভাবে নেন, কিন্তু দিনের পর দিন চলতে থাকলে এটি হজমজনিত বড় সমস্যার দিকে গড়াতে পারে। লখনউয়ের হেলথ ও ওয়েলনেস কোচ কপিল কানৌদিয়া সম্প্রতি এক ভিডিওতে জানিয়েছেন, আমাদের দৈনন্দিন কিছু সাধারণ অভ্যাসই পেট ফাঁপার মূল কারণ। তিনি জানিয়েছেন, বেশিরভাগ মানুষ জানেনই না যে খুব দ্রুত খাওয়া, অতিরিক্ত বা কম ফাইবার গ্রহণ, এমনকী জল কম বা বেশি খেলেও হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
খাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো করলে আমরা অজান্তেই বেশি বাতাস গিলে ফেলি। এর ফলে পাকস্থলিতে চাপ বাড়ে এবং খাবার ঠিকভাবে ভাঙার আগেই গ্যাস তৈরি হয়। ধীরে চিবিয়ে খেলে হজমকারী এনজাইম বা উৎসেচক সক্রিয় হওয়ার সময় পায় এবং পেট অকারণে ভারী লাগে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেট ভরে যাওয়ার আগেই থামা অর্থাৎ ৭০ শতাংশ পেট ভরে গেলে খাওয়া বন্ধ করলে পেট ফাঁপা ও অ্যাসিডিটির ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
আরও পড়ুন- স্তন ক্যানসারের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে বাড়ছে এই ক্যানসারও! সতর্কবাণী শীর্ষ বিশেষজ্ঞের
ফাইবারজাতীয় খাবার খাওয়া নিয়েও মানুষ প্রায়ই দ্বন্দ্বে ভোগেন। কেউ খুব কম ফাইবার খান, আবার কেউ হঠাৎ অতিরিক্ত ফাইবার ডায়েটে যোগ করেন। দুই ক্ষেত্রেই অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়। চিকিৎসক জগদীশ হিরেমথের মতে, ফাইবার বাড়াতে হলে ধীরে ধীরে বাড়ানো উচিত এবং তার সঙ্গে জল খাওয়ার পরিমাণও সমানভাবে বাড়াতে হবে। না হলে গ্যাস, পেট ভারী লাগা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেবে।
আরও পড়ুন- হৃদপিণ্ড শক্তিশালী ও সুস্থ রাখতে চান, এই অভ্যাস আজ থেকেই এড়িয়ে চলুন, পরামর্শ চিকিৎসকের
জল খাওয়ার ক্ষেত্রেও ভারসাম্য জরুরি। খুব কম জল খেলে হজমশক্তি ধীর হয়ে যায়, আবার অতিরিক্ত জল খাবারের সঙ্গে খেলে হজম রস পাতলা হয়ে তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। শরীরের সংকেত বোঝাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত মলত্যাগ, পেটে অস্বস্তি না থাকা এবং ক্ষুধার স্বাভাবিক অনুভূতিই সঠিক কতটা খেতে হবে, সেই সঠিক পরিমাণের ইঙ্গিত দেয় বলেই বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছন।
আরও পড়ুন- হলুদ বা সোনালি সাবান ব্যবহারের ট্রেন্ড, ত্বকের জন্য এটা আশীর্বাদ না ক্ষতিকারক?
জীবনযাত্রা বা লাইফস্টাইলও পেট ফাঁপা (bloating)-র বড় কারণ। সারাদিন বসে কাজ করা, রাতে দেরি করে খাওয়া এবং শারীরিক নড়াচড়া কম হলে বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। অনেকেই দিনে এক ঘণ্টা শরীরচর্চা করলেও বাকি সময়টায় একটানা বসে থাকেন, যার ফলে রক্তসঞ্চালন ও অন্ত্রের গতিশীলতা কমে যায়। হালকা হাঁটা বা কাজের ফাঁকে নড়াচড়া করাও পেটের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।
আরও পড়ুন- মাত্র ১ লক্ষ টাকায় ঘুরে নিন এই ৬ দেশ
অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি অসহিষ্ণুতাও পেট ফাঁপা (bloating)-এর কারণ হতে পারে। দুধ, গম বা কিছু বিশেষ খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যদি বারবার পেট ফাঁপে, তবে সেটি খাবারের প্রতি অনীহা (food intolerance)-এর লক্ষণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাজারচলতি পরীক্ষা নিরীক্ষার ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে খাবার বাদ দিয়ে আবার ধীরে খেয়ে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করাই পেটফাঁপা কমানোর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।
সবচেয়ে অবহেলিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল, মানসিক চাপ। দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেসে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়, যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে ফেলে বা থামিয়ে দিতে পারে। এর ফলেই পেট ফাঁপা (bloating), গ্যাস, অ্যাসিডিটি এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যা দেখা দেয়। নিয়মিত শরীরচর্চা, গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস, নির্দিষ্ট ঘুমের সময়সূচি ও অল্প সময়ের জন্য ধ্যান (mindfulness) অনুশীলন হজমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পেট ফাঁপা কোনও একটা সমস্যার ফল নয়। বরং এটি আমাদের খাওয়ার ধরন, জীবনযাপন এবং মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট অভ্যাস বদলালেই পেটের অস্বস্তি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সতর্কীকরণ:
এই প্রতিবেদনটি প্রাপ্ত তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। কোনও স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us