Cold Myth Busting: ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা জল খেয়ে সর্দি লেগেছে! শুনে হেসে ওড়ালেন চিকিৎসক, কিন্তু কেন?

Cold Myth Busting: ঠান্ডা জল, এসি বা ফ্রিজের জন্য সর্দি হয়। এমন ধারণা প্রচলিত আছে। কিন্তু, চিকিৎসকদের মতে ধারণাটা আসলে ভুল। জানুন, তাঁরা কী বলছেন।

Cold Myth Busting: ঠান্ডা জল, এসি বা ফ্রিজের জন্য সর্দি হয়। এমন ধারণা প্রচলিত আছে। কিন্তু, চিকিৎসকদের মতে ধারণাটা আসলে ভুল। জানুন, তাঁরা কী বলছেন।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Cold Myth: কীভাবে ঠান্ডা লাগে, তা নিয়ে নানা জনের নানা মত রয়েছে।

Cold Myth: কীভাবে ঠান্ডা লাগে, তা নিয়ে নানা জনের নানা মত রয়েছে।

Cold Myth Busting: ঠান্ডা জল, ফ্রিজের জল বা এসিতে বসলে সর্দি হয়—এটা অনেকেরই ধারণা। বিশেষ করে বর্ষা বা শীতের সময় অনেক পরিবারে ঠান্ডা জল খাওয়া নিষেধ। এই সময় বাচ্চাদের আইসক্রিম এড়াতে বলা হয়, কিংবা দুপুরে ঠান্ডা ঘরে বসা নিয়ে প্রবল সতর্কতা দেখানো হয়। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বারবার জানাচ্ছে, এই ধারণা আসলে ভুল। সর্দি কখনও ঠান্ডা জলে বা ঠান্ডা পরিবেশে তৈরি হয় না। সর্দির একমাত্র কারণ হল ভাইরাস, তাপমাত্রা নয়। তাই চিকিৎসকরা খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন—যতই ঠান্ডা কিছু পান করুন বা এসিতে বসুন না কেন, ভাইরাস না থাকলে সর্দি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

Advertisment

কী জানিয়েছেন চিকিৎসকরা?

চিকিৎসক ডা. পূর্ণা প্রজ্ঞা এই প্রসঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে বলেন, 'ঠান্ডা জল থেকে ঠান্ডা লাগে—এটি মিথ। সর্দি একটাই কারণে হয়, ভাইরাসে। তাপমাত্রা কেবল উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে, অসুখ নয়।' তাঁর মতে, ঠান্ডা জল বা ঠান্ডা পরিবেশ গলা সাময়িকভাবে শুষ্ক বা সংবেদনশীল করতে পারে। অনেক সময় ঠান্ডা পানীয় খেলে গলার অস্বস্তি বা হালকা ব্যথা অনুভূত হয়, ফলে মানুষ মনে করেন যে সর্দি ধরে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে সেই অস্বস্তির পেছনে কোনও সংক্রমণ থাকে না। ভাইরাস ছাড়া সর্দি-কাশি কোনও উপসর্গই গড়ে ওঠে সম্ভব না।

আরও পড়ুন- দুপুর ১টা–৩টার সময় শরীর কেন সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, জানাল বিশেষজ্ঞরা

এমনই মত মুম্বাইয়ের ওকহার্ড হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ঋতুজা উগলমুগলের। তিনি বলেন, তাপমাত্রার পরিবর্তনে মানুষের শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখানো খুবই স্বাভাবিক। এসির ঠান্ডা বাতাস নাক বা গলা শুকিয়ে দিতে পারে, ঠান্ডা জল গলায় সামান্য শিরশির ভাব বাড়াতে পারে। কিন্তু এসব পরিবর্তন শরীরে ভাইরাস তৈরি করে না এবং কোনওভাবেই সংক্রমণ ঘটায় না। সর্দির জন্য দায়ী একমাত্র সংক্রমক ভাইরাস—বিশেষ করে রাইনোভাইরাস (Rhinovirus)। অর্থাৎ ঠান্ডা জল, ঠান্ডা বাতাস বা ফ্রিজ কোনওটাই সংক্রমণের উৎস নয়।

আরও পড়ুন- ১২ বছরের আগে স্মার্টফোন দিলে শিশুদের স্বাস্থ্যের সমস্যা বাড়তে পারে, জানাল গবেষণা

অনেকে ভাবেন, শীতকালে বা বর্ষায় সর্দি বেশি কেন হয়? যদি ঠান্ডা আবহাওয়া এতে ভূমিকা না রাখে, তাহলে এই সময়েই অসুখ বাড়ে কেন? চিকিৎসকদের মতে, উত্তরটি খুবই সাধারণ। ঠান্ডা পড়লে মানুষ বাইরে কম বের হন, ঘরের মধ্যে বেশি সময় কাটান। জানালা-দরজা বন্ধ থাকে, সবাই কাছাকাছি বসে থাকেন। এতে বাতাস চলাচল কম হয় এবং ভাইরাস এক শরীর থেকে আরেক শরীরে সহজে ছড়িয়ে পড়ে। একইসঙ্গে শুষ্ক ঠান্ডা বাতাস নাকের ভেতরের আস্তরণকে শুকিয়ে দেয়। শুষ্ক নাক ভাইরাসের প্রবেশ সহজ করে। ফলে শীত বা বর্ষা ভাইরাস-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করে। কিন্তু সেটা সর্দি তৈরির মূল কারণ কখনও নয়।

আরও পড়ুন- শরীরে ফাইবারের অভাব? সংকেত দেয় দেহ, দেখেও বুঝতে পারেন না ৯৯ শতাংশ মানুষ

ঠান্ডা পানীয় বা আইসক্রিম অনেক সময় গলার সংবেদনশীলতার কারণে বাড়তি অস্বস্তি তৈরি করে। যাঁদের সাইনাসের সমস্যা বা গলা সহজেই শুকিয়ে যায়, তাঁদের ক্ষেত্রে ঠান্ডা পদার্থের প্রভাবে গলায় চুলকানি বা কাশি সামান্য বাড়তে পারে। এতে মনে হয় সর্দি লেগে যাচ্ছে। কিন্তু এই অস্বস্তি সংক্রমণ নয়। আর যদি শরীরে আগেই ভাইরাস ঢুকে থাকে, তাহলে ঠান্ডা পরিবেশে উপসর্গ একটু বেশি অনুভূত হতে পারে মাত্র। ভাইরাসের অনুপস্থিতিতে ঠান্ডা পরিবেশ কোনওভাবেই সর্দি তৈরি করতে পারে না।

আরও পড়ুন- তিন মাস ধরে পালন করুন এই ২ রুটিন, মেদ তো কমবেই, বিরাট পরিবর্তন ঘটতে পারে শরীরে!

চিকিৎসকরা বলছেন, সর্দি প্রতিরোধ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল সহজ কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। যেমন— নিয়মিত হাত ধোয়া, বিশেষ করে বাইরে থেকে ফিরে; অযথা মুখ-নাক-চোখে হাত না দেওয়া; যাঁরা হাঁচি বা কাশি দিচ্ছেন তাঁদের থেকে দূরে থাকা; ভিড়ের মধ্যে ভালো বায়ুচলাচল নিশ্চিত করা এবং অসুস্থ অবস্থায় বিশ্রাম নিয়ে শরীরকে সুস্থ হতে সাহায্য করা। এগুলিই বাস্তবিকভাবে সর্দি-কাশির ঝুঁকি কমায়। ঠান্ডা জল বা ঠান্ডা পরিবেশ এড়িয়ে চলা মোটেও কোনও বৈজ্ঞানিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নয়।

শরীর সুস্থ রাখতে ঠান্ডা আবহাওয়ায় উষ্ণ পোশাক পরা, পর্যাপ্ত জলপান করা এবং সঠিক ঘুমোনো খুবই জরুরি। ঠান্ডা ও শুকনো বাতাস অনেক সময় শ্বাসনালিকে একটু সংকুচিত করতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের অ্যাজমা বা সাইনাসের সমস্যা রয়েছে। তাই এই সময় শরীরকে আরামদায়ক রাখা ভালো। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, এটি উপসর্গ কমানোর উপায়—সর্দির কারণ নয়।

চিকিৎসকদের বক্তব্য খুব পরিষ্কার—ঠান্ডা জল, ফ্রিজ বা এসি কোনওকিছুই সর্দির কারণ নয়। সর্দি হয় শুধুমাত্র ভাইরাসের কারণে। তাই ভুল ধারণাকে গুরুত্ব না দিয়ে, বিজ্ঞানসম্মত তথ্যের ওপর নির্ভর করাই উচিত। সঠিক স্বাস্থ্যবিধি, সচেতনতা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা—এই কয়েকটি বিষয়ই আমাদের প্রকৃত অর্থে সর্দি-কাশি থেকে রক্ষা করতে পারে। বরং ঠান্ডা জল বা ঠান্ডা খাবারের ওপর ভিত্তিহীন দোষ চাপানো অযথা ভয় বাড়ায়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, সর্দি প্রতিরোধের আসল উপায় ভাইরাসের সংস্পর্শ কমানো, তাপমাত্রা নয়।

myth cold