/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/20/cream-1-2025-12-20-05-12-34.jpg)
Body Odour Control Tips: শরীর দুর্গন্ধমুক্ত করার কায়দাগুলো জেনে নিন।
Body Odour Control Tips: ঘাম হওয়া একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অতিরিক্ত ঘাম এবং ঘামের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শ ঘটলে অনেকের শরীরে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। এই দুর্গন্ধ শুধু শারীরিক অস্বস্তিই নয়, অনেক সময় আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলে। অফিস, সামাজিক অনুষ্ঠান বা দৈনন্দিন কাজকর্মে নিজেকে অপ্রস্তুত মনে হতে পারে। তবে কিছু সহজ অভ্যাস ও ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চললে সারাদিন শরীরকে সতেজ ও সুন্দর গন্ধযুক্ত রাখা সম্ভব।
ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি
সবার আগে প্রয়োজন ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধির দিকে নজর দেওয়া। প্রতিদিন নিয়মিত স্নান করা ঘামের দুর্গন্ধ কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। গোসলের সময় সুগন্ধযুক্ত বডি ওয়াশ বা সাবান ব্যবহার করলে ত্বকের ওপর জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া দূর হয়। বিশেষ করে বগল, পায়ের ভাঁজ, ঘাড় ও কানের পিছনের মতো জায়গাগুলিতে বাড়তি মনোযোগ দেওয়া জরুরি, কারণ এই অংশগুলিতেই ঘাম বেশি জমে। সপ্তাহে অন্তত একবার শরীর এক্সফোলিয়েট করলে মৃত ত্বকের কোষ দূর হয় এবং দুর্গন্ধের ঝুঁকি কমে।
আরও পড়ুন- ধীরে বার্ধক্য কমাতে কোন পরিপূরক সত্যিই কাজে আসে?
সুগন্ধি বা পারফিউম ব্যবহারেরও একটি সঠিক নিয়ম আছে। অনেকেই সরাসরি পারফিউম ব্যবহার করেন, কিন্তু তার আগে সুগন্ধযুক্ত বডি লোশন বা ক্রিম লাগালে গন্ধ বেশি সময় ধরে থাকে। স্নানের পর শরীর শুকিয়ে গেলে কবজি, ঘাড় ও কানের পিছনে অল্প পরিমাণ পারফিউম ব্যবহার করলে তা সারাদিন হালকা ও সতেজ গন্ধ ছড়ায়। অতিরিক্ত পারফিউম ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ তাতে উলটো অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন- মরশুমি বিষণ্ণতা! আটকান ৬ কায়দায়, জানুন শীতে মন ভালো রাখবেন কীভাবে
ডিওডোরেন্ট বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। খুব ভারী বা কেমিক্যালযুক্ত ডিওডোরেন্ট অনেক সময় ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। হালকা ও ত্বকবান্ধব ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করলে ঘামের গন্ধ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ত্বকও স্বাভাবিক থাকে। যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁদের হাইপোঅ্যালার্জেনিক ডিওডোরেন্ট বেছে নেওয়া উচিত। গোসলের পরপরই ডিওডোরেন্ট লাগালে তার কার্যকারিতা বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন- আপনি কি মহিলা, নিয়মিত ডিম খাচ্ছেন, জানেন কী হতে পারে?
শুধু শরীর নয়, পোশাকের পরিচ্ছন্নতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত কাপড় ধোয়া এবং সুগন্ধযুক্ত ডিটারজেন্ট ব্যবহার করলে কাপড়ে জমে থাকা দুর্গন্ধ দূর হয়। ফ্যাব্রিক সফটনার বা ড্রায়ার শিট ব্যবহার করলে কাপড় আরও সতেজ থাকে। আলমারিতে শুকনো ল্যাভেন্ডার বা সুগন্ধি ভেষজের প্যাকেট রাখলে পোশাক দীর্ঘ সময় সুন্দর গন্ধ বজায় রাখে।
আরও পড়ুন- পেটের সুস্থতার কারণ এগুলো, জেনে নিন বিস্তারিত!
ঘরোয়া উপায়েও ঘামের দুর্গন্ধ অনেকটাই কমানো যায়। বেকিং সোডা ও জল মিশিয়ে তৈরি পেস্ট ঘামযুক্ত জায়গায় লাগালে তা দুর্গন্ধ শোষণ করতে সাহায্য করে। সপ্তাহে এক বা দু’বার ব্যবহার করলেই ভালো ফল পাওয়া যায়। আপেল সিডার ভিনেগার ও জল মিশিয়ে তৈরি স্প্রে স্নানের পর ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমে এবং দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
গ্রিন টি ব্যাগও ঘামের গন্ধ কমাতে বেশ কাজের। গরম জলে ভিজিয়ে ঠান্ডা করা গ্রিন টি ব্যাগ বগলে লাগালে তা ত্বককে সতেজ রাখে। একইভাবে কফি স্ক্রাব মৃত ত্বক দূর করে এবং ত্বককে পরিষ্কার রাখে। কফির সঙ্গে নারকেল তেল বা জলপাই তেল মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করলে ত্বক নরম ও সুগন্ধযুক্ত থাকে।
নিম পাতার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ বহুদিন ধরেই পরিচিত। পিষে নেওয়া নিম পাতা দুর্গন্ধযুক্ত স্থানে লাগালে ব্যাকটেরিয়া কমে এবং ঘামের গন্ধ নিয়ন্ত্রণে আসে। নিয়মিত ব্যবহারে এই ঘরোয়া উপায়গুলি বেশ কার্যকরী ফল দিতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে খুব জটিল কিছু করার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, সঠিক পণ্য ব্যবহার এবং কয়েকটি ঘরোয়া টিপস মেনে চললেই সারাদিন শরীরকে সতেজ ও আত্মবিশ্বাসী রাখা সম্ভব। তবে যদি ঘামের সমস্যা অত্যধিক হয় বা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us