/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/10/bone-health-alert-2025-11-10-17-40-20.jpg)
Bone Health Alert: হাড়ের দুর্বলতার কারণ বিস্তারিত জেনে নিন।
Bone Health Alert: সময়মতো না খাওয়ার অভ্যাসকে অনেকেই তেমন গুরুত্ব দেন না। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এটি কেবল হজম বা ওজন নিয়ন্ত্রণের সমস্যা নয় — হাড়ের স্বাস্থ্যের সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
জাপানে পরিচালিত এক বিশাল গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা নিয়মিত সকালের খাবার খান না, আর রাতে দেরি করে খান, তাঁদের মধ্যে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
আরও পড়ুন- থাইরয়েডে একদম এড়িয়ে চলুন এই ৬ খাবার, না হলে বিরাট বিপদ!
আমাদের শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবিক ঘড়ি প্রতিদিনের কাজকর্ম ও বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা যখন সময়মতো খাই, শরীর ঠিকভাবে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি শোষণ করতে পারে। কিন্তু, ব্রেকফাস্ট বাদ দিলে বা রাতের খাবার দেরিতে খেলে এই ছন্দ নষ্ট হয়ে যায়। ফলাফল— শরীরের ক্যালসিয়াম শোষণ কমে যায়, হাড়ের ঘনত্ব ধীরে ধীরে কমে এবং অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে।
আরও পড়ুন- হাঁটা না দৌড়নো, শরীরের জন্য কোনটা বেশি ভালো, কী বলছে গবেষণা?
জাপানি গবেষকরা ৯,২৭,১৩০ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা চালান। ফলাফল দেখায়, যাঁরা প্রতিদিন ব্রেকফাস্ট বাদ দেন, তাঁদের হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। যাঁরা রাতে দেরি করে খান, তাঁদের ক্যালসিয়াম মেটাবলিজম দুর্বল হয়। অনিয়মিত ঘুম ও খাওয়া হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা হাড় ক্ষয় বাড়ায়।
আরও পড়ুন- বিধবারাই জন্ম দিয়েছিলেন একের পর এক সুস্বাদু পদ, বাঙালি পেয়েছে অনন্য স্বাদের নিরামিষ রান্না!
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্টিওপোরোসিস হল এমন এক অবস্থা যেখানে হাড় পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। সামান্য আঘাতেই হাড় ভেঙে যেতে পারে। এটি সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, তবে অনিয়মিত জীবনযাত্রা এবং খাওয়ার অভ্যাসের কারণে এখন তরুণদের মধ্যেও এমনটা দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন- শীতের সকালে লোটে আর কাচকির একঘেয়েমি কাটাতে, ঝাল পেঁয়াজ-রসুনে করুন বাজিমাত!
চিকিৎসকদের মতে, যে অভ্যাসগুলো হাড় দুর্বল করতে পারে, সেগুলো হল- সকালের ব্রেকফাস্ট বাদ দেওয়া, রাতে দেরিতে খাওয়া, ধূমপান এবং অ্যালকোহল গ্রহণ, ব্যায়ামের অভাব, সূর্যালোকের অভাব (ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি)। এসব কথা মাথায় রেখেই চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, হাড় মজবুত রাখতে হলে প্রতিদিন সময়মতো তিনবেলা খাওয়া উচিত।
চিকিৎসকরা যা জানিয়েছেন
ব্রেকফাস্ট কখনও বাদ না দেওয়াই উচিত। রাতে ঘুমানোর ২ ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করা উচিত। প্রতিদিন ২০–৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা উচিত। দুধ, দই, বাদাম, পালং শাক, মসুর ডাল, স্যামন মাছের মতো ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। পর্যাপ্ত ঘুম ও সূর্যের আলো যাতে গায়ে লাগে, তা নিশ্চিত করা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, 'হাড়ের শক্তি শুধু ক্যালসিয়ামের বড়ি খাওয়ার ওপরই নির্ভর করে না। সঠিক সময়ে খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত ব্যায়াম— এই তিনটি জিনিসই হাড়ের আসল ভরসা।' সময়মতো খাওয়া হয়তো ছোটখাটো বিষয় মনে হতে পারে। কিন্তু, এটি হাড়ের সুস্থতার এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ব্যস্ততার অজুহাতে ব্রেকফাস্ট বাদ দেওয়া বা রাতের খাবার দেরিতে খাওয়া আজ সামান্য ঘটনা মনে হলেও ভবিষ্যতে এটি অস্টিওপোরোসিসের মত গুরুতর সমস্যায় রূপ নিতে পারে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us