/indian-express-bangla/media/media_files/2025/09/22/saradindu-bandyopadhyay-2025-09-22-02-42-56.jpg)
Saradindu Bandyopadhyay: শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়।
Writer Saradindu Bandyopadhyay: বাংলা সাহিত্যে ব্যোমকেশ বক্সীর নাম শুনলেই প্রথমেই মনে আসে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা। কিন্তু এই কিংবদন্তি লেখক শুরুতে সাহিত্যকে পেশা হিসেবে নিতে চাননি। তিনি ছিলেন একজন উকিল। বাবার ইচ্ছেতেই ওকালতি শুরু করেছিলেন, কিন্তু মনের টান ছিল একেবারেই অন্যখানে, সাহিত্য জগতে।
১৮৯৯ সালে উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরে জন্ম নেওয়া শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের শৈশব কাটে মুঙ্গেরে। কলকাতায় পড়াশোনা শেষে ১৯২৬ সালে আইন পাশ করে বাবার সঙ্গে ওকালতি শুরু করেন। কিন্তু খুব বেশিদিন ওকালতিতে মন টেকেনি। ১৯২৯ সালে তিনি পেশা হিসেবে সাহিত্যকেই বেছে নেন। প্রথমদিকে শরদিন্দু কবিতা লিখতেন। তাঁর প্রথম বই 'যৌবনস্মৃতি' ছিল কাব্যগ্রন্থ। কিন্তু পরে গল্প ও উপন্যাসের দিকেই ঝোঁকেন। ১৯৩২ সালে জন্ম নেয় তাঁর অমর সৃষ্টি ব্যোমকেশ বক্সী। প্রথম গল্প 'পথের কাঁটা' দিয়েই পাঠককে মুগ্ধ করেন। পরে ধারাবাহিকভাবে লেখেন আরও অনেক ব্যোমকেশ রহস্য।
আরও পড়ুন- জানেন মহিলারা চুড়ি পরেন কেন? কারণটা জানলে অবাক হয়ে যাবেন!
তিরিশের দশকের শেষদিকে শরদিন্দুর সংসারে আর্থিক চাপ দেখা দেয়। ১৯৩৮ সালে তিনি চাকরির খোঁজে চলে যান মুম্বাই। সেখানে বম্বে টকিজে চিত্রনাট্যকারের কাজে যোগ দেন। ‘ভাবী’, ‘বচন’, ‘আজাদ’ প্রভৃতি জনপ্রিয় ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন তিনি। মুম্বইতে থাকাকালীন তাঁর সঙ্গী ছিলেন সংগীত ও চলচ্চিত্র জগতের নামজাদা শিল্পীরা।
আরও পড়ুন- নবরাত্রির প্রথম দিনে দেবী শৈলপুত্রীর আরাধনা, জানেন কী লাভ হয় এতে?
সিনেমার কাজ তাঁকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করলেও সাহিত্যই ছিল তাঁর প্রকৃত ভালোবাসা। ছেলে চাকরিতে থিতু হতেই তিনি সিনেমার জগৎ ছেড়ে পুনেতে চলে আসেন। ১৯৫১ সালে আবারও জন্ম নেয় ব্যোমকেশের নতুন অধ্যায়— ‘চিত্রচোর’। এরপর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাহিত্যই হয়ে ওঠে তাঁর একমাত্র সাধনা।
আরও পড়ুন- দুর্গাপূজায় করা হয় চণ্ডীপাঠ, কিন্তু চণ্ডী এবং দেবী দুর্গা কি একই দেবী?
ঐতিহাসিক ও ভৌতিক সাহিত্য
শুধু গোয়েন্দা গল্পেই নয়, ঐতিহাসিক ও ভৌতিক সাহিত্যে তাঁর অবদান অনন্য। ‘তুঙ্গভদ্রার তীরে’, ‘গৌড়মল্লার’, ‘কালের মন্দিরা’ প্রভৃতি উপন্যাস আজও পাঠকের কাছে সমান জনপ্রিয়। অতিপ্রাকৃত গল্পে ‘বরদা সিরিজ’ বা সদাশিবের দুষ্টুমিও ভোলার নয়।
‘তুঙ্গভদ্রার তীরে’ উপন্যাসের জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রবীন্দ্র পুরস্কার পান। তাঁর লেখা ‘চিড়িয়াখানা’ অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় সিনেমা নির্মাণ করেন। এছাড়া ‘ঝিন্দের বন্দি’, ‘দাদার কীর্তি’-সহ তাঁর একাধিক উপন্যাস সিনেমায় রূপ পেয়েছে। ১৯৭০ সালে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ হলেও তাঁর সৃষ্ট ব্যোমকেশ আজও বাংলার প্রতিটি প্রজন্মের প্রিয়। রহস্য, ইতিহাস, ভৌতিক ও সামাজিক উপন্যাসে তিনি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us