Brain Health Habits: মস্তিষ্ক সুস্থ থাকবে, স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ৬টি সহজ অভ্যাসের ওপর জোর দিচ্ছেন স্নায়ু বিশেষজ্ঞরা

Brain Health Habits: মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে কী করবেন? স্নায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাসই ব্রেনের স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারে।

Brain Health Habits: মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে কী করবেন? স্নায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাসই ব্রেনের স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারে।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Brain Health Habits: মস্তিষ্কের জন্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

Brain Health Habits: মস্তিষ্কের জন্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

Brain Health Habits: বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক হলেও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়াকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। স্নায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্ক এমন একটি অঙ্গ যা নিয়মিত যত্ন পেলে আজীবন নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারে। প্রতিদিনের জীবনযাপনের কিছু সহজ অভ্যাসই মস্তিষ্ককে সক্রিয়, স্থিতিস্থাপক এবং স্মৃতিশক্তিতে সমৃদ্ধ রাখতে সাহায্য করে থাকে।

Advertisment

সক্রিয় জীবনযাপন মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে। শারীরিক নড়াচড়া মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়ায়, যার ফলে অক্সিজেন ও পুষ্টি সহজে পৌঁছয়। নিয়মিত হাঁটা, হালকা দৌড়, যোগব্যায়াম বা স্ট্রেচিং নতুন স্নায়ু সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করে এবং চিন্তাভাবনাকে তীক্ষ্ণ রাখে। দীর্ঘ সময় ব্যায়াম না করলে মন ধীর হয়ে যায়, কিন্তু প্রতিদিন অল্প হলেও শরীর চালনা করলে মানসিক সতেজতা বজায় থাকে।

আরও পড়ুন- কিডনির স্বার্থে কোন ৬ খাবার এবং পানীয় ভুলেও খাবেন না, জেনে নিন বিশেষজ্ঞ কী বলছেন

পর্যাপ্ত ঘুমকে অনেকেই অবহেলা করেন, অথচ এটি মস্তিষ্কের মেরামতের সময়। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক অপ্রয়োজনীয় তথ্য পরিষ্কার করে, স্মৃতি সংগঠিত করে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত ঘুম না হলে মনোযোগ কমে যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায় এবং ধৈর্য হারিয়ে যায়। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং রাতে স্ক্রিন টাইম কমানো মস্তিষ্ককে পরের দিনের জন্য প্রস্তুত করে।

আরও পড়ুন- দই দিয়ে বানান ৬টি অজানা রেসিপি, যা স্বাদে ও পুষ্টিতে চমকে দেবে!

নতুন কিছু শেখা মস্তিষ্কের তারুণ্য ধরে রাখার অন্যতম উপযোগী উপায়। অনেকেই মনে করেন বয়স বাড়লে শেখার ক্ষমতা কমে যায়, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন এই ধারণা ভুল। নতুন ভাষা শেখা, অপরিচিত বিষয় নিয়ে পড়াশোনা বা দৈনন্দিন কাজের পদ্ধতিতে সামান্য পরিবর্তন মস্তিষ্ককে চ্যালেঞ্জ করে। কোনও বিষয় বুঝতে কষ্ট হওয়া আসলে মানসিক দুর্বলতার লক্ষণ নয়, বরং নতুন স্নায়ুপথ তৈরির ইঙ্গিত।

আরও পড়ুন- পেট ফাঁপার আসল কারণ কী? বিশেষজ্ঞের মতে, ৮টি ভুল না করলে কমবে এই সমস্যা

খাদ্যাভ্যাস মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখে। শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম, বীজ, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও মাছ স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত জল পান মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার চিন্তাভাবনাকে ধীর করে দিতে পারে, তাই স্বাদের পাশাপাশি খাবার খাওয়ার পর শরীর ও মনের অনুভূতিকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কঠোর ডায়েট নয়, বরং ভারসাম্যই মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে উপকারী বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

আরও পড়ুন- হলুদ বা সোনালি সাবান ব্যবহারের ট্রেন্ড, ত্বকের জন্য এটা আশীর্বাদ না ক্ষতিকারক?

মানসিক চাপ দীর্ঘদিন ধরে চললে মস্তিষ্ক দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত খবর দেখা বা মানসিকভাবে ক্লান্তিকর পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা জরুরি। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, একা হাঁটা বা নিরিবিলি সময় কাটানো স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে। শান্ত মনই সুস্থ মস্তিষ্কের ভিত্তি এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা স্মৃতিশক্তির মতই গুরুত্বপূর্ণ।

সামাজিক সম্পর্ক

সামাজিক সম্পর্ক মস্তিষ্কের জন্য প্রাকৃতিক সুরক্ষার কাজ করে। অর্থপূর্ণ কথোপকথন, হাসি, গল্প বলা ও মনোযোগ দিয়ে শোনা মস্তিষ্কের ভাষা, স্মৃতি ও সহানুভূতিকে সক্রিয় রাখে। বড় বন্ধু মহল প্রয়োজন নেই, বরং কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগই মানসিক শক্তি জোগায়। একাকীত্ব মস্তিষ্ককে দুর্বল করে, কিন্তু সম্পর্ক মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে।

এই সব অভ্যাস একসঙ্গে মস্তিষ্ককে শুধু সুস্থই রাখে না, বরং যে কোনও বয়সে শেখার ক্ষমতা ও মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস (Brain Health Habits) অনুসরণ করলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং জীবন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

health habits brain