Chinese Kali Temple: ট্যাংরার চিনে-কালীর অদ্ভুত ইতিহাস, জাগ্রত দেবীর প্রতি অগাধ বিশ্বাস ভক্তদের

Chinese Kali Temple: ট্যাংরার চিনে কালী মন্দির (Chinese Kali Temple)-এর বৈশিষ্ট্য রহস্যময় কারণসেবা, চেং ইয়ি শেং-এর তত্ত্বাবধান, চৈনিক–ভারতীয় সংস্কৃতির অনন্য মিলন।

Chinese Kali Temple: ট্যাংরার চিনে কালী মন্দির (Chinese Kali Temple)-এর বৈশিষ্ট্য রহস্যময় কারণসেবা, চেং ইয়ি শেং-এর তত্ত্বাবধান, চৈনিক–ভারতীয় সংস্কৃতির অনন্য মিলন।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Chinese Kali Temple: ট্যাংরার চিনা কালীমন্দির।

Chinese Kali Temple: ট্যাংরার চিনা কালীমন্দির।

Chinese Kali Temple: কলকাতার ট্যাংরা এলাকা বহু বছর ধরেই চাইনিজ-ইন্ডিয়ান কমিউনিটির কেন্দ্র। এখানে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় চামড়ার কারখানা, রঙিন বাড়িঘর এবং বিশেষ করে একটি রহস্যময় মন্দির — Chinese Kali Temple। বাঙালি ও চিনে সংস্কৃতির মিলনে গড়ে ওঠা এই ছোট মন্দির আজও বহন করে এক গভীর ঐতিহ্য।

Advertisment

দেবী এখানে ফলাহারী, মাংসের স্পর্শ ঘটে না

মন্দিরের প্রধান সেবক, প্রায় ৬৫ বছরের চেং ইয়ি শেং গম্ভীর মুখে জানিয়েছেন, সাধারণত মা কালী এখানে ফলাহারী, অর্থাৎ মাংসের স্পর্শ ঘটে না। কিন্তু বছরে একবার, কালীপুজোর রাতে, দেবীর উদ্দেশে সস্তার রাম বা হুইস্কি নিবেদন করা হয়। মায়ের কারণসেবা রীতিটি তিনি বহু বছর ধরে পালন করছেন। এই ব্যাপারে শেং বলেন, 'বছরে এই এক বারই!' এখানে ভারতীয় এবং চৈনিক সংস্কৃতির অদ্ভুত মিলন মন্দিরটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। 

আরও পড়ুন- সন্ধ্যায় বানিয়ে ফেলুন মুচমুচে চিজ পকোড়া, পরিবারের লোকজনের মুখে লেগে থাকবে!

Advertisment

চেং ইয়ি শেং বহু আগেই আমেরিকায় গিয়ে বসতি গড়েছেন। তাঁর পরিবার—স্ত্রী ও মেয়ে ছিলেন কানাডায়। তবুও ট্যাংরার ছোট্ট এই মন্দিরের প্রতি টান তাঁকে আবার ফিরিয়ে এনেছে। গত ১০ বছর ধরে তিনিই মন্দিরের দেখভাল করেন। তিনি বলেন, 'মন্দিরের কাজে কাউকে তোয়াজ করি না! শরীর সুস্থ থাকলে আমিই সব সামলাই!' কালীপুজোর আগের দিন তিনি রাস্তার কল থেকে জল এনে মন্দির পরিষ্কার করেন। বালতি ধরে সাবানজল ছিটিয়ে মন্দিরকে নতুনের মতো ঝকঝকে করে তোলেন।

আরও পড়ুন- ভারতের এই ৫টি স্থাপত্যের বয়স ৫০০ বছরেরও বেশি, গিয়েছেন কখনও?

দশক খানেক আগে মন্দিরটি ছিল একটি অ্যাসবেস্টসের টালির ঘর মাত্র। আজ তা হয়ে উঠেছে সুন্দর পাকাবাড়ি, নিজস্ব ইলেকট্রিক লাইনে আলোকিত। কালীপুজোর সন্ধ্যায় ট্যাংরার রাস্তাজুড়ে আলোর মালা ঝলমল করে। চিনা মেয়ে-বউরা লাল ধূপ জ্বালিয়ে মায়ের সামনে প্রণাম জানান। বাঙালি ও চিনে ভক্তদের এই অনন্য মেলবন্ধন এই মন্দিরের বিশেষত্ব। 

আরও পড়ুন- সকাল নাকি বিকেল, সূর্যের আলো থেকে কখন বেশি ভিটামিন ডি মেলে?

এখানকার রীতিনীতি একেবারে আলাদা। এখানে মাংস নেই, মাছ নেই, কিন্তু দেবীর উদ্দেশে রাম বা হুইস্কির নিবেদন রয়েছে! ভক্তদের মধ্যে আলাদা করে ধর্মভেদ নেই। চেং নিজে প্রতি বছর বুদ্ধগয়ায় যান। আবার স্থানীয়দের মতো কালীঘাটে গিয়েও প্রণাম সারেন। এমনকী যিশুকেও নাকি ডাকেন মনে মনে। কলকাতায় চাইনিজ কমিউনিটির অস্তিত্ব আজ কমে গেলেও, এই মন্দির তাদের পরিচয়ের অংশ।

আরও পড়ুন- সকালে হাঁটার আগে শুধু খেয়ে নিন এই জিনিসটা, বড়সড় রোগভোগ থেকে বেঁচে যাবেন

যাঁরা বিদেশে চলে গিয়েছেন, তাঁরাও উৎসবের সময় ফিরে আসেন। কারও কারও মতে, মন্দিরটি ৬০, ৭০ অথবা ৮০ বছরেরও বেশি পুরোনো। প্রতিষ্ঠাতার নাম বা সঠিক সময় জানা যায় না। ভক্তদের ভিড় থাকে। এই মন্দির শুধু ধর্মস্থল নয়, একটি সাংস্কৃতিক স্মৃতি।  

Temple Kali