/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/08/blood-donation-2026-02-08-19-11-41.jpg)
Blood Donation Effects 24 Hours: রক্তদান করার পর কী হয় জানুন।
Blood Donation Effects 24 Hours: রক্তদান একটি মানবিক ও জীবনরক্ষাকারী উদ্যোগ। দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার কিংবা গুরুতর অসুস্থতায় ভোগা রোগীদের জন্য রক্ত অপরিহার্য। তবু বহু মানুষের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন থেকেই যায়—রক্তদান করার পর শরীরের ভিতরে ঠিক কী ঘটে? বিশেষ করে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় শরীর কতটা নিরাপদ থাকে, ক্লান্তি বা মাথা কেন ঘোরে, আর শরীর কীভাবে নিজেকে সামলে নেয়—এই বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ থাকাই স্বাভাবিক, বিশেষত যাঁরা প্রথমবার রক্তদান করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে তো বটেই।
চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ মানুষের শরীর রক্তদানের সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। রক্ত দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শরীর হারানো তরল ও কোষ পূরণ করার প্রক্রিয়া শুরু করে। প্রথম যে অংশটি সবচেয়ে দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়, তা হল প্লাজমা। প্লাজমা হল রক্তের তরল অংশ, যা রক্তসঞ্চালন ও রক্তচাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে। রক্তদানের পর শরীরের আশপাশের টিস্যু থেকে তরল রক্তনালিতে ধীরে ফিরে আসে, ফলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বেশিরভাগ প্লাজমার ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়।
শরীর কীভাবে কাজ করে?
এই প্রক্রিয়ায় শরীরের একাধিক ব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করে। কিডনি জল ধরে রাখে, যাতে শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় থাকে। মস্তিষ্ক তৃষ্ণা বাড়িয়ে দেয়, ফলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বেশি জল পান করতে চায়। একইসঙ্গে লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম রক্তে প্রয়োজনীয় তরল ও প্রোটিন ফিরিয়ে দেয়। লিভার প্লাজমার গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন যেমন অ্যালবুমিন তৈরি করতে শুরু করে, যা রক্তনালির ভিতরের চাপ ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন- আজ ভালোবাসার মানুষকে প্রপোজ করার সেরা রোমান্টিক মেসেজ, কোটস ও স্ট্যাটাস কী হতে পারে?
প্লাজমা দ্রুত ফিরলেও লোহিত রক্তকণিকা বা রেড ব্লাড সেলের পুনর্গঠন তুলনামূলকভাবে বেশি সময় নেয়। সাধারণত সম্পূর্ণভাবে নতুন লোহিত কণিকা তৈরি হতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। তবে এতে আতঙ্কের কিছু নেই। কারণ রক্তদানের সময় শরীর থেকে যে পরিমাণ রক্ত নেওয়া হয়, তা একটি সুস্থ শরীর সহজেই সামাল দিতে পারে। প্লেটলেট ও শ্বেত রক্তকণিকার ক্ষেত্রে পুনরুদ্ধার আরও দ্রুত হয়। বোন ম্যারো রক্তদানের পরপরই নতুন কোষ তৈরি শুরু করে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই এই কোষগুলির মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
আরও পড়ুন- যাঁরা রাতে দেরি করে খান, তাঁদের কী পরামর্শ দিচ্ছেন এইমসের প্রাক্তন বিশেষজ্ঞ?
রক্তদানের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টায় কিছু মানুষ হালকা ক্লান্তি বা মাথা ঘোরার অনুভূতি পেতে পারেন। এর অন্যতম কারণ হল সাময়িকভাবে রক্তের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং ভ্যাসোভ্যাগাল প্রতিক্রিয়া। এই অবস্থায় ভ্যাগাস নার্ভ হৃৎস্পন্দন ধীর করে দিতে পারে এবং রক্তনালিকে কিছুটা প্রসারিত করে, যার ফলে মস্তিষ্কে সাময়িকভাবে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। সাধারণত তরুণ বয়সি, প্রথমবার রক্তদানকারী অথবা যাঁদের শরীরের গঠন তুলনামূলকভাবে ছোট, তাঁদের মধ্যে এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়।
আরও পড়ুন- কেরলের প্রাচীন মার্শাল আর্ট কীভাবে বদলে দিচ্ছে যুদ্ধ, চিকিৎসা এবং জীবনদর্শন? শুনলে অবাক হয়ে যাবেন
ডিহাইড্রেশন, খালি পেটে রক্তদান, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া বা স্বাভাবিকভাবেই কম রক্তচাপ থাকলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব উপসর্গ সাধারণত সাময়িক। রক্তদানের পর পর্যাপ্ত জল পান করা, হালকা খাবার খাওয়া এবং কিছু সময় বিশ্রাম নিলেই বেশিরভাগ মানুষ দ্রুত স্বাভাবিক বোধ করেন।
আরও পড়ুন- খাওয়ার পর এলাচ চিবিয়ে খেলে কী হয়? উপকারিতা জানলে আপনিও এই অভ্যাস করবেন
প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শরীর এক ধরনের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যায়। হার্ট রক্তসঞ্চালন বজায় রাখে, কিডনি ও হরমোনাল সিস্টেম তরলের ভারসাম্য রক্ষা করে, লিভার প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করে, আর বোন ম্যারো নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই সমন্বিত ব্যবস্থার কারণেই একজন সুস্থ রক্তদাতা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দৈনন্দিন কাজে ফিরে যেতে পারেন।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার ও সঠিক পুষ্টি গ্রহণ করলে লোহিত রক্তকণিকার ঘাটতিও ধীরে পূরণ হয়ে যায়। সব মিলিয়ে বলা যায়, রক্তদান শরীরের পক্ষে নিরাপদ এবং সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘমেয়াদি কোনও ক্ষতি করে না। বরং এটি সমাজের জন্য এক অমূল্য অবদান, যা অন্যের জীবন বাঁচাতে সরাসরি সাহায্য করে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us