Cholesterol-Lowering Foods: কোলেস্টেরল কমাতে চান? হৃদরোগ রুখতে খান এই ১০ খাবার!

Cholesterol-Lowering Foods: কোলেস্টেরল কমাতে কোন খাবার সবচেয়ে কাজের? জেনে নিন ১০টি হৃদরোগ-প্রতিরোধী খাবারের নাম কী। কীভাবেই বা এগুলো হৃদয়কে সুস্থ রাখে?

Cholesterol-Lowering Foods: কোলেস্টেরল কমাতে কোন খাবার সবচেয়ে কাজের? জেনে নিন ১০টি হৃদরোগ-প্রতিরোধী খাবারের নাম কী। কীভাবেই বা এগুলো হৃদয়কে সুস্থ রাখে?

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Cholesterol-Lowering Foods: কোলেস্টেরল হ্রাসকারী খাবার।

Cholesterol-Lowering Foods: কোলেস্টেরল হ্রাসকারী খাবার।

Cholesterol-Lowering Foods: মানুষের শরীরে কোলেস্টেরল একটি প্রয়োজনীয় উপাদান হলেও অতিরিক্ত মাত্রায় থাকলে এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে এলডিএল বা 'খারাপ' কোলেস্টেরল বেশি থাকলে ধীরে ধীরে রক্তনালির ভিতরে প্লাক জমতে থাকে এবং হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। ফলাফল হিসেবে বৃদ্ধি পায় হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং ধমনীতে ব্লক হওয়ার ঝুঁকি। তাই কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনযাপনের অত্যন্ত জরুরি অংশ। আর এই নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর উপায় হল সঠিক খাবার গ্রহণ। প্রতিদিনের প্লেটে কিছু নির্দিষ্ট পুষ্টিকর খাবার যোগ করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শরীর স্বাভাবিকভাবে কোলেস্টেরল কমাতে শুরু করে।

Advertisment

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

ওটসের মত গোটা শস্যে থাকে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার, যা সরাসরি রক্তে থাকা এলডিএল কোলেস্টেরল ধরে ফেলে এবং শরীর থেকে বের করে দেয়। সকালের টিফিনে একবাটি গরম ওটমিল, সঙ্গে ফল বা বাদাম মেশালে শরীর দিনের শুরুতেই একটি কোলেস্টেরল-সহায়ক জ্বালানি পায়। বাদামের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট হৃদয়ের জন্য অত্যন্ত উপকারী। প্রতিদিন মাত্র একমুঠো বাদাম—বিশেষ করে আখরোট, আমন্ড অথবা চিয়া বীজ—হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। এগুলিতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে জমে থাকা খারাপ চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে এবং শরীরকে একটি স্থিতিশীল এনার্জি দেয়।

আরও পড়ুন- কলকাতা থেকে কুরুক্ষেত্র! সহজেই ঘুরে আসুন মহাভারতের যুদ্ধস্থল থেকে

Advertisment

ফ্যাটি ফিশ যেমন স্যামন, ম্যাকেরেল বা সার্ডিন, এগুলির ওমেগা-৩ শরীরের প্রদাহ কমায় এবং রক্তের এইচডিএল বা 'ভালো' কোলেস্টেরল বাড়ায়। সপ্তাহে দু’বার এই মাছ খেলে হৃদয়ের পেশীগুলি আরও শক্তিশালী হয় এবং রক্তপ্রবাহ সুস্থ থাকে। অন্যদিকে শিমজাতীয় খাবার যেমন মসুর ডাল, রাজমা, ছোলা—এগুলো পেট ভরায়, ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তে কোলেস্টেরল কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা ফাইবার ও প্ল্যান্ট প্রোটিন শরীরকে দীর্ঘ সময় শক্তি দেয়, কিন্তু কোনও ক্ষতিকর চর্বি বাড়ায় না।

আরও পড়ুন- এই কায়দায় সহজে ঘরেই বানান নলেন গুড়ের কেক, শীতের আমেজ নিন চেটেপুটে!

সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি যেমন পালং শাক, কেল, মেথি বা সুইস চার্ড হৃদরোগ-প্রতিরোধী খাবারের তালিকায় এক অনন্য সংযোজন। এগুলোতে থাকে প্রচুর ভিটামিন কে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার—যা ধমনিকে পরিষ্কার রাখে, রক্তনালিকে মজবুত করে এবং শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাবারের মধ্যে আধা কাপ সবুজ শাক থাকলে রক্তচাপও স্বাভাবিক থাকে।

আরও পড়ুন- দামি ক্রিম না, কোরিয়ানদের মত উজ্জ্বল ত্বক পেতে কাজে লাগান স্রেফ একমুঠো চাল

অ্যাভোকাডো আজকাল অনেকের ডায়েটে থাকছে এবং তার প্রধান কারণ এর মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট। অ্যাভোকাডো বিশেষত এলডিএল কমায় এবং এইচডিএল বাড়ায়, যা হৃদপিণ্ডের পক্ষে একটি অত্যন্ত পজিটিভ সমন্বয়। ঘন অ্যাভোকাডোর পেস্ট রুটির ওপরে মাখিয়ে খাওয়া বা স্যালাডে কিউব করে মেশানো—সবই কোলেস্টেরল কমানোর দারুণ উপায়।

আরও পড়ুন- বিরাট উপকারিতা, এইসব কারণে ব্ল্যাক টি পান করা উচিত প্রতিদিন

রসুনের মতো সাধারণ একটি উপাদানও কোলেস্টেরল কমানোর ক্ষেত্রে আশ্চর্য ফলদায়ক। তাজা রসুনে থাকে অ্যালিসিন, যা রক্তপ্রবাহ উন্নত করে এবং শরীরে জমে থাকা খারাপ চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে। প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে অল্প রসুন যোগ করলে কয়েক সপ্তাহেই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

আরও পড়ুন- মাত্র ৭ দিনের মধ্যে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে পারে এই ২৫ খাবার

জলপাই তেল, বিশেষ করে একস্ট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল (extra virgin olive oil), ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যতালিকার সেরা অংশগুলির একটি। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এলডিএল কমায় এবং হৃদপিণ্ডকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা দেয়। রান্নায় সাধারণ তেলের বদলে জলপাই তেল ব্যবহার করলে স্বাদও বাড়ে এবং স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।

ফলমূল, বিশেষত বেরি জাতীয় ফল যেমন ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি বা রাস্পবেরি—এগুলোতে পলিফেনল থাকে, যা শরীরের ভেতরের ক্ষতিকর ফ্রি ব়্যাডিক্যাল কমায় এবং এলডিএল নিয়ন্ত্রণে রাখে। দিনে এককাপ বেরি খাওয়া বা দই-এর সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া হৃদয়ের জন্য একটি নিখুঁত উপহার।

সবশেষে বলা যায়, কোলেস্টেরল কমাতে ডায়েটের ভূমিকা অপরিসীম। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে, চিনি-ভাজা-তেল কম খেলে এবং সক্রিয় জীবনযাপন বজায় রাখলে হৃদপিণ্ড বছরের পর বছর সুস্থ থাকে। খাবারের পরিবর্তনের সঙ্গে যদি নিয়মিত হাঁটা, পর্যাপ্ত জলপান এবং পর্যাপ্ত ঘুম যোগ করা যায়, তবে হৃদয়ের স্বাস্থ্য অনেকটাই সুরক্ষিত থাকে।

foods cholesterol