শুধু ওজন কমানো নয়, ডায়েটে সারানো যায় অসুখও: রূপশ্রী

Keto Diet: ডায়েটিশিয়ান রূপশ্রী চক্রবর্তী কলকাতার তরুণ উদ্যোগপতিদের একজন যাঁর কিটো ডায়েট সার্ভিস শুধু আর শহরের গণ্ডিতে আটকে নেই।

By: Kolkata  Updated: February 18, 2020, 04:00:10 PM

ছোটপর্দা ও বড়পর্দার সমসাময়িক অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ওজন নিয়ে যেমন সচেতন থাকতে হয়, তেমনই ডায়েট করতে গিয়ে যাতে গ্ল্যামার নষ্ট না হয়ে যায়, সেই দিকটাও খেয়াল রাখা জরুরি। কলকাতার সেলিব্রিটি ডায়েটিশিয়ান রূপশ্রী চক্রবর্তী বলেন, সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল সুস্বাস্থ্য এবং সেটাই যে কোনও ডায়েট প্ল্যানের মূল কথা। সে সব নিয়ে কথা বললেন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা-র সঙ্গে এবং পাঠকদের জন্য দিলেন পাঁচটি ডায়েট টিপস।

টলি ও টেলিপাড়ার বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীর ডায়েট ও সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার দায়িত্ব এখন ওঁর হাতে। এই তালিকায় রয়েছেন অভিনেত্রী রূপসা মুখোপাধ্যায়, অনিন্দিতা বোস, প্রত্যুষা পাল, শুভজিৎ কর আবার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পাশাপাশি কলকাতার বেশ কয়েকজন উদ্যোগপতিও রয়েছেন তাঁর ক্লায়েন্ট-তালিকায়।

আরও পড়ুন: গর্ভাবস্থায় এই ওষুধ খেলে সন্তানের ওবেসিটির ঝুঁকি বেড়ে যায়

”আমি কলেজে পড়ার সময় থেকেই কিটোসিস নিয়ে পড়াশোনা শুরু করি। আমি নিজে পিসিওডি পেশেন্ট ছিলাম একটা সময়। পিসিওডি থেকে ডায়বেটিস এবং আরও অনেক সমস্যা দেখা দেয়। আমি তখন থেকেই বুঝেছিলাম যে ডায়েট শুধু ওজন কমানোর জন্য নয়, সঠিক ডায়েট অনেক রোগ সারিয়ে দিতে পারে। আমি নিজে যখন ডায়েটেশিয়ান হিসেবে কাজ শুরু করেছি, তখন আমি মাথায় রেখেছিলাম যিনি আমার কাছে আসবেন তাঁকে ক্লিনিকালি ফিট করে তুলতে হবে ডায়েটের মাধ্যমে”, বলেন রূপশ্রী।

Celebritry dietician Rupashree Chakraborty explains the importance of Keto diet and clinical fitness প্রীতি বিশ্বাস, প্রিয়াঙ্কা হালদার, অনন্যা বিশ্বাস ছাড়াও টেলিপাড়ার বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীর ডায়েটিশিয়ান রূপশ্রী।

২০১৭ সালে রূপশ্রী শুরু করেন তাঁর ডায়েট ফরএভার সার্ভিস। এই সার্ভিসের বিশেষত্ব হল পেশেন্টের ডায়েট পরিকল্পনার পাশাপাশি তাঁকে সেই নির্দিষ্ট ডায়েট প্রস্তুত করে পৌঁছে দেওয়া। তাঁর এই অভিনব উদ্যোগ খুব তাড়াতাড়ি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে বাংলা বিনোদন জগতে। শুটিংয়ে ব্যস্ত অভিনেতা-অভিনেত্রীরা অনেক সময়েই ডায়েট প্ল্যান অনুযায়ী খাবার ঠিকমতো হাতের কাছে পান না। সেই সমস্যারই সমাধান করেছেন রূপশ্রী।

বলতে গেলে ডায়েট কনসালটেন্সিকে একটি অন্য পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন রূপশ্রী। ”আমার প্রথম ক্লায়েন্ট ছিল পার্নো মিত্র। তার পরে অনেকেই আস্তে আস্তে আমার সার্ভিস নিতে শুরু করে। রূপসা মুখোপাধ্যায়, অনিন্দিতা বোস, প্রত্যুষা পাল, শুভজিৎ কর, প্রীতি বিশ্বাস, বিজয়লক্ষ্মী… এঁরা সবাই আমার ক্লায়েন্ট”, বলেন রূপশ্রী।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডায়েট প্ল্যানের ক্ষেত্রে পেশেন্টের মেডিকাল হিস্ট্রি জানাটা খুবই প্রয়োজনীয়। কিন্তু রূপশ্রী জানালেন, শুধু পেশেন্টের নয়, তাঁর বাবা-মায়ের কী কী রোগব্যাধি রয়েছে বা পরিবারে কোনও জেনেটিক সমস্যা আছে কি না, সেটা না জেনে ডায়েট প্ল্যান দেওয়া উচিত নয়। মানুষের মধ্যে কিটো ডায়েট নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা বা মিথ রয়েছে সেই বিষয়েও আলোকপাত করলেন তরুণ উদ্যোগপতি।

”অনেকে ভাবেন কিটো ডায়েট মানেই প্রোটিন-হেভি ডায়েট আর সাপ্লিমেন্ট। আমি কোনও সাপ্লিমেন্ট দিই না আমার পেশেন্টদের। আর যেহেতু আমার লক্ষ্য থাকে পেশেন্টকে ক্লিনিকালি ফিট করে তোলা, তাই আমি এমনভাবেই ডায়েট প্ল্যান করি যাতে ওয়েট লস করলেও পেশেন্টের যাতে ক্যালরি ডেফিসিট না হয়। ওটা হলে কিন্তু ত্বকে, চেহারায় তার প্রভাব পড়বে”, রূপশ্রী জানান।

রূপশ্রী তাই সব সময়েই ক্লিনিকাল ফিটনেসকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে রাখেন। তাঁর ডায়েট কনসালটেন্সি অবশ্য এখন আর কলকাতায় সীমাবদ্ধ নেই। কলকাতা ছাড়াও গুরগাঁওতে রয়েছে তাঁর অফিস। বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থাও তাঁর সার্ভিস নিয়ে থাকে। ওই সব সংস্থার কর্মচারীদের নিয়মিত ডায়েট-নির্দিষ্ট খাবারও পৌঁছে দেয় তাঁর সংস্থা। তবে রূপশ্রী তাঁর এই সার্ভিসকে গ্লোবাল স্তরে নিয়ে যেতে চান। তাই প্রবাসী বাঙালি এবং ভারতীয়দেরও কনসালটেন্সি করে থাকেন।

কিন্তু রূপশ্রী জানালেন কিটোসিস নিয়ে তাঁর পড়াশোনা শেষ হয়ে যায়নি– ”এটা এমন একটা ফিল্ড, প্রতিদিনই নতুন কিছু তথ্য সামনে আসছে, রিসার্চ হচ্ছে, ট্রিটমেন্টের ধরন বদলাচ্ছে, নতুন কেস হিস্ট্রি আসছে, এগুলো নিয়ে সব সময় চর্চার মধ্যে থাকতে হয়। তবে আমার মনে হয় মানুষের মধ্যে এখনও ডায়েট নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। ডায়েট মানেই ওজন কমানো নয়, এটা সবার আগে মানুষকে বুঝতে হবে। আর সচেতন বৈজ্ঞানিক ডায়েটের শৃঙ্খলা যদি মেনে চলা যায়, তবে অনেক অসুখ সারিয়ে তোলা যায়, অনেক অসুখ থেকে দূরেও থাকা যায়।”

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা-র পাঠকদের জন্য রইল রূপশ্রীর পাঁচটি ডায়েট টিপস–

১. কম খেয়ে ডায়েট করা পুরোপুরি ভুল পদ্ধতি। এমনকী ডায়েট করার জন্য ভাত খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে, এটা একেবারেই একটা মিথ।
২. কখনও কোনও সাপ্লিমেন্ট খেয়ে ডায়েট করা ঠিক নয়। সাপ্লিমেন্ট-স্টেরয়েড শরীরে অনেক বড়সড় সমস্যা ডেকে আনে।
৩. অনেকে ভাবেন, ২ ঘন্টা ছাড়া ছাড়া অল্প অল্প খেলে ওজন কমবে। সব পেশায় এটা সম্ভব নয় আর এটা দিয়ে খুব বেশি ফল পাওয়া যায় না।
৪. যাঁদের কাজের জায়গায় প্রচণ্ড মানসিক চাপ থাকে, স্ট্রেস বেশি, তাঁরা সকালবেলা দিনটা শুরু করুন ড্রাই ফ্রুটস দিয়ে। কারণ এতে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা স্ট্রেসজনিত কারণে শরীরকে ভেঙে পড়তে দেয় না।
৫. সব সময় মনে রাখতে হবে যে ডায়েট ইজ সাসটেনেবেল। এমন ডায়েট অনুসরণ করতে হবে যাতে ত্বক আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। খুব সহজ একটি উপকরণ হল ভাত-ডাল-তরকারির মধ্যে ঘি খাওয়া।

Get all the Latest Bengali News and West Bengal News at Indian Express Bangla. You can also catch all the Latest News in Bangla by following us on Twitter and Facebook

Web Title:

Celebritry dietician rupashree chakraborty explains the importance of keto diet and clinical fitness

The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com.
Advertisement

BIG NEWS
X